*১. অবৈধ প্রার্থীদের তথ্য: অস্বীকারের সুযোগ নেই*:
জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিএনপির অন্তত ৩৯ জন প্রার্থী ঋণখেলাপি এবং কমপক্ষে ২৫ জন প্রার্থী দ্বৈত নাগরিক। প্রচলিত নির্বাচন আইন অনুযায়ী—
ঋণখেলাপি ব্যক্তি সংসদ নির্বাচনে অযোগ্য,
দ্বৈত নাগরিকের প্রার্থী হওয়া আইনসিদ্ধ নয়।
এটি কোনো রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি সরাসরি আইনের বিষয়। ফলে এসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়াই ছিল রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত।
*২. নির্বাচন কমিশনের আত্মসমর্পণ: আইন নয়, চাপের জয়*
অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠন ছাত্রদলের চাপের মুখে পড়ে অভিযুক্ত প্রার্থীদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত হলো—
তারেক রহমানের নাগরিকত্ব সংক্রান্ত আইনি ফয়সালা নিষ্পত্তি না করেই তার মনোনেশনের বৈধতা দেওয়া।
এটি নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে চরম ব্যর্থতা এবং আইনকে পাশ কাটিয়ে রাজনৈতিক শক্তির কাছে আত্মসমর্পণের স্পষ্ট নজির।
*৩. এই নির্বাচন হলে ক্ষতিগ্রস্ত হবে রাষ্ট্র*:
যদি ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকরা নির্বাচিত হন, তাহলে—
সংসদে অর্থ পাচারকারী ও ঋণখেলাপিদের বৈধ প্রবেশ নিশ্চিত হবে,
রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারণ দুর্নীতিবাজদের হাতে বন্দি হবে,
গণতন্ত্র জনগণের চোখে আরও হাস্যকর হয়ে উঠবে।
এটি শুধু একটি নির্বাচনের প্রশ্ন নয়; এটি রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।
*৪. জামায়াত ও এনসিপি: নৈতিক অবস্থান না আপসের রাজনীতি*:
এই বাস্তবতায় জামায়াত ও এনসিপির সামনে একটি স্পষ্ট নৈতিক পরীক্ষা উপস্থিত হয়েছে।
তারা যদি—
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচনে অংশ নেয়,
নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিবাদ না জানায়,
তবে সেই অংশগ্রহণ দুর্নীতিবাজদের রাজনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতার নামান্তর হবে।
নৈতিক দায় শুধু বক্তৃতায় নয়, সিদ্ধান্তে প্রমাণ করতে হয়।
*৫. নীরবতার মূল্য: দায় এড়ানোর সুযোগ নেই*:
রাজনীতিতে নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়—এটি এক ধরনের অবস্থান।
এই পরিস্থিতিতে জামায়াত ও এনসিপি যদি কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয়, তবে—
তারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থানের নৈতিক অধিকার হারাবে,
ভবিষ্যতে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির দায় থেকেও নিজেদের মুক্ত রাখতে পারবে না।
অবৈধ নির্বাচনে অংশগ্রহণ মানেই অবৈধতার অংশীদার হওয়া।
*৬. দুর্নীতিবাজদের নীরব সহযোগিতা*:
জাতির প্রতি দায়বদ্ধতা এখনই প্রমাণের সময়
আজ জামায়াত ও এনসিপির সামনে প্রশ্ন একটাই—
আইনের পক্ষে, না দুর্নীতির পক্ষে?
ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন থেকে সরে আসার ঘোষণা দেওয়াই এখন
নৈতিকভাবে সঠিক,
রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল,
এবং জাতির প্রতি দায়বদ্ধতার একমাত্র গ্রহণযোগ্য প্রমাণ।
এর ব্যতিক্রম হলে ইতিহাস তাদেরকেও চিহ্নিত করবে—
দুর্নীতিবাজদের নীরব সহযোগী হিসেবে।