ঈদের সকাল। গ্রামের চায়ের দোকানে জমেছে প্রাণখোলা আড্ডা। চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে, আর গল্পের ঝাঁপি খুলে বসেছেন সবাই। এমন সময় রফিক মিয়া তার বন্ধু করিমকে প্রশ্ন করল—
—“কিরে, তুই গরু না ছাগল?”
প্রশ্ন শুনে সবাই হো হো করে হেসে উঠল। করিমও কম যায় না। সে বলল—
—“মানুষ ছিলাম, ঈদের সকালে পশু হয়ে গেলাম নাকি?”
রফিক মিয়া মুচকি হেসে বলল—
—“আরে না! জানতে চাইলাম, কুরবানিতে গরু দিয়েছিস, না ছাগল?”
এরপর শুরু হলো মজার প্রতিযোগিতা। কেউ বলছে, “আমি গরু”, কেউ বলছে, “আমি ছাগল”। মুহূর্তেই চায়ের দোকান হাসির রোলে মুখর হয়ে উঠল।
কিন্তু ঠিক তখনই পাশের বেঞ্চে বসা প্রবীণ শিক্ষক আবদুল হাকিম সাহেব ধীরে ধীরে বললেন—
—“তোমরা হাসছ, ভালো কথা। তবে এই হাসির ভেতরেও একটা গভীর শিক্ষা লুকিয়ে আছে।”
সবাই নীরব হলো।
তিনি বললেন—
—“মানুষ কুরবানিতে গরু বা ছাগল জবাই করে ঠিকই, কিন্তু কুরবানির প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো নিজের ভেতরের পশুত্বকে জবাই করা। অহংকার, লোভ, হিংসা, স্বার্থপরতা, অন্যায়ের প্রতি আসক্তি—এসবই মানুষের অন্তরের পশু। আল্লাহ চান, পশুর রক্তের চেয়ে মানুষের হৃদয়ের তাকওয়া তাঁর কাছে পৌঁছাক।”
কথাগুলো শুনে করিম মৃদু হেসে বলল—
—“তাহলে ‘আপনি গরু না ছাগল?’ প্রশ্নটার আসল অর্থ দাঁড়ায়, আমি আমার ভেতরের কতটুকু পশুত্ব কুরবানি করতে পেরেছি!”
শিক্ষক মাথা নেড়ে সম্মতি দিলেন।
আড্ডার হাসি তখনও থামেনি, কিন্তু সেই হাসির সঙ্গে যোগ হয়েছিল আত্মজিজ্ঞাসার এক নীরব সুর। সবাই যেন মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করছিল—
“আমি গরু না ছাগল—সেটা বড় কথা নয়; আমার ভেতরের পশুটাকে কতটা জবাই করতে পেরেছি, সেটাই আসল কথা।”
ঈদের আনন্দ তখন শুধু উৎসব নয়, হয়ে উঠল আত্মশুদ্ধির এক সুন্দর পাঠ।