জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক এম এ বার্ণিক এক বিবৃতিতে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীর ও শহিদদের জাতীয় স্বীকৃতি দানের দাবি উপেক্ষিত হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান এক অনন্য মাইলফলক। এই আন্দোলনে যে তরুণ-তরুণীরা শহিদ হয়েছেন, যাঁরা রক্ত দিয়ে গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত করেছেন, তাঁদের প্রতি জাতির ঋণ শোধ হওয়ার তো প্রশ্নই আসে না—বরং তাঁদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়া ছিল সময়ের দাবি।
দুঃখজনকভাবে, এক বছর পেরিয়ে গেলেও শহিদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তাঁদের ‘জাতীয় বীর’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের দাবি উপেক্ষিতই রয়ে গেছে। যে অন্তর্বর্তী সরকার এই রক্তাক্ত পথ বেয়ে ক্ষমতায় এসেছে, তারা বরং শহিদদের আত্মত্যাগকে উপেক্ষা করে সময়ক্ষেপণ ও অবহেলার এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এই চরম উদাসীনতা ও জবাবদিহির অভাব জাতিকে গভীরভাবে হতাশ করেছে। শহিদদের পরিবার, আহত বিপ্লবীরা ও ন্যায়বিচারপ্রত্যাশী জনগণ এক নির্মম নীরবতার শিকার।
জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলন এই বিবৃতির মাধ্যমে দৃঢ়ভাবে দাবী জানাচ্ছে:
১. জুলাই শহিদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা অবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
২. শহিদদের ‘জাতীয় বীর’ ঘোষণা ও তাদের পরিবারকে যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও সহায়তা দিতে হবে।
৩. আহত ও কারাবরণকারী বিপ্লবীদের পুনর্বাসন ও চিকিৎসার নিশ্চয়তা দিতে হবে।
৪. সরকারকে এই অবহেলার জন্য জাতির কাছে প্রকাশ্যে জবাবদিহি করতে হবে।
জনগণের রক্তের ঋণ উপেক্ষিত রাখলে ইতিহাস ক্ষমা করবে না।