১. ইতিহাস: গৌরবময় সংগ্রামের মঞ্চ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররাজনীতি বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম চালিকাশক্তি। ভাষা আন্দোলন (১৯৫২), ৬-দফা আন্দোলন (১৯৬৬), ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ (১৯৭১) ও ১৯৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে DUCSU-সহ ছাত্রসংগঠনরা নিয়োগ করেছিলেন অসামান্য ভূমিকা ।
আন্দোলনের অন্যতম নাম করুণ ‘রফুন বাসুনিয়া’—তিনি ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৯৮৫-এমো অধিকার চেয়ে আন্দোলনরত অবস্থায় নিহত হন, যা পরবর্তী গণতন্ত্র সংগ্রামকে ত্বরান্বিত করে ।
অতীতে ক্যাম্পাসের মধুর ক্যানটিন ছিল রাজনৈতিক প্রতিভা ও আদর্শের অগ্রদূত—এটি ১৯৪৮-৫২ ভাষা আন্দোলন, ৬৯’র গণঅভ্যুত্থান ও ৭১ Liberation Movement–এ ছাত্রনেতাদের মুক্তমঞ্চ ছিল ।
২. আধুনিক বাস্তবতা: কুফল ও দ্বৈত নীতি
বর্তমানে ছাত্ররাজনীতি ক্লায়েন্টিজম, সহিংসতা, রাজনৈতিক সংঘাত এবং একুশে সকাল হয়ে উঠেছে অস্ফুট । গবেষণায় দেখা গেছে, ডিএমবি হলে রাজনীতির কারণে শিক্ষা ও নিরাপত্তা সংকট, শিক্ষার্থীদের ক্লাসে অনুপস্থিতি ও মানসিক চাপ বেড়েছে ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের “সিন্ডিকেট” ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয় । হালের তথাকথিত “গেস্ট রুম” সংস্কৃতি বন্ধ এবং ১১টি হলে “প্রশাসকদের সই সম্পন্ন” করে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল ।
কিন্তু সাম্প্রতিক ঘটনায়—সরকার পরিবর্তনের পর—জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (JCD) DU শাখা ১৮টি হালে কমিটি ঘোষণা করে নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করেছে । ৯ আগস্ট ভোরের অভিযানে প্রশাসন প্রোক্টর ও ভাইস-চান্সেলরের উপস্থিতিতে হলে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের ঘোষণা দেন ।
৩. দ্বৈত নীতির পারদর্শিতা আর সীমাবদ্ধতা
নিষেধাজ্ঞা শুধু হলে সীমাবদ্ধ থাকলে, ক্যাম্পাসে অন্যত্র রাজনীতির অবসর বাড়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। যেমন, কোথাও নিষিদ্ধ করেও আদর্শগত প্রভাব বন্ধ করা কঠিন।
একজন বিশ্লেষকের মতে, “যদি এটি জোর করে নিষিদ্ধ করা হয়, তাহলে এর মধ্যে আর কী পার্থক্য থাকে একটি সাংঘাতিক সরকার ও এই সরকারের মাঝে?”—সমাধান রাজনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে খুঁজে নিতে হবে ।
যেখানে ইতিহাস গড়ার জায়গা ছাত্ররাজনীতি, সেখানে একদিকে গৌরবময় স্মৃতি—অন্যদিকে আধুনিক বাস্তবতায় তার ‘দ্বৈত নীতি’—এই দ্বন্দ্ব মোহময়।
৪. উপসংহার: বন্ধন বা বিভাজন?
প্রশাসন যদি সত্যিকার অর্থে শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার কথা ভাবেন, তাহলে যে সিদ্ধান্তটি নেওয়া হচ্ছে তা সমগ্র বিশ্ববিদ্যালয় ভিত্তিক ও দীর্ঘমেয়াদি হওয়া বাঞ্ছনীয়—শুধু হলে নয়, সারাদেশের ছাত্ররাজনীতির দৃষ্টিভঙ্গি পুনর্বিন্যাস করা প্রয়োজন। ইতিহাসের গৌরব স্মৃতির সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতাকেও মেলাতে হবে—যাতে আবাসিক হল শান্ত, নিরাপদ ও শিক্ষাকেন্দ্রিক হয়ে ওঠে।
---------৷। ----------