
নিজস্ব সংবাদদাতা
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সরকারি রায়েন্দা পাইলট হাইস্কুলে প্রধান শিক্ষক পদকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়ম ও বিতর্কের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত শিক্ষক ও রাজনৈতিক নেতা।
জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমলেন্দু হালদা গত ২৭ মে ২০২৬ তারিখে চাকরির মেয়াদ পূর্ণ করে অবসরে যান। সরকারি বিধি অনুযায়ী, নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত যোগ্য ও বিধি অনুযায়ী মনোনীত শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার কথা এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রদান করে থাকে।
স্থানীয় সূত্রের অভিযোগ, বর্তমানে বিদ্যালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন শারীরিক শিক্ষা বিষয়ে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক মোঃ বদিউজ্জামান বাদল। অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি এসএসসি পাস এবং সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রধান শিক্ষক পদের জন্য প্রয়োজনীয় স্নাতক ডিগ্রিধারী নন। এছাড়া, বিদ্যালয়টি সরকারিকরণের সময় সহকারী শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির জন্য বিপিএড (B.P.Ed.) সম্পন্ন করার যে শর্ত ছিল, সেটিও তিনি পূরণ করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও তিনি প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আর্থিক ক্ষমতা লাভের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করে আসছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, একজন বিএনপি নেতার প্রভাব ও তদবিরে তিনি এভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের অভিযোগ, তথ্য গোপন করে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ১০ম গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা গ্রহণ করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মোঃ বদিউজ্জামান বাদলের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চলের স্মারক নং: ৩৭.০২.৪৭০০.০০০.০১.০০১.০১.২৫.৩২২, তারিখ ০৪ মার্চ ২০২৬, উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক নোটিশে কাম্য শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ১০ম গ্রেডে বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়ে তাঁর কাছে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। তবে ওই নোটিশের পর বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য
মোঃ বদিউজ্জামান বাদল তাঁর বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগকে ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষপ্রসূত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, তিনি বিদ্যালয়ের নিয়মিত প্রধান শিক্ষক নন; প্রধান শিক্ষক অবসরে যাওয়ার পর নতুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগ না হওয়ায় জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে সাময়িকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর বিরুদ্ধে অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও দুর্নীতির অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলেও তিনি দাবি করেন।
দুদকে দায়ের করা অভিযোগ সম্পর্কে অবগত থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও মহাপরিচালকের (ডিজি) কার্যালয়ে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতার বক্তব্য
মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত রাজনৈতিক নেতা বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, এটি একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষক নিয়োগ বা প্রশাসনিক বিষয়ে তাঁর কোনো ভূমিকা নেই।
তিনি বলেন, “আমার বিরুদ্ধে কে অভিযোগ করেছেন, সেটি কি বলতে পারবেন? আমি কাউকে নিয়োগ দিইনি এবং শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার কোনো এখতিয়ারও আমার নেই। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা শিক্ষা অধিদপ্তরের।”
তিনি আরও বলেন, “আমার বিরুদ্ধে যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে তা নিয়ে সংবাদপত্রে প্রতিবেদন প্রকাশ করুন। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
(চলবে — পর্ব ১)