একটু কল্পনা করুন, ঘরে ফিরে স্বামী বললেন, ‘আজ খুব ক্লান্ত, এক কাপ চা দেবে?’ রোবট বউ মিষ্টি হেসে উত্তর দিল, ‘অবশ্যই প্রিয়তম! চিনি কম দেব, নাকি বেশি?’ কোনো অভিযোগ নেই, অভিমান নেই, ঝগড়া নেই, এমনকি পুরোনো ভুলের হিসাবও নেই! বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এমন দৃশ্য আর নিছক কল্পবিজ্ঞানের গল্প নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও মানবসদৃশ রোবট প্রযুক্তি মানুষের সঙ্গী হওয়ার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
**চীন থেকে শুরু নতুন আলোচনা**
চীনের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো ইতোমধ্যে মানুষের মতো দেখতে, কথা বলতে এবং মুখের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে সক্ষম AI-চালিত রোবট তৈরি করছে। এসব রোবট মানুষের আবেগ শনাক্ত করে কথোপকথনে সাড়া দিতে পারে। কোনো কোনো মডেলের দাম লাখ ডলারেরও বেশি। ফলে ভবিষ্যতের ‘রোবট বউ’ শুধু প্রযুক্তির বিস্ময় নয়, ধনীদের জন্য ব্যয়বহুল সঙ্গী হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করছে।
**রোবট বউয়ের কাছে সংসারের প্রত্যাশা!**
রোবট বউয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হতে পারে তার নিরবচ্ছিন্ন মনোযোগ। আপনি কথা বললে শুনবে, মন খারাপ হলে সান্ত্বনা দেবে, জন্মদিন মনে রাখবে, এমনকি আপনার পছন্দ অনুযায়ী কথাও বলবে। স্বামী-স্ত্রীর চিরাচরিত অভিমান কিংবা ছোটখাটো ঝগড়ার ঝামেলাও হয়তো থাকবে না!
কিন্তু সংসার কি শুধু অভিযোগহীন জীবন? স্ত্রী যখন স্বামীর অসুস্থতায় রাত জেগে সেবা করেন, সন্তানকে বুকে আগলে রাখেন, পরিবারের সুখের জন্য নিজের ইচ্ছাকে বিসর্জন দেন—এসব কি কেবল প্রযুক্তির মাধ্যমে অনুকরণ করা সম্ভব?
**বাংলাদেশের পারিবারিক জীবনে নতুন প্রশ্ন**
ভাবুন, কোনো ব্যক্তি কয়েক কোটি টাকা খরচ করে রোবট বউ কিনে বাড়িতে নিয়ে এলেন। আত্মীয়স্বজন দেখতে এসে বললেন, ‘ভাবি, কেমন আছেন?’ রোবট উত্তর দিল, ‘ধন্যবাদ, আমি ভালো আছি।’ দৃশ্যটি হাস্যকর হলেও এর পেছনে রয়েছে গভীর সামাজিক প্রশ্ন।
রোবট কি সত্যিকার অর্থে ভালোবাসতে পারে? তার কি নিজস্ব অনুভূতি আছে? সে কি একজন মায়ের মমতা, স্ত্রীর আত্মত্যাগ কিংবা সন্তানের প্রতি পিতামাতার দায়িত্ব অনুভব করতে পারে? বর্তমান প্রযুক্তি এসব প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর দিতে পারেনি।
অন্যদিকে, ব্যক্তিগত কথোপকথন, পারিবারিক তথ্য ও গোপনীয়তা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
**প্রযুক্তি এগিয়ে যাক, পরিবার বেঁচে থাকুক**
রোবট মানুষের নিঃসঙ্গতা কমাতে, বয়স্কদের সঙ্গ দিতে এবং দৈনন্দিন কাজে সহায়তা করতে পারে। কিন্তু মানুষের পারিবারিক সম্পর্কের বিকল্প হয়ে ওঠা তার জন্য সহজ নয়।
কারণ, সংসার কেবল একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; সংসার হলো ভালোবাসা, অভিমান, ক্ষমা, দায়িত্ব, ত্যাগ ও পারস্পরিক নির্ভরতার এক মানবিক বন্ধন। স্ত্রীর একটুখানি অভিমান, স্বামীর নীরব যত্ন, সন্তানের হাসি কিংবা পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে খাবার খাওয়ার আনন্দ—এসবের মধ্যেই জীবনের প্রকৃত সৌন্দর্য।
শেষে একটি মজার প্রশ্ন: কোনো স্বামী যদি স্ত্রীকে বলেন, ‘তোমার চেয়ে রোবট বউ ভালো’, স্ত্রী হয়তো হেসে বলবেন, ‘তাহলে কিনে আনো, তবে বিদ্যুৎ বিল আর সার্ভিস চার্জ তোমাকেই দিতে হবে!’
প্রযুক্তি আমাদের জীবনকে সহজ করুক, কিন্তু মানুষের হৃদয় থেকে পারিবারিক ভালোবাসা কেড়ে না নিক। **রোবট হয়তো সঙ্গ দিতে পারবে, কিন্তু পরিবারের মায়া-মমতার বিকল্প হতে পারবে কি?**