শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন
ঢাকা: স্টাফ রিপোর্টার:
মো: তৌফিকুর রহমান রাজীব, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। এ অবস্থায় দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষের পাশাপাশি প্রবাসে অবস্থানরত বাংলাদেশিরাও তাঁর আশু রোগমুক্তির জন্য দোয়া করে চলেছেন।
এ নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন স্টেটাসে দেশনেত্রীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সহায়তা ও একজন সন্তানের মনের গভীর আর্তি তুলে ধরেছেন।
তারেক রহমান তাঁর ফেসবুক স্টেটাসে লিখেছেন—
“বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ ও সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যায় রয়েছেন। তাঁর রোগমুক্তির জন্য দল মত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের নাগরিক আন্তরিকভাবে দোয়া অব্যহত রেখেছেন। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা তাঁর রোগমুক্তির জন্য দোয়ার সাথে সাথে চিকিৎসার সর্বত সহায়তার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
দেশ বিদেশের চিকিৎসক দল বরাবরের মত তাঁদের উচ্চ মানের পেশাদারিত্ব ছাড়াও সর্বোচ্চ আন্তরিকত সেবা প্রদান অব্যহত রেখেছেন। বন্ধু প্রতীম একাধিক রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও উন্নত চিকিৎসাসহ সম্ভাব্য সকল প্রকার সহযোগিতার আকাঙ্খা ব্যক্ত করা হয়েছে।
সর্বজন শ্রদ্ধেয়া বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি সকলের আন্তরিক দোয়া ও ভালোবাসা প্রদর্শন করায় জিয়া পরিবারের পক্ষ থেকে সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। একই সাথে বেগম খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তির জন্য সকলের প্রতি দোয়া অব্যহত রাখার জন্য ঐকান্তিক অনুরোধ জানাচ্ছি।
এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোন সন্তানের মত আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মত এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।”
তারেক রহমানের এই বক্তব্যে একদিকে যেমন দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সহানুভূতি ও রাষ্ট্রীয় সহযোগিতার ইঙ্গিত রয়েছে, অন্যদিকে তেমনি একজন সন্তানের মানসিক যন্ত্রণার ভাষাও অত্যন্ত স্পষ্ট।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই স্টেটাস শুধু রাজনৈতিক বার্তা নয়—এটা একজন সন্তানের হৃদয়ের আকুল আর্তি, যা দেশের সাধারণ মানুষের আবেগকেও নাড়িয়ে দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ এই পোস্ট শেয়ার করে দেশনেত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছেন।
এদিকে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চিকিৎসক বোর্ড দেশনেত্রীর চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গেও সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
দেশজুড়ে মসজিদ, মন্দির, গির্জা ও অন্যান্য উপাসনালয়ে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার মধ্য দিয়ে দেশনেত্রীর সুস্থতার জন্য প্রার্থনা চলছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে দেশনেত্রীর এই অসুস্থতা জাতীয় পর্যায়ে সহানুভূতির এক বিরল দৃশ্য সৃষ্টি করেছে।
দেশবাসীর প্রত্যাশা এখন একটাই—
দেশনেত্রী সুস্থ হয়ে দ্রুত জাতির সামনে ফিরে আসুন।