ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাধিকার গণতান্ত্রিক আন্দোলন সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আগ্রনী ভূমিকা এবং সূতিকাগার।
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষার সবচেয়ে প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় এটি এক সময় প্র্যাচের অক্সফোট খেত এর রাজনৈতিক অর্জন-অবদান অবশ্বরনিয় , নেতা তৈরির আঁতুড় ঘর বলা হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদকে (ডাকসু)। ডান, বাম, মধ্যপন্থী, ডানপন্থী, সব দলেই ডাকসুর সাবেক নেতাদের সক্রিয়-সগৌরব অংশগ্রহণ রয়েছে।
১০৪ বছর বয়সী দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংসদ তথা ডাকসু নির্বাচন হয়েছে মোট ৩৭ বার। এর মধ্যে ২৯ বার অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে স্বাধীনতার ৫৩ বছরে হয়েছে মাত্র ৮ বার। অথচ ১৯৭৩ সালের বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতি বছর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা।
বার্তমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের চূড়ান্ত ভোটার সংখ্যা ৩৯,৭৭৫ জন, যা ১১ আগস্ট ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত ।
এর মধ্যে:ছাত্র ভোটার: ২০,৮৭৩ জন, ছাত্রী ভোটার: ১৮,৯০২ জন ।
ডাকসু নির্বাচন-সংখ্যাঃ
মোট নির্বাচনের সংখ্যা: ৩৭টি (১৯২৪–২০১৯ পর্যন্ত) ব্রিটিশ ও পাকিস্তান আমলে: ২৯টি
স্বাধীনতার পর: ৮টি।
এবার আগামী ৯ সেপ্টেম্বর ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের দিন নির্ধারিত ছিল। এবার ডাকসুর ২৮টি পদের বিপরীতে মোট ৪৭১ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে নারী প্রার্থী ৬২ জন। আর সদস্যপদে সবচেয়ে বেশি ২১৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আর ১৮টি হলে ১৩টি পদে মোট ১ হাজার ৩৫ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
এবারের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল, ইসলামী ছাত্রশিবির ও গণতান্ত্রিক ছাত্রসংসদ আলাদা প্যানেল দিয়েছে। বামপন্থী ছাত্রসংগঠনগুলো দুটি প্যানেলে নির্বাচন করছে। পূর্ণ ও আংশিক মিলিয়ে প্যানেল ১০টির মতো।
সাংক্ষিপ্ত ইতিহাস ডাকসুঃ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ঢাকসু) প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২২ সালে, কিন্তু এর সরাসরি নির্বাচন হয়েছে খুবই সীমিত সংখ্যক বার।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী— ১৯৬০এর দশক থেকে নিয়মিতভাবে ডাকসু নির্বাচন শুরু হয়।
মুক্তিযুদ্ধের আগে কয়েক দফা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলেও ।
স্বাধীনতার পর সর্বশেষ সাধারণ ছাত্রদের ভোটে ডাকসু নির্বাচন হয়েছিল ১৯৯০ সালে।
দীর্ঘ ২৮ বছর বিরতির পর পুনরায় ২০১৯ সালের ১১ মার্চ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এবং সর্বশেষ (ঘোষিত) ডাকসু নির্বাচন হতে হচ্ছে ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর। এখন পর্যন্ত মোট ৮ বার ডাকসু নির্বাচন হয়েছে (১৯৬০ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সরকারি স্বীকৃত হিসেবে গণনা করা হয়)।
ডাকসু নির্বাচনের ইতিহাস (সনভিত্তিক)।
১৯৬২ – প্রথম নির্বাচিত ডাকসু, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭৯,১৯৮৫,১৯৮৯,১৯৯০ সর্বশেষ নির্বাচন হয়। এরপর দীর্ঘ বিরতি পর – ২৮ বছর পর ১১ মার্চ ২০১৯ ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবার ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ইং আসন্ন সর্বশেষ ঘোষণা করে।
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী ১৯৬২ থেকে ১৯৯০ পর্যন্ত মোট ৭ বার নিয়মিত ডাকসু নির্বাচন হয়েছে। এরপর ২০১৯ সালে ৮ বার এবং ২০২৫ সালে—মোট ৯ম বার মত ডাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়র ঘোষিত হলো।
নিচে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (DUCSU বা ডাকসু) নির্বাচনের সাল ভিত্তিক তালিকা দেওয়া হলো।
ডাকসু নির্বাচনের সাল ও নেতৃস্থানীয় পদে নির্বাচিতরা
মুক্তিযুদ্ধের পর থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের সময় (১৯৭১– বর্তমান)
১৯৭২ – ৭৩: ভাইস-প্রেসিডেন্ট (VP): মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম (Chhatra Union)
জেনারেল সেক্রেটারি (GS): মাহবুব জমান (Chhatra Union)
১৯৭৯–৯০ (মোট পাঁচটি নির্বাচন):
DU র পরবর্তী দু’দশকে পাঁচটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন সময় নিচের তালিকার ছাত্রনেতারা নির্বাচিত হন: VP: মাহমুদুর রহমান মান্না (JaSaD Chhatra League) — দুবার
VP: আখতারুজ্জামান (BASAD Chhatra League) — একবার
