সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে জুলাই শহীদ ও আহতদের আর্থিক অনুদান এবং অস্বচ্ছলদের মাঝে বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ IMF’s Loan for Bangladesh: Opportunities, Conditions, and the Way Forward* *—Professor M. A. Barnik* আইএমএফের নতুন ঋণ কর্মসূচি: বাংলাদেশের জন্য সুযোগ, শর্ত ও করণীয়* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* ডলু নদী তীরবর্তী বন্যার্তদের পাশে সরকারি কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ বেতার চট্টগ্রাম পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান রানা, মহাসচিব সোলায়মান *18 July: The Birth of Secret Ballot Voting* *—Professor M. A. Barnik* *১৮ জুলাই: গোপন ব্যালটের সূচনা দিবস* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* নবীনগরে হোপের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ তাইফা ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে ভেদরগঞ্জে পানির ফিল্টার, অটোরিকশা ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করলেন হুইপ অপু

*১৮ জুলাই: গোপন ব্যালটের সূচনা দিবস* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ১৫ বার ভিউ
সময়ঃ সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন

১৮ জুলাই বিশ্ব গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৮৭২ সালের এই দিনে যুক্তরাজ্যে Ballot Act 1872 কার্যকর হয়। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো রাষ্ট্রীয়ভাবে গোপন ব্যালট (Secret Ballot) পদ্ধতি চালু হয়। এই আইন গণতন্ত্রকে শুধু একটি রাজনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে নয়, বরং নাগরিকের স্বাধীন বিবেকের প্রকাশ হিসেবে নতুন মর্যাদা দেয়।

এই ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন ডিজরেইলি এবং তাঁর সরকারের। তাঁর নেতৃত্বে সংসদে পাস হওয়া এই আইন ব্রিটিশ নির্বাচনব্যবস্থাকে এক নতুন যুগে প্রবেশ করায়। ডিজরেইলি উপলব্ধি করেছিলেন—যে ভোটার ভয়, প্রভাব বা প্রতিশোধের আশঙ্কায় ভোট দেন, তাঁর ভোট প্রকৃত অর্থে স্বাধীন নয়। তাই গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে ভোটারের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতেই হবে।

ডিজরেইলি একবার বলেছিলেন—

«”The rights of the people are safest in the hands of the people themselves.”
“জনগণের অধিকার সবচেয়ে নিরাপদ থাকে জনগণের নিজের হাতেই।”»

এই দর্শনই গোপন ব্যালটের মূল চেতনাকে ধারণ করে। জনগণের মতামত যদি স্বাধীনভাবে প্রকাশিত না হয়, তবে নির্বাচন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতায় পরিণত হয়।

১৮৭২ সালের আগে ব্রিটেনে ভোট ছিল প্রকাশ্য। কে কাকে ভোট দিলেন, তা সবাই জানতে পারত। ফলে জমিদার, নিয়োগকর্তা, ধনী ব্যবসায়ী কিংবা প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের চাপ, ভয়ভীতি ও প্রলোভন ভোটের ফলকে প্রভাবিত করত। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার থাকলেও ভোটের স্বাধীনতা ছিল সীমিত।

Ballot Act 1872 সেই বাস্তবতা বদলে দেয়। ভোটকক্ষে প্রবেশ করে একজন ভোটার সম্পূর্ণ গোপনে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার অধিকার পান। এ ছিল গণতন্ত্রের ইতিহাসে এক নীরব কিন্তু বৈপ্লবিক পরিবর্তন।

পরবর্তীকালে বিশ্বের প্রায় সব গণতান্ত্রিক দেশই এই পদ্ধতি গ্রহণ করে। আজ অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শর্ত হলো গোপন ব্যালট। কারণ ভোটের গোপনীয়তা নিশ্চিত না হলে নাগরিকের স্বাধীন মতপ্রকাশও নিরাপদ থাকে না।

১৮ জুলাই তাই শুধু একটি ঐতিহাসিক তারিখ নয়; এটি গণতন্ত্রের আত্মমর্যাদা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং ভোটাধিকারের মর্যাদা রক্ষার প্রতীক। এই দিন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—গণতন্ত্রের প্রকৃত শক্তি ক্ষমতাসীনদের হাতে নয়, বরং নির্ভয়ে নিজের বিবেক অনুযায়ী ভোট দিতে পারা সাধারণ মানুষের হাতে নিহিত।

বিশ্বের বহু গণতান্ত্রিক অর্জনের মতো গোপন ব্যালটও একদিনে আসেনি; এটি এসেছে দীর্ঘ রাজনৈতিক বিতর্ক, সংস্কার এবং দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে। আর সেই ইতিহাসে বেনজামিন ডিজরেইলির নাম চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে উচ্চারিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]