বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৩ অপরাহ্ন
*রক্তিম জুলাইয়ের অনুচ্চারিত প্রশ্ন*
—-এম এ বার্ণিক
জুলাইয়ের রক্তাক্ত প্রভাতে
যখন রাজপথে উঠেছিল শপথের ঢেউ,
ইতিহাসের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এলেন
ড. মুহাম্মদ ইউনূস—
নোবেলের দীপ্তি কপালে,
কাঁধে এক অস্থির দেশের ভার।
বিশ্ব তাঁকে চিনেছে দরিদ্রের স্বপ্নকারিগর বলে,
ক্ষুদ্রঋণের জাদুকর, মানবতার দূত।
কিন্তু জুলাইয়ের মাটি
চেয়েছিল আরেক পরিচয়—
রক্তের হিসাবরক্ষক,
বিচারের স্থপতি।
শহিদের মায়ের প্রশ্ন ছিল সরল—
“আমার সন্তানের নাম কি রাষ্ট্রের খাতায় উঠবে?”
যদি না ওঠে,
তবে কি সে শুধু স্লোগানের শব্দ হয়ে থাকবে?
যদি স্বীকৃতি না আসে,
তবে ইতিহাস কি নীরব থাকবে?
স্বীকৃতি না দিলে
রক্ত শুকায় না—
বরং জমে ওঠে অদৃশ্য ক্ষোভে।
পরিবারগুলো হয়ে ওঠে নীরব আগ্নেয়গিরি,
যার অগ্নুৎপাত সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
দেড় বছরের দিনপঞ্জি ঝরে যায়,
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি বাতাসে উড়ে,
কিন্তু যদি নিজের সরকারের দায়
লিখিত না হয় স্পষ্ট অক্ষরে,
তবে সেই দায়
ইতিহাসের খাতায় সুদে-আসলে ফেরত আসে।
দায়মুক্তি না দিলে
সন্দেহ জন্মায়—
কে ছিল নীরব?
কে ছিল সক্রিয়?
কে ছিল দায়ী?
এই প্রশ্নগুলো রাজনীতির মঞ্চ ছাড়িয়ে
আদালতের দরজায় কড়া নাড়ে।
ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাঠ্যবইয়ে
দাগ হয়ে থাকে অনুচ্চারিত সত্য।
জুলাইযোদ্ধা হাদীর নাম
যদি তদন্তের আলোর মুখ না দেখে,
তবে তার রক্ত হয়ে ওঠে প্রতীক—
অমীমাংসিত ন্যায়বিচারের।
ক্ষমতা ক্ষণিকের আশ্রয়,
কিন্তু অস্বীকৃত শহিদরা
দীর্ঘস্থায়ী ছায়া হয়ে থাকে।
তারা প্রশ্ন করে,
তারা অপেক্ষা করে,
তারা ইতিহাসের দরবারে সাক্ষ্য দেয়।
নোবেলের সোনালি অক্ষর
আর জুলাইয়ের লাল অক্ষর—
দুইয়ের সংঘাতে নির্ধারিত হয় পরিণাম।
যদি স্বীকৃতি না আসে,
তবে নৈতিক বৈধতা ক্ষয়ে যায়;
যদি দায় স্পষ্ট না হয়,
তবে রাজনৈতিক আস্থা ভেঙে পড়ে।
শেষ পর্যন্ত
মানুষ ভুলে যায় বক্তৃতা,
ভুলে যায় কূটনৈতিক হাসি—
কিন্তু ভুলে না
কোন সরকার শহিদের নাম উচ্চারণ করেছিল,
আর কে নীরব ছিল।
জুলাই তাই শুধু অতীত নয়—
সে ভবিষ্যতের বিচারক।
যে রক্তের স্বীকৃতি দেয় না,
যে দায় এড়িয়ে যায়,
তার জন্য অপেক্ষা করে
সময়ের নির্লিপ্ত কিন্তু নির্ভুল রায়।