শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩০ পূর্বাহ্ন
আবু রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার-
চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি প্রভাবশালী ব্যক্তিদের দুর্নীতি উন্মোচন করতে গিয়ে জীবনঝুঁকিতে পড়ছেন দেশের সাংবাদিকরা। সত্য প্রকাশে পদে পদে বাধা, প্রাণনাশের হুমকি, এমনকি হত্যাকাণ্ডও বেড়েই চলেছে। পুলিশ বা সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির প্রতিবেদন প্রকাশের পর সাংবাদিকদের তলব ও হয়রানি করা হচ্ছে।
গত বৃহস্পতিবার রাতে গাজীপুরে দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ-এর স্টাফ রিপোর্টার আসাদুজ্জামান তুহিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করা হয়। হত্যার আগে তিনি ফেসবুক লাইভে স্থানীয় চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন করেছিলেন। এই ঘটনায় দেশব্যাপী ক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে গত জুলাই পর্যন্ত এক বছরে ৪৯৬ জন সাংবাদিক হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে দায়িত্ব পালনকালে হামলায় নিহত হয়েছেন ৪ জন, আহত হয়েছেন শতাধিক। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত ২৭৪টি হামলায় ১২৬ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস) জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুনে ২০ জন সাংবাদিক লাঞ্ছনার শিকার, ৩৪ জন হুমকির মুখে এবং ১০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩-এর অধীনে অন্তত ১৬টি মামলায় ১২ জন গ্রেপ্তার এবং ২৩ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক মো. আশিক সাঈদ বলেন, গাজীপুরে সাংবাদিক হত্যার ঘটনায় তদন্ত চলছে এবং দোষীদের গ্রেপ্তার করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব) গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি বলেছে, গণমাধ্যমের নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা গেলে তা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিতকে আরও মজবুত করবে।