বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik

নির্বাচনের আড়ালে আওয়ামী লীগ পুনর্জন্মের কারসাজি* — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৮৯ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনের মাঠে তখন কোলাহল। ব্যানার, স্লোগান, হাসি—সবই স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক দৃশ্যপটের মতো। কিন্তু এই দৃশ্যের আড়ালে, নীরব ও সূক্ষ্ম এক রাজনৈতিক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে—যার নাম পুনরুজ্জীবন। নিষিদ্ধ ঘোষিত এক শক্তির ফিরে আসার পরিকল্পনা, যা প্রকাশ্য পথে নয়; বরং উপন্যাসের মতো ধীরে ধীরে, অধ্যায় ধরে এগিয়ে চলেছে।

এই উপন্যাসের প্রথম অধ্যায়ে দেখা যায়, পরিচিত নামগুলো হঠাৎ করেই অদৃশ্য। আওয়ামী লীগের নাম নেই, প্রতীক নেই, রং নেই। কিন্তু চরিত্ররা হারিয়ে যায়নি। তারা ফিরে এসেছে নতুন মুখোশে। কেউ জাতীয় পার্টির ছায়ায় দাঁড়িয়ে, কেউ আবার ১৪ দলের পুরোনো অলিগলিতে ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ নামের নিরাপদ পরিচয়ে হাজির। ভোটারদের চোখে তারা ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র, অথচ পর্দার আড়ালে তারা একই কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ।
দ্বিতীয় অধ্যায়ে এসে স্পষ্ট হয়—এটি নিছক রাজনৈতিক কৌশল নয়, বরং এক সুপরিকল্পিত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও নির্বাচনী ব্যবস্থার অসম্পূর্ণতা। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলেও, সেই দলের রাজনৈতিক আশ্রয়স্থল হিসেবে পরিচিত জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলকে নিষিদ্ধ না করে রাখার মাধ্যমেই এই সুযোগের দরজা খুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে নিষিদ্ধ দলটি সরাসরি মাঠে না নেমেও, বৈধতার ছায়ায় নির্বাচনী রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পথ পেয়ে গেছে।
নির্বাচনের আইনগত ফাঁক, জোট রাজনীতির ধূসর অঞ্চল, আর ‘স্বতন্ত্র প্রার্থী’ নামের নিরীহ আবরণ—সব মিলিয়ে নিষিদ্ধতার দেয়াল ভেঙে বেরিয়ে আসার একটি নিখুঁত পথরেখা তৈরি হয়েছে। এই পথে হাঁটতে হাঁটতে সংশ্লিষ্টরা জানে, ভোটের ফল ঘোষণার পরেই পরিচয় বদলাবে, মুখোশ খুলবে, এবং নতুন সংসদের আলোতে পুরোনো পরিচয় আবার স্পষ্ট হয়ে উঠবে।
উপন্যাসের তৃতীয় অধ্যায়টি সবচেয়ে রহস্যময় ও আলোচিত। পর্যবেক্ষকমহল ফিসফিস করে বলে—এই কাহিনির পেছনে রয়েছে সীমান্ত পেরোনো এক ছায়া। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ নাকি এই সূক্ষ্ম পুনর্গঠনের নেপথ্য কারিগর। সরাসরি মঞ্চে না উঠে, পরামর্শ, যোগাযোগ ও কৌশলের অদৃশ্য সুতো টেনে তারা নাকি এমন এক বাস্তবতা নির্মাণে সহায়তা করছে—যাতে নিষিদ্ধ শক্তি নতুন পোশাকে আবার বৈধতার আলোয় ফিরে আসতে পারে।
শেষ অধ্যায়ে এসে পাঠক—অর্থাৎ সাধারণ নাগরিক—একটি কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড়ায়: এটি কি সত্যিই একটি অবাধ নির্বাচন, নাকি নির্বাচনের নামে একটি রাজনৈতিক পুনর্জন্মের উপাখ্যান? ব্যালট বাক্সের ভেতরে কি শুধু ভোট পড়ছে, নাকি পড়ছে একটি পুরোনো শাসনের নতুন সংস্করণ?
এই উপন্যাসের শেষ লাইন এখনো লেখা হয়নি। সেটি লেখা হবে ফল ঘোষণার রাতে—যখন মুখোশ খুলবে, প্রকৃত পরিচয় ফুটে উঠবে, আর ইতিহাসের পাতায় যুক্ত হবে আরেকটি অধ্যায়:
নিষিদ্ধতার পরেও ফিরে আসার সংগঠিত ও পরিকল্পিত গল্প।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]