
স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের তৈরি পোশাকশিল্পে চলমান শ্রমিক আন্দোলন ও অস্থিরতার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ। শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তা করার অভিযোগকে ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। একই সঙ্গে চলমান অস্থিরতার কারণে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক ও বাণিজ্যিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে বলে জানিয়েছে গ্রুপ কর্তৃপক্ষ।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পোশাকশিল্পে শ্রমিক আন্দোলনে অর্থায়ন ও জনবল দিয়ে সহায়তাকারী সন্দেহভাজন প্রতিষ্ঠানের তালিকায় স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের নাম উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অভিযোগের প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের দাবি, শ্রমিক আন্দোলন ও শিল্পাঞ্চলে চলমান অস্থিরতার কারণে তাদের স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পোশাকের চালান সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাণিজ্যিক চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ছে।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ১৯৮৩ সালে করপোরেট কার্যক্রমের আওতায় পোশাক ও অ্যাপারেল উৎপাদনের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপ। বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের বিকাশ ও সম্প্রসারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এটি দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় রপ্তানিমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান।
গ্রুপ কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা ও অধিকার নিশ্চিত করার বিষয়ে সচেষ্ট রয়েছে। প্রচলিত আইন, বিধিবিধান এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করেই তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
এ ছাড়া নিয়মিতভাবে সরকারি কোষাগারে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব জমা দেওয়ার পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখে আসছে প্রতিষ্ঠানটি। শিল্পপ্রতিষ্ঠানটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কার্যক্রমের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান ও জীবন-জীবিকা জড়িত।
স্ট্যান্ডার্ড গ্রুপের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে পোশাকশিল্পে অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আয়, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, কর্মসংস্থান এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিল্পকারখানার উৎপাদন ও সরবরাহ কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখা এবং শিল্পের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি।
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পোশাকশিল্পের স্বার্থে দায়িত্বশীল পরিবেশ বজায় রাখা এবং যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে।