বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
মাহাবুব তালুকদার:
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রেমিকাকে ধর্ষণের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় প্রেমিকার মোবাইল ফোন নিয়ে যায় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্ত যুবকের নাম রিপন মোল্যা (২৩)। তিনি আরশিনগর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজি কান্দি এলাকার ইমান হোসেন মোল্যার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রিপন মোল্যা ঢাকায় একটি প্রেস কোম্পানিতে চাকরি করেন। প্রায় এক বছর ধরে পারিবারিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার চাচাতো বোনের বাড়িতে যাতায়াতের সূত্রে সাবিকুর নাহার নামের এক তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় ও পরবর্তীতে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
গত শুক্রবার (২৬ জুন) ঢাকা থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি আসার পর রিপন মোবাইল ফোনে সাবিকুর নাহারকে ডেকে নেন। পরে বিকেলে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে দু’জনকে একটি পাটক্ষেতে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে তারা একে অপরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় ছিলেন। এ সময় স্থানীয় মৎস্য খামার ব্যবসায়ী সোবাহান আকন তাদের দেখতে পান। পরিস্থিতি টের পেয়ে রিপন মোল্যা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান এবং এসময় প্রেমিকার মোবাইল ফোনও নিয়ে যান বলে দাবি করা হয়।
পরে স্থানীয়রা মেয়েটিকে উদ্ধার করে রিপনের বাড়িতে নিয়ে যান এবং বিষয়টি নিয়ে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ঘটনাস্থলে তাজগীর সরদারসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
ঘটনার পর প্রেমিকা সাবিকুর নাহার বিয়ের দাবিতে রিপন মোল্যার বাড়িতে অনশন শুরু করেন। টানা চার দিন ধরে তিনি অনশন করছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা আফজাল সরদার জানান, তিনি থানায় মামলা করতে গেলে স্থানীয় মুরুব্বিরা বিষয়টি মীমাংসার আশ্বাস দেন। তবে এখনো কোনো সমাধান না হওয়ায় পরিবারটি চাপ ও হুমকির মুখে রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, মেয়েটির বয়স বিবেচনায় বিষয়টি শুধুমাত্র স্থানীয়ভাবে সমাধান করা সম্ভব নয় এবং আইনগত প্রক্রিয়াই হওয়া উচিত।
অভিযুক্ত রিপন মোল্যার বাবা ইমান হোসেন মোল্যা বলেন, “আমার ছেলে বাড়িতে নেই। সে কোথায় আছে জানি না। তবে উপযুক্ত প্রমাণ পাওয়া গেলে সম্পর্ক মেনে নিতে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোফাজ্জেল হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।