বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
জুলাই ঘোষণাপত্রে শহিদদের সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দেয়া শহিদদের রক্তের প্রতি বেঈমানি বলে অভিহিত করে জ্ঞানভিত্তিক সামাজিক অধ্যাপক এম এ বার্ণিক বলেছেন,

বাংলাদেশের গৌরবময় গণজাগরণের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হচ্ছে ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান। এই বিপ্লব ছিল জনগণের আত্মত্যাগ, বীরত্ব এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার এক মহাকাব্য, যার প্রতিটি পৃষ্ঠা রঞ্জিত শহিদদের রক্তে। অথচ গভীর দুঃখ ও বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, সদ্যপ্রকাশিত জুলাই ঘোষণাপত্রে ড. মুহম্মদ ইউনূস শহিদদের সংখ্যা ইচ্ছাকৃতভাবে এক-তৃতীয়াংশ কমিয়ে দিয়েছেন, যা জাতির জন্য কলঙ্কজনক।
ঘোষণাপত্রের ১৭ নম্বর অনুচ্ছেদে শহিদের সংখ্যা “প্রায় এক হাজার” বলা হয়েছে, যা সরাসরি জাতিসংঘের রিপোর্টে উল্লিখিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রায় ১,৫০০ শহিদের সংখ্যার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রশ্ন হলো—জাতিসংঘ যেখানে নির্ভরযোগ্য তদন্তের মাধ্যমে দেড় হাজার শহিদের কথা বলছে, সেখানে প্রধান উপদেষ্টা কীভাবে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ শহিদের নাম ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার দুঃসাহস দেখালেন?
এটি নিছক ভুল নয়—এটি ইতিহাসের বিরুদ্ধে একটি সুনির্দিষ্ট ষড়যন্ত্র। এভাবে প্রায় পাঁচ শতাধিক শহিদকে অস্বীকার করা মানে তাদের আত্মত্যাগকে অমান্য করা, এবং জাতির ভবিষ্যৎ চেতনার ভিতকে দুর্বল করে দেওয়া। যেই ঘোষণাপত্রটিকে জাতীয় ইতিহাসের দলিল হিসেবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হচ্ছে, সেখানে শহিদের সংখ্যা বিকৃতি রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
ড. ইউনূস হয়তো রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছেন, হয়তো কিছু মহলের চাপে পড়ে সংখ্যা কমিয়েছেন—কিন্তু শহিদের রক্ত কোনো রাজনৈতিক বোঝাপড়ার বস্তু নয়। শহিদরা কারও অনুগ্রহ নয়, তারা জাতির অভিভাবক। তাদের সংখ্যা গোপন করা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
আমরা স্পষ্টভাবে বলছি: 👉 এই সংখ্যা বিকৃতি অবিলম্বে সংশোধন করতে হবে।
👉 যদি তা না করা হয়, জাতি এ ঘোষণাপত্র প্রত্যাখ্যান করবে।
👉 শহিদদের রক্ত কোনো কাগজে মুছে ফেলা যাবে না, তারা ইতিহাসের অনড় সাক্ষ্য।
👉 আমরা দাবি জানাই, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে একটি পূর্ণাঙ্গ শহিদ তালিকা প্রকাশ করা হোক এবং তা সংবিধানে সন্নিবেশিত হোক।
এই দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শহিদদের আত্মত্যাগই হচ্ছে সর্বোচ্চ মাপকাঠি। সেই মাপকাঠিকে অবজ্ঞা করে কেউ নেতা হতে পারে না, নীতিনৈতিকতা প্রতিষ্ঠা করতে পারে না। শহিদদের রক্তে দাঁড়িয়ে যারা রাজনীতির আলখাল্লা পরে ক্ষমতায় বসেছে, তাদের দায়িত্ব শহিদের সংখ্যা লুকানো নয়, তাদের মর্যাদা ও উত্তরাধিকার নিশ্চিত করা।
জয় হোক শহিদের। জয় হোক সত্য ইতিহাসের।