সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬, ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন
নবীগঞ্জ (হবিগঞ্জ)
সরকারি নীতিমালায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে ২নং বড় ভাকৈর (পূর্ব)১৪ নং শৈলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল চলাকালীন শিক্ষার্থীদের টাকার বিনিময়ে কোচিং করানোর অভিযোগ উঠেছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত দাশের বিরুদ্ধে।
একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের সরকারি ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস ও পরীক্ষার ফি আদায় নিয়েও নানা অভিযোগ উঠেছে।রোববার (২৩ আগস্ট) বিদ্যালয়ে সরেজমিনে গিয়ে কোচিং করানোর অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়। শিক্ষার্থীদের কয়েকজন জানান, তারা কোচিংয়ের জন্য মাসে ৪০০ টাকা করে দেন।অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত দাশ নিজেই ওই কোচিং পরিচালনা করেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোচিং করানোর কথা স্বীকার করেন। তবে তিনি দাবি করেন, স্থানীয় অভিভাবকদের অনুরোধে শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য তিনি গনিত বিষয় পড়ান। তাঁর দাবি, এটি ব্যক্তিগতভাবে নয়, বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য করা হয়।
তবে স্কুল চলাকালীন কেন কোচিং করানো হচ্ছে এমন প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট জবাব দিতে পারেননি তিনি।’শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’-এর ৩ নম্বর বিধিতে নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কোচিং করানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এদিকে বিদ্যালয়ের সরকারি তিনটি ল্যাপটপের মধ্যে দুটি বিদ্যালয়ে পাওয়া যাচ্ছে না। সেগুলোর একটি বা দুটি প্রধান শিক্ষক নিজের বাড়িতে নিয়ে রেখেছেন বলে আইসিটি শিক্ষকের অভিযোগ।বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও আইসিটি শিক্ষক সুপ্রভা দাশ বলেন, মাল্টিমিডিয়া ক্লাস নেওয়ার জন্য বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ রয়েছে। তবে বর্তমানে সেগুলো কোথায় আছে, তা তিনি জানেন না। সম্ভবত প্রধান শিক্ষক তাঁর বাসায় নিয়ে রেখেছেন।বিদ্যালয়ে প্রজেক্টর থাকা সত্ত্বেও নিয়মিত মাল্টিমিডিয়া ক্লাস না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা অনলাইন ও প্রযুক্তিনির্ভর পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ইসমত আহমদ বলেন, অল্প কিছুদিন ধরে শিক্ষার্থীদের কোচিং করানো হচ্ছে। এ সময়ে কোচিং করানো ঠিক নয়।এ ছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবত পঞ্চম প্রেণি ৬০ টাকা, চতুর্থ শ্রেণি ৫০ টাকা, তৃতীয় শ্রেণি ৪০ ও প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থাকে ৩০ টাকা নেওয়ার নিয়ম নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে পরীক্ষার নামে টাকা নেওয়া হয়।এসব অভিযোগের বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক কৃষ্ণ কান্ত দাশ বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের ভালো ফলাফলের জন্য পড়াই। এটি কোচিং নয়। শিক্ষার্থীরা টাকা দেয়, আমি পড়াই। এটি ব্যক্তিগতভাবে নয়, স্কুলের টিম মিলে শিক্ষার্থীদের উন্নয়নের জন্য করা হয়। আইসিটি শিক্ষক আগ্রহ নিয়ে ক্লাস নিতে চাইলে তাঁকে প্রজেক্টর দিয়ে ক্লাস করার সুযোগ দেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে নবীগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র সরকার বলেন, অভিযোগগুলো আগে জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনায় সরকারি নীতিমালার বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় অভিভাবকরা অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
প্রেরক ঃ
শামীম চৌধুরী
নবীগঞ্জ, (হবিগঞ্জ)
তারিখ ২৩ আগষ্ট ২৬ ইং