বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার :
বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাইতে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে ভবন উচ্ছেদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বরিশাল সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছে ভুক্তভোগী আব্দুর রহমান খান। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভুক্তভোগীর পক্ষে আইনজীবী এ জেড এম শহীদুজ্জামান নোটিশটি প্রেরণ করেন।
এর আগে গত ১২ এপ্রিল বরিশাল সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে বরিশালের জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) ও সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দেওয়ানী মামলা (নং-১২৬/২০২৬) দায়ের করেন আব্দুর রহমান খান ও তার ভাই আব্দুল খালেক খান। এ মামলায় বিচারক বিবাদীদের ২১ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেন। অভিযোগ উঠেছে, আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই বিবাদীরা বাদীর নির্মাণাধীন ভবন ও দোকান বিনা নোটিশে উচ্ছেদ করেন।
লিগ্যাল নোটিশে উল্লেখ করা হয়, চরমোনাই মৌজার জে.এল ৯২ নং এর আর.এস ১৭০১ খতিয়ানের হাল ৪৬৩/৪৭৬ দাগের ২.৮২ একর জমির মূল মালিক ছিলেন প্রসন্ন কুমার দাস। পরবর্তীতে তিনি অনন্ত কুমার শীল, অশ্বিনী কুমার শীল ও নগেন্দ্র নাথ শীলের নিকট প্রজা পত্তন করেন। পরে ১৯৫৮ সালের আদালতের আদেশে তাদের নামে রেকর্ড সংশোধন হয়।
নোটিশে আরও বলা হয়, পত্তনগ্রহীতাদের উত্তরাধিকারীরা ১৯৯২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৬২৪ নং সাব-কবলা দলিলের মাধ্যমে ৭৬ শতাংশ জমি ৩৩ হাজার টাকায় আব্দুর রহমান খান ও তার ভাই আব্দুল মালেক খানের কাছে বিক্রি করেন। এরপর থেকে তারা দীর্ঘ ৩৪ বছর ধরে জমিটি ভোগদখলে রেখে খাজনা পরিশোধ করে আসছেন।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১৬ এপ্রিল সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বেকু মেশিন নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে জোরপূর্বক বসতঘর, টিনের দোকানঘর ভেঙে ফেলেন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
নোটিশে আরও উল্লেখ করা হয়, এ সময় আব্দুর রহমান খান বাধা দিলে তাকে জনসমক্ষে অপমান ও লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনার ভিডিও ফুটেজ ও স্থিরচিত্র সংরক্ষিত রয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
নোটিশে ১০ দিনের মধ্যে ভাঙা স্থাপনা বুঝিয়ে দেওয়া ও বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে। অন্যথায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আদালতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।