ঢাকা, ২জুলাই ২০২৫ইং
জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পরও “জাতীয় জুলাই সনদ” প্রণীত না-হওয়াকে, নতুন বাংলাদেশের গঠনের অন্তরায় বলে অভিহিত করেছেন জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক এম এ বার্ণিক। ২ জুলাই এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, নতুন বাংলাদেশ নির্মাণের ভিত্তি রচনায় এ জাতীয় সনদ অনিবার্য। এ সনদের অভাব আগামী প্রজন্মের জন্য বিভ্রান্তিকর রাষ্ট্র কাঠামোর পথ খুলে দেবে।
অধ্যাপক বার্ণিক বিশ্ব ইতিহাসের একাধিক বিপ্লব-পরবর্তী দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, প্রতিটি সফল গণঅভ্যুত্থানের পরই একটি জাতীয় সনদ গৃহীত হয়েছে, যা ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক কাঠামো নির্ধারণ করেছে।
১৭৮৯ সালের French Revolution-এর পর জনগণের অধিকার ও রাষ্ট্র কাঠামোর ভিত্তি রচনায় প্রণীত হয় Declaration of the Rights of Man and of the Citizen, যা আজও আধুনিক গণতন্ত্রের ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
১৯১৭ সালের বলশেভিক বিপ্লবের পর, ১৯১৮ সালে প্রণীত হয় RSFSR Constitution, যা শ্রমিক-কৃষক নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক কাঠামোর রূপরেখা দেয়।
বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনের বিজয়ের পর, ১৯৯৩ সালে গৃহীত হয় Interim Constitution of South Africa, যার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক, সংখ্যালঘুবান্ধব ও বহুসাংস্কৃতিক রাষ্ট্রের ভিত্তি স্থাপন হয়।
রাজতন্ত্র পতনের পর ২০০৭ সালে Interim Constitution of Nepal গৃহীত হয়, যেখানে প্রজাতন্ত্রে রূপান্তরের নীতিকাঠামো নির্ধারণ করা হয়।
আরব বসন্তের পর ২০১৪ সালে গৃহীত হয় Tunisian Constitution, যা নাগরিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের মূল্যবোধ সুরক্ষায় অগ্রণী ভূমিকা রাখে।
এই দৃষ্টান্তগুলোর আলোকে ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক এম এ বার্ণিক বলেন, “বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই রকম একটি জাতীয় জুলাই সনদ থাকা সময়ের দাবি। এটা শুধু একটি নীতি দলিল নয়, বরং রাষ্ট্রের আত্মা ও ভবিষ্যতের ঠিকানা নির্ধারণকারী রূপরেখা।”
নেতৃত্বের দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই
বার্ণিক আরও বলেন, “যারা বৈপ্লবিক গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন এনেছেন, তারাই এই জাতির কাছে সনদ উপহার দেওয়ার নৈতিক দায়িত্বে আবদ্ধ। এটি রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে ‘সমঝোতা সম্মেলন’ নয়—বরং রক্ত দিয়ে পরিবর্তন আনা নেতাদের দায়িত্ব।”
তিনি দাবি করেন, “এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বটি ড. মুহম্মদ ইউনূসের মতো একজন ব্যক্তির ওপর ছেড়ে দেওয়ায় জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে।”
তিনি স্পষ্ট বলেন, “ড. ইউনূস সম্মানীয় ব্যক্তি হলেও, জাতীয় সনদ প্রণয়ন কোনো বিপ্লবের সাথে সম্পর্কহীন ব্যক্তির কাজ নয়।”
অধ্যাপক এম এ বার্ণিক তাঁর বিবৃতির শেষাংশে বলেন—
> “জাতীয় সনদ ছাড়া নতুন বাংলাদেশ শুধু অসম্পূর্ণই নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। এখনই সময়, অবিলম্বে এই সনদ রচনার মাধ্যমে জাতিকে একটি স্বপ্নের ঠিকানা দেওয়া।”
--------------------------