
ইব্রাহীম খলিল, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া):
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার লাউর ফতেহপুর ইউনিয়নের বাড়িখলা গ্রামে ব্রি উদ্ভাবিত নতুন জাত ব্রি ধান-১০৩ এর বাম্পার ফলন কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বুধবার দুপুরে পার্টনার প্রকল্পের আওতায় শতাধিক কৃষকের উপস্থিতিতে নমুনা শস্য কর্তন ও মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
চলতি আমন মৌসুমে উপজেলায় বিভিন্ন ব্লকে এক একর করে মোট ৪০ একর জমিতে ব্রি ধান-১০৩ এর প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। প্রতিটি প্লটেই সফলভাবে ধানের ফলন পাওয়া গেছে। লাউর ফতেহপুরের কৃষক নিজের এক একর জমিতে এ জাতের ধান চাষ করেন। ২০ বর্গমিটার জমির শুকনা (১৪% আর্দ্রতা) শস্য কর্তনে পাওয়া গেছে ১২ কেজি ধান, যা হেক্টরপ্রতি ফলন দাঁড়ায় ৬.১ টন।
এমন আশানুরূপ ফলনে প্রদর্শনী কৃষকসহ উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মুখে দেখা যায় তৃপ্তির হাসি। তারা জানান, আগামী মৌসুমে আরও বেশি পরিমাণ জমিতে ব্রি ধান-১০৩ চাষ করতে আগ্রহী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. শিলা প্রামাণিক, প্রিন্সিপাল সায়েন্টিফিক অফিসার, ব্রি আঞ্চলিক কার্যালয়, কুমিল্লা। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত মাঠ দিবসে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক ড. মোস্তফা এমরান হোসেন। তিনি বলেন, "চলতি আমন মৌসুমে ব্রিধান-১০৩ এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সেরা জাত। উৎপাদন বেশি, চালের গুণগত মানও উন্নত। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাজুড়ে এ জাতের আবাদ ধীরে ধীরে বাড়ছে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নবীনগর প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ হোসেন শান্তি। কী নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন ব্রি কুমিল্লার উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মামুনুর রশীদ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা শাহআলম মজুমদার, উপসহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা পরিমল চন্দ্র দত্ত, ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় কৃষকবৃন্দ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে উপজেলার বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় মোট ৬৫ হেক্টর জমিতে ব্রিধান-১০৩ আবাদ হয়েছে। আগামী মৌসুমে লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০০ হেক্টর। সেই লক্ষ্যে কৃষক পর্যায়ে মানসম্মত বীজ সংরক্ষণের প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।