মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

যুবকের রক্তে আঁকা মানচিত্র: বাংলাদেশের ঢাকা থেকে নেপালের কাঠমান্ডু —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১১৯ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৭ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা :

দক্ষিণ এশিয়ার দুই প্রান্ত—একদিকে পাহাড়ি রাজ্যের রাজধানী কাঠমান্ডু, অন্যদিকে নদীমাতৃক বাংলার হৃদয় ঢাকা। দুটি ভিন্ন ভূগোল, দুটি ভিন্ন সংস্কৃতি, অথচ ২০২৪ ও ২০২৫ সালের অভ্যুত্থান যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বাঁধা। রক্ত, অশ্রু, স্লোগান—সবকিছু মিলেমিশে তৈরি করেছে এক নতুন মানচিত্র, যার রেখাচিত্র টেনেছে যুবকেরা।

২. বাংলাদেশের ২০২৪— কোটার গুলি, রক্তের নদী :

ঢাকার রাজপথে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের দাবদাহে ফুটে ওঠে ক্ষোভের স্ফুলিঙ্গ। “কোটা সংস্কার চাই”—এই স্লোগান ধীরে ধীরে রূপ নেয় রাষ্ট্রবিরোধী অগ্নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠ, কার্জন হলের সিঁড়ি, রাজউক মোড়—সবখানেই রক্তে লাল হয় পথ।
পুলিশের গুলিতে ঝরে পড়ে ছাত্র, আরেকদিকে বুলেটভর্তি গুলিতে কণ্ঠরোধ হয় প্রতিবাদের। সরকার ভেবেছিল শক্তির প্রদর্শনেই সব দমন হবে, কিন্তু ঠিক সেইখানেই জন্ম নেয় অভ্যুত্থানের বীজ।

হাজারো শহীদ রক্তের ধারা যেন ঢাকার মানচিত্রে নতুন এক লাল দাগ এঁকে দিল—যুবকের রক্তে আঁকা সেই মানচিত্রের সূচনা এখানেই।

৩. নেপালের ২০২৫—- মোবাইলবিহীন রাত্রি, বজ্রপাতের মতো বিদ্রোহ :

অন্যদিকে, এক বছর পরের কাহিনি নেপালে। প্রধানমন্ত্রী কে.পি. শর্মা ওলি ভেবেছিলেন ইন্টারনেট বন্ধ করলেই আন্দোলনের শেকড় কেটে ফেলা যাবে। জুলাই ২০২৫-এ তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করে দিলেন। কাঠমান্ডুর টাওয়ারগুলোতে নেমে এল নীরবতা, যেন সবার কণ্ঠ তালাবদ্ধ।

কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—যুবকের রক্ত আর কণ্ঠকে কখনো তালাবদ্ধ করা যায় না। বিদ্যুৎবিহীন শহরে বজ্রপাতের মতো হঠাৎ বিস্ফোরিত হলো প্রতিবাদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থেকে শুরু করে গ্রামীণ চা-বাগানের শ্রমিক, সবাই একসাথে রাস্তায় নেমে এল।
অবশেষে সংসদ অবরোধ, সরকারি অফিস ঘেরাও—সব মিলিয়ে পতনের সিঁড়িতে গড়িয়ে পড়লেন ওলি।

৪. মিল—রক্ত ও কণ্ঠের বন্ধন :

বাংলাদেশে রক্তের স্রোত, নেপালে কণ্ঠরুদ্ধ বিদ্রোহ—দুটো ভিন্ন দৃশ্য। কিন্তু অভ্যন্তরে একটাই মিল—যুবকেরা রাষ্ট্রের অন্যায় সহ্য করেনি।

বাংলাদেশে তারা বুক চিতিয়ে গুলি খেয়েছে।

নেপালে তারা মোবাইল ছাড়া যোগাযোগের নতুন রাস্তা খুঁজে পেয়েছে।

যেন ঢাকার রাজপথের রক্ত আর কাঠমান্ডুর আকাশের বজ্র এক মানচিত্রে মিলেমিশে লিখেছে—“অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহই জনতার শেষ কবিতা।”

৫. অমিল— ক্ষমতা দখলের কৌশল :

বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থান সরাসরি ক্ষমতার পালাবদল ঘটায়; শেখ হাসিনা পতন ঘটান ৫ আগস্টে।

নেপালে ওলির পতনের পরও নতুন সাংবিধানিক কাঠামো নিয়ে টানাপোড়েন চলছে, সেখানে এখনও স্থায়ী সমাধান আসেনি।

অর্থাৎ, বাংলাদেশের বিদ্রোহ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আমূল পরিবর্তনের পথ তৈরি করেছে, আর নেপালের বিদ্রোহ এখনো পথ খুঁজছে।
কিন্তু সংবিধানের পরিবর্তন ও নতুন সংবিধানের আলোকে রাষ্ট্রকাঠামো গঠনে বিপ্লবীদের দাবি এক ও অভিন্ন।

৬. উপসংহার :

ঢাকা ও কাঠমান্ডুর দুই অভ্যুত্থান আমাদের শিখিয়েছে—

ইন্টারনেট বন্ধ করেও, কিংবা গুলি চালিয়েও, যুবকের স্বপ্নকে রোধ করা যায় না।

যে মানচিত্রে একবার রক্তের রেখা আঁকা হয়, সেটি আর মুছে যায় না।

অতএব, ২০২৪-এর বাংলাদেশ আর ২০২৫-এর নেপাল শুধু দুটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়—এগুলো দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ ইতিহাসের দুই অগ্নিপদ্য, যেখানে রাজনীতির সাদা কাগজে যুবকের রক্তই হয়ে উঠেছে কলম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]