VP: সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ (Chhatra League) — একবার
VP: আমানুল্লাহ আমান (Chhatra Dal) — একবার
GS: আখতারুজ্জামান — দুবার
GS: জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু (BASAD), মু্শতাক হোসেন (JaSaD), খায়রুল কবির খোকন (Chhatra Dal) — প্রত্যেকে একবার
১৯৯০–২০১৯: দীর্ঘ ২৮ বছর কোনো কেন্দ্রীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ২০১৯ (১১ মার্চ): VP: নুরুল হক নূর,
বাংলাদেশ সাধারন ছাত্র অধিকার সংরক্ষন পরিষদের ব্যানারে জিএস পদে গোলাম রাব্বানি, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ থেকে সহকারী জিএস: সাদ্দাম হুসেইন (বাংলাদেশ ছাত্রলীগ) থেকে
২০২৫ (৯ সেপ্টেম্বর): নির্বাচন ঘোষণা হয়েছে এতে
২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৫টি পদের বিপরীতে ভোট দিয়েছিলেন ভোটাররা। তবে এবার পদসংখ্যা বেড়েছে। এ বছর মোট ২৮টি পদের বিপরীতে লড়বেন প্রার্থীরা। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অন্য একজন শিক্ষক ডাকসুর সভাপতি ও কোষাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে সহ-সভাপতি (ভিপি) ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদটি সবচেয়ে আলোচিত। বলা হয়ে থাকে, ডাকসুর ভিপি-জিএসরা আগামীতে দেশের জাতীয় রাজনীতিতে নেতৃত্বে দিয়ে থাকেন। সর্বশেষ ডাকসু ভিপি নুরুল হক নুরও এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন। রাজনৈতিক দল গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি তিনি।
পাকিস্তান আমল:
১৯৫৩ - ৫৪ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন এস এ বারী এবং জিএস হন জুলমত আলী খান (ভারপ্রাপ্ত ফরিদ আহমেদ); ১৯৫৪ - ৫৫ ও ১৯৫৫ - ৫৬ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন নিরোদ বিহারী নাগ এবং জিএস আব্দুর রব চৌধুরী; ১৯৫৬ - ৫৭ শিক্ষাবর্ষে ভিপি একরামুল হক এবং জিএস শাহ আলী হোসেন; ১৯৫৭ - ৫৮ শিক্ষাবর্ষে ভিপি বদরুল আলম এবং জিএস ফজলী হোসেন; ১৯৫৮ - ৫৯ শিক্ষাবর্ষে ভিপি আবুল হোসেন এবং জিএস এ টি এম মেহেদী; ১৯৫৯ - ৬০ শিক্ষাবর্ষে ভিপি আমিনুল ইসলাম তুলা এবং জিএস আশরাফ উদ্দিন মকবুল; ১৯৬০ - ৬১ শিক্ষাবর্ষে ভিপি বেগম জাহানারা আক্তার এবং জিএস হন অমূল্য কুমার।
১৯৬১-৬২ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন এস এম রফিকুল হক এবং জিএস এনায়েতুর রহমান; ১৯৬২ - ৬৩ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন শ্যামাপ্রসাদ ঘোষ এবং জিএস কে এম ওবায়েদুর রহমান; ১৯৬৩-৬৪ শিক্ষাবর্ষে ভিপি রাশেদ খান মেনন এবং জিএস মতিয়া চৌধুরী; ১৯৬৪ - ৬৫ শিক্ষাবর্ষে ভিপি বোরহানউদ্দিন এবং জিএস আসাফউদ্দৌলা; ১৯৬৬ - ৬৭ শিক্ষাবর্ষে ভিপি ফেরদৌস আহমেদ কোরেশী এবং জিএস শফি আহমেদ; ১৯৬৭ - ৬৮ শিক্ষাবর্ষে ভিপি মাহফুজা খানম এবং জিএস মোরশেদ আলী; ১৯৬৮ - ৬৯ শিক্ষাবর্ষে ভিপি তোফায়েল আহমেদ এবং জিএস নাজিম কামরান চৌধুরী; সর্বশেষ ১৯৭০ - ৭১ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন আ স ম আবদুর রব এবং জিএস হন আব্দুল কুদ্দুস মাখন।
ব্রিটিশ আমলে ডাকসুর ভিপি-জিএস:
১৯২১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর ১৯২২ - ২৩ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সৃষ্টি হয়। ডাকসুর প্রথম ভিপি ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন যথাক্রমে মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ও যোগেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। এক বছর মেয়াদকালের জন্য নির্বাচিত কমিটিগুলোর সিংহভাগই নির্ধারিত সময়সীমার বেশি সময় দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৫ - ২৬ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন মমতাজ উদ্দিন আহমেদ। জিএস হন এ কে মুখার্জি (ভারপ্রাপ্ত এ বি রুদ্র); ১৯২৮ - ২৯ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন এএম আজহারুল ইসলাম এবং জিএস এস চক্রবর্তী।
১৯২৯ - ৩২ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন রমণী কান্ত ভট্টাচার্য এবং যৌথভাবে জিএস হন কাজী রহমত আলী ও আতাউর রহমান। ১৯৩২ - ৩৩ ও ১৯৩৩ - ৩৪ শিক্ষাবর্ষে জিএস হন ভবেশ চক্রবর্তী; ১৯৩৫ - ৩৬ ও ১৯৩৬ - ৩৭ শিক্ষাবর্ষে এ এইচ এম এ কাদের; ১৯৩৮ - ৩৯ শিক্ষাবর্ষে আব্দুল আওয়াল খান; ১৯৪১ - ৪২ শিক্ষাবর্ষে জিএস হন আব্দুর রহিম।
১৯৪৫ - ৪৬ শিক্ষাবর্ষে ভিপি হন আহমদুল কবির (ভারপ্রাপ্ত ফরিদ আহমেদ) এবং জিএস হন সুধীর দত্ত। ১৯৪৬ - ৪৭ শিক্ষাবর্ষে ভিপি ফরিদ আহমেদ এবং জিএস সুধীর দত্ত; ১৯৪৭ - ৪৮ শিক্ষাবর্ষে ভিপি অরবিন্দ বোস এবং জিএস হন গোলাম আযম (জামায়াত ইসলামী নেতা)।
---- ডাঃ আল হাসান মোবারক