মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:৫৯ অপরাহ্ন
এস এফ মনি
নিজস্ব প্রতিবেদক
গত সোমবার বিকালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শত শত কর্মকর্তা-কর্মচারী। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনে সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সিন্ডিকেট সাভায় ১৫ সালে বাতিল কৃত নীতিমালা পুনর্বহলের আশ্বাসে অবরোধ ও বিক্ষোভ কার্মসুচী প্রত্যাহার করে নেন।

গত সোমবার ২৪ জুন ২০২৩ ইং বিকাল ৪ টায় কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাদের সংক্রান্ত পদোন্নতি নীতিমালা-২০১৫ স্থগিত করে উপচার্য । (যা গত ৬ মাস আগে পাশ হওয়া, সেই সিদ্ধান্ত সমবার তার শেষ কর্মদিবসে প্রকশ করেন।) তা পুনর্বহালের দাবিতে তাকে অবরুদ্ধ করে বুয়েট উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ করেন। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০০ বেশী কর্মকর্তা-কর্মচারী এই বিক্ষোভে অংশগ্রহণ করে।

এসময় বিক্ষোভকারীরা উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে ‘আমাদের দাবি মানতে হবে’, ‘পদোন্নতি নীতিমালা ফিরিয়ে আনতে হবে’ ক্যাম্পাসে পুলিশ কেন ইত্যাদি স্লোগান দেন। পরে পুলিশ সরিয়ে নেন। রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনটি কর্মকর্তা-কর্মচারী সংগঠনে সঙ্গে আলোচনার পর পরবর্তী সিন্ডিকেট সাভায় ১৫ সালে বাতিল কৃত নীতিমালা পুনর্বহলের আশ্বাসে অবরোধ ও বিক্ষোভ কার্মসুচী প্রত্যাহার করে নেন।
এ সময় তার ভিসি বরারব এক লাইনের একটি আবেদন করেন এবং তার প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী কর্মকর্তাদের তিনটি সংগঠন ১২ জন প্রতিনিধি ভিসির সাথে সাক্ষাৎ করেন এবং তিনি পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় তা পুনর্বহলের আশ্বাস দেন এবং তিনি এ ব্যাপারে পুনর্বহল জন সুপারিশ মূলক একটি নোট দিবেন বলে জানান।
উল্লেখ্য গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪০তম সভায় ২৭-১২-২০২৩ তারিখের পরবর্তী সময়ে নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা/কর্মচারী পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রাপ্যতার জন্য বিবেচিত হবেন না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিষয়টি জানিয়ে ৬ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর, গতকাল রবিবার ” ২৩ জুন” বুয়েট কর্তৃপক্ষ একটি অফিস নোটিশ জারি করে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফোরকান উদ্দিনের সই করা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়। গত বছরের ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ফাইন্যান্স কমিটির ৫৫তম অধিবেশনের কার্যবিবরণীর সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে একই বছরের ২৭ ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৫৪০তম সভায় নতুন সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

এগুলো হলো:
(ক) ২৭-১২-২০২৩ তারিখের পরবর্তী সময়ে নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা- কর্মচারী পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রাপ্যতার জন্য বিবেচিত হবেন না।
খ। নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে এরইমধ্যে যাদের পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড সেল দেয়া হয়েছে তা অপরিবর্তিত থাকবে। যাদের পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল দেওয়া হয়েছে, তাদের চাকরি শেষ হলে বা পদত্যাগ করলে বা অপসারণ বা পদচ্যুত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাদের অর্গানোগ্রাম বর্হিভূত পদ বিলুপ্ত হবে এবং অর্গানোগ্রামভুক্ত মূল পদ শূন্য হবে।
গ। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বরের পরবর্তী সময়ে প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে পদোন্নতি, পদোন্নয়ন, সিলেকশন গ্রেড, সিনিয়র গ্রেড স্কেল প্রদানে সরকারি নীতিমালা এবং ইউজিসি অনুমোদিত অর্গানোগ্রাম প্রযোজ্য হবে। কোনো কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি সরকারি নীতিমালায় এরইমধ্যে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় প্রণীত নীতিমালা-২০১৫ এর মাধ্যমে প্রাপ্ত গ্রেডের চেয়ে উচ্চতর গ্রেড অথবা পদ প্রাপ্ত হন তাহলে তা প্রদান করা হবে।
ঘ । ওপরের সব সিদ্ধান্ত উল্লেখপূর্বক অনুমোদনের জন্য ইউজিসিতে পাঠানো হবে জানান।
বুয়েটের সিনিয়র অ্যাসিসটেন্ট লাইব্রেরিয়ান ইসমাইল বলেন, ‘আমরা যাতে এ বিষয়ে আন্দলোন করতে না পারি তাই এতদিন নীতিমালা বাতিলের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ লুকিয়ে রেখেছিল। আমরা নীতিমালা বহাল চাই।
তাই এই দাবিতে উপচার্যকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি যেন আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান করেন সেই দাবি জানাই।’

অন্য একজন নারী কর্মকর্ত জানান সারাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় গুলো চলে এক নিয়ম আমরা চলি আরেক নিয়মে সরকারী কোন নীতিমালা আমাদের নাই, সরকারি ও অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সুযোগ সুবিধা গুলে আমারা পাই না ,,
জননেত্রী শেখ হাসিনা আমলে অনেক জনবান্ধন, জনকল্যাণমুখী, কর্মচারী নীতিমালা হয়েছে তখন আমরা
প্রশাসন কছে গিয়ে দাবী জানানলে তারা বলেন আমারা স্বায়ত্তশাসিত বুয়েটে সেই নীতিমালার মধ্যে পরে না।
তিনি আরও বলেন, এখন নতুন কোন নীতিমালা প্রণয়ন না করই।
২০১৫ সালের নীতিমালা বাতিল করা হলো। এটা দুঃখজনক,
কিছু দুষ্টুচক্রী লোকের যোগসাজশে উদ্দেশ্যপ্রণীত ভাবে ভিসি এই নীতিমালা বাতিল করেন।
যা গত ৬ মাস আগে সিদ্ধান্ত পাশ কারে লুকিয়ে রেখে আজ তিনি তার শেষ কর্মদিবসে প্রকাশ করেন ।
আমার প্রশ্ন তিনিও তাঁর কর্মজীবনে পদোন্নতি হয়ে আজ বুয়েটের ভিসি হয়েছেন, কিন্তু আমাদের বেলায় তা না কেন?
এই নীতিমালা মেনে নিলে আমাদের পোস্টগুলো ব্লক হয়ে যাবে। এবং এর ফলে সকল কর্মচারী যে যেই পোস্টে কার্মস্থলে যোগ দিয়েছেন অবসর পর্যন্ত তাকে একই পোষ্টে থাকতে হবে। এর ফলে
আমাদের ৪০০ জনের পদোন্নতি আটকে গেছে, ২৫০ জন কর্মকর্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১ হাজার ২ ৬৩ জন কার্মচারী।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ মন্তব্য করতে রাজি নন
বর্তমান উপাচার্য ড. সত্য প্রসাদ মজুমদারের মেয়াদ আগামীকাল মঙ্গলবার (২৫ জুন) শেষ হতে চলেছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কেউ মন্তব্য করতে রাজি নন।