শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৫০ পূর্বাহ্ন
মো: তৌফিকুর রহমান রাজীব।
আলো ডেক্স রিপোট:
যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপি নেতাদের ওপর হামলার ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক প্রেস সচিব ও সিনিয়র সাংবাদিক মারুফ কামাল খান। মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক ভেরিফায়েড পোস্টে তিনি হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং আক্রান্ত হয়েও সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিবাদ করায় এনসিপি নেতা আখতার হোসেনকে ধন্যবাদ জানান।
মারুফ কামাল খান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়া বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ওপর ক্ষমতা হারানো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা হামলার চেষ্টা চালায়। এসময় এনসিপি নেতা আখতার হোসেনের পিঠে পিছন থেকে ডিম নিক্ষেপ করা হয় এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “বিদেশে সংগঠিত হয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক এসব করা যায়। এতে আক্রান্তদের অজনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয় না। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করা যেতেই পারে, তবে রাজনীতি ও গুণ্ডামির মধ্যকার সীমানা রক্ষা করতে পারেনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ।”
মারুফ কামাল খান মন্তব্য করেন, বিদেশে আওয়ামী লীগের এই ধরনের গুণ্ডামি তাদের অতীত অপরাধের মতোই অনুশোচনাহীন, যা তাদের রাজনৈতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন করবে এবং জনগণের ঘৃণা বাড়াবে।
আক্রমণের পরও সাহসিকতা দেখানোয় আখতার হোসেনকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “আখতার তার সমর্থকদের নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন এবং পরিষ্কার বার্তা দিয়েছেন— হাসিনার বুলেট যাদের কাবু করতে পারেনি, তাদের ডিম ছুঁড়ে কখনো পরাজিত করা যাবে না।”
ঘটনার পর হামলাকারীদের অন্তত একজনকে নিউ ইয়র্ক পুলিশ আটক করেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশের মিশন, কনস্যুলেট ও দূতাবাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে।
মারুফ কামাল খান মনে করেন, এই অঘটনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
নিচে স্টেটাসটি নিবে হুবাহু তুলে ধরা হলো-
“জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্কে যাওয়া বাংলাদেশী প্রতিনিধি দলের সদস্যদের ওপর ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত আওয়ামী লীগের লোকেরা শারিরীকভাবে হামলার চেষ্টা করেছে। এনসিপির নেতা আখতার হোসেনের পিঠে পিছন থেকে ডিম ছুঁড়ে মেরেছে তারা। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকেও কুৎসিত ভাষায় গালিগালাজ করা হয়েছে। বিমানবন্দরে নেমে তারা গাড়ির দিকে যাবার পথে এসব ঘটনা ঘটে। লীগের লোকেরা তাদের দিকে তেড়ে যায় এবং গালাগালি করে।
বিদেশে সংগঠিত হয়ে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক এসব করা যায়। এতে আক্রান্তদের অজনপ্রিয়তা প্রমাণিত হয় না। প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করা যেতেই পারে। তবে রাজনীতি ও গুণ্ডামির মধ্যকার সীমানা রক্ষা করতে পারে নি ফ্যাসিস্ট হিসাবে জনবিদ্রোহে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ। দেশে যে মবোক্রেসির তারা বিরোধী, সেই মবোক্রেসির আশ্রয় তারা নিজেরাই নিচ্ছে বিদেশের মাটিতে।
তাদের অতীত অপকাণ্ডের জন্য অনুশোচনাহীন এই গুণ্ডামি আওয়ামী অপরাজনীতিকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে, তাদের প্রতি ঘৃণা আরও তীব্র করবে।
আখতারকে ধন্যবাদ আক্রান্ত হয়েও বিদেশে আশ্রিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার জন্য। আখতার তার সমর্থকদের নিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলেছেন এবং বলেছেন, হাসিনার বুলেট মোকাবেলা করা লড়াকুদের ডিম ছুঁড়ে কাবু করা যাবে না।
হামলাকারী একজনকে অন্তত আটক করেছে নিউ ইয়র্ক পুলিশ। বাংলাদেশ মিশন, কন্স্যুলেট ও দূতাবাসের প্রটোকল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফের বিরাট প্রশ্নবোধক চিহ্নের সামনে দাঁড় করালো এই হামলার ঘটনা। এই অঘটনের রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেশে কী হবে, সেটাই এখন দ্রষ্টব্য। “