মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৬ অপরাহ্ন
*সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম*
*—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*
কিছু মানুষের প্রস্থান কেবল একজন মানুষকে হারানো নয়—একটি স ময়, একটি স্মৃতি, একটি নীরব আলোকবর্তিকার নিভে যাওয়া। লালমোহন উচ্চবালিকা বিদ্যালয়ের সুপ্রিয় প্রধানশিক্ষক মরহুম আবদুল হাইয়ের মৃত্যু সংবাদ শুনে হৃদয়টা যেন হঠাৎ শূন্য হয়ে গেল।
শৈশবের সেই দিনগুলো আজও চোখে ভাসে—প্রথম শ্রেণির সরলতা থেকে দশম শ্রেণির কৈশোরে পৌঁছানো পর্যন্ত আমাদের পথচলা ছিল পাশাপাশি। আমি এক ক্লাস উপরে হলেও, সে ছিল আমার আপনজনের মতোই কাছের। পড়াশোনার টেবিলে, খাতার পাতায়, কিংবা বিকেলের আড্ডায়—সে ছিল এক আন্তরিক উপস্থিতি। আমার কাছেই প্রাইভেট পড়তো, অথচ কখন যে সে ছাত্র থেকে আপন হয়ে উঠেছিল, তা টের পাইনি।
তার পিতা মৌলবি হাবিবউল্লাহ ছিলেন আমার জীবনের প্রথম ধর্মীয় শিক্ষক—যার কণ্ঠে আমি প্রথম সত্যের বাণী শুনেছি। সেই পরিবারেরই সন্তান আবদুল হাই—নম্রতা, জ্ঞান আর মানবিকতার এক অপূর্ব সমন্বয়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জিয়োগ্রাফিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করে, শিক্ষক প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন এক আদর্শ শিক্ষকে। তাঁর শিক্ষাদান ছিল শুধু পেশা নয়, ছিল এক প্রকার সাধনা।
পারিবারিক জীবনেও তিনি ছিলেন সুসংযুক্ত— সাবেক এমপি মেজর (অব.) জসিম উদ্দীনের বোনের জীবনসঙ্গী হিসেবে, একজন দায়িত্ববান স্বামী ও আত্মীয়। তাঁর ভাই ছালমত উল্লাহ আমাদের এলাকার আল-ফালাহ মসজিদের খতিব ছিলেন—ধর্মীয় ও সামাজিক বন্ধনে আবদ্ধ ছিল এই পরিবার।
আজ তিনি নেই—তবুও তার স্মৃতি আছে, তার শিক্ষা আছে, তার রেখে যাওয়া আলোকরেখা আছে। এমন মানুষ কখনো পুরোপুরি হারিয়ে যান না; তারা থেকে যান মানুষের ভালোবাসায়, শ্রদ্ধায়, আর অমলিন স্মৃতিতে।
মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তৌফিক দিন।
*ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।*