মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ভূমি মন্ত্রণালয়ের পিয়ন হারুনের ‘শতকোটি টাকার সাম্রাজ্য’ নিজস্ব প্রতিবেদন মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত

জুলাই সনদের আলোকে সংসদের প্রথম অধিবেশনেই সংবিধান যুদ্ধের বিকল্প প্রস্তুতি —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১১৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৮ অপরাহ্ন

বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে একটি ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। জুলাই সনদের আলোকে যারা Constituent Assembly–এর সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন, তারা যদি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার পরপরই সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি পৃথক অধিবেশন আহ্বান করেন, তাহলে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে, যদি এই প্রক্রিয়াটি সাংবিধানিক ও সংসদীয় বিধির আলোকে এগিয়ে নেওয়া হয় এবং ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়, তাহলে তা সরকারি দলের জন্য একটি কঠিন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি করতে পারে।
সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী, সংসদ সদস্যরা যখন একটি গণভিত্তিক রাজনৈতিক ম্যান্ডেটের ভিত্তিতে ক্ষমতায় আসেন, তখন তাদের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব হয় রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। জুলাই সনদের প্রেক্ষাপটে গঠিত রাজনৈতিক চেতনা যদি সংসদের ভেতরে সাংবিধানিক সংস্কারের একটি শক্তিশালী উদ্যোগে রূপ নেয়, তাহলে সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই সংবিধান প্রণয়ন বা পুনর্লিখনের প্রশ্নটি জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসতে পারে।
এক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত দিক হলো—Constituent Assembly হিসেবে শপথ নেওয়া সদস্যরা যদি সংসদের সাধারণ কার্যসূচি থেকে আলাদা করে সংবিধান প্রণয়নের জন্য একটি বিশেষ অধিবেশন আহ্বান করেন, তাহলে তা সাংবিধানিকভাবে একটি পৃথক আইনপ্রণয়ন প্রক্রিয়ায় পরিণত হতে পারে। এই প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট সময়সীমা—যেমন ১৮০ কার্যদিবস—নির্ধারণ করা হলে তা দ্রুততার সঙ্গে একটি পূর্ণাঙ্গ সংবিধান খসড়া প্রণয়নের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকারি দলের জন্য রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণ সহজ নাও হতে পারে। কারণ, যদি সংসদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নেয় এবং তা সংসদীয় বিধি অনুযায়ী বৈধভাবে পরিচালিত হয়, তাহলে সরকারপক্ষের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে তা প্রতিরোধ করার কার্যকর উপায় সীমিত হয়ে যেতে পারে। ফলে সংসদের ভেতরে একটি নতুন ধরনের সাংবিধানিক বিতর্ক ও রাজনৈতিক টানাপোড়েন সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে।
বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে এ ধরনের পরিস্থিতি খুব কমই দেখা গেছে। সাধারণত সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখনের উদ্যোগ আসে সরকারপক্ষ থেকেই। কিন্তু যদি সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই একটি শক্তিশালী সাংবিধানিক পুনর্গঠনের উদ্যোগ শুরু হয়, তাহলে তা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন থেকেই যদি সংবিধান প্রণয়নের জন্য আলাদা অধিবেশন শুরু হয় এবং নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন সংবিধান প্রণয়নের উদ্যোগ বাস্তব রূপ পায়, তাহলে বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়াতে পারে। এই প্রক্রিয়া সফল হলে তা শুধু একটি নতুন সংবিধানই নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামো ও রাজনৈতিক ভারসাম্যেরও নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]