মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
ডা. মো. আজিজুল হোসেন নবীনগরের উজ্জ্বল নক্ষত্র, বাংলাদেশের গর্ব মাগুরায় জুলাই শহীদ দিবস ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত 35 Thermonuclear Bombs in Iran’s Possession: Russia’s Claim Sends Shockwaves Through Global Politics— Professor M. A. Barnik ব্যাংক ম্যানেজারের উপর হামলা ও হত্যার প্রতিবাদে নবীনগরে মানববন্ধন  মাগুরার শ্রীপুরে রাস্তার বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে! ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরায় অনলাইন জুয়া চক্রের মাস্টার মাইন্ড আমিনুল গ্রেফতার! মাগুরায় কৃষি কর্মকর্তাকে ঝুলিয়ে পেটানোর হুমকি! যুবদল নেতা বহিস্কার! বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে বাংলাদেশ সুশীল ফোরামের শোক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই-(ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।)

সংবাদদাতা / ৭৮ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

“জাতীয় শিক্ষাক্রমে AI-ভিত্তিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি”
—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

১. ভূমিকা :
বিশ্বব্যাপী শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্র দ্রুত বদলে যাচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) কল্যাণে। বাংলাদেশও সেই বৈশ্বিক পরিবর্তনের বাইরে নয়। তবে এখনো জাতীয় শিক্ষাক্রমে AI-ভিত্তিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষাবিদরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শিক্ষাচিন্তাবিদরা মনে করেন, “জাতীয় শিক্ষাক্রমে AI-ভিত্তিক কারিকুলাম অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। কারণ, আগামী প্রজন্মকে যদি বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে চাই, তবে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত AI শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।”

২. কেন জরুরি AI শিক্ষা :

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে দেখা যায়—AI এখন চিকিৎসা, কৃষি, ব্যবসা, আইন, প্রশাসন ও এমনকি সংস্কৃতিতেও প্রভাব বিস্তার করছে। যেভাবে আগে গণিত, বিজ্ঞান ও ইংরেজিকে মৌলিক শিক্ষার অংশ করা হয়েছিল, আজকের দিনে ঠিক তেমনি AI-কে মৌলিক শিক্ষার স্তরে নিয়ে যেতে হবে। নাহলে আমরা শুধু প্রযুক্তির ব্যবহারকারী হয়ে থাকব, উদ্ভাবক হতে পারব না।

৩. স্কুল পর্যায়ে প্রয়োজনীয়তা :

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মৌলিক ধারণা, যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, প্রাথমিক প্রোগ্রামিং এবং ডিজিটাল নৈতিকতা শেখানো উচিত। এর মাধ্যমে শিশুদের মেধা বিকাশ ঘটবে এবং তারা ভবিষ্যতের প্রযুক্তি-নির্ভর জীবনে প্রস্তুত হবে।

৪. কলেজ পর্যায়ে দৃষ্টি :

কলেজ পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের জন্য ডেটা অ্যানালাইসিস, প্রোগ্রামিং, ও মেশিন লার্নিংয়ের মৌলিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মানবিক, বিজ্ঞান কিংবা বাণিজ্য—সব শাখার শিক্ষার্থীরাই AI-এর প্রয়োগ থেকে উপকৃত হবে।

৫. বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা :

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আলাদা AI বিভাগ ও গবেষণাগার স্থাপন করা এখন জরুরি। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে শিল্পখাত ও বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম চালুর দিকেও জোর দিতে হবে।

৬. কারিগরি শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতা :

কারিগরি শিক্ষায় AI সংযুক্ত না হলে বাংলাদেশের শিল্প খাত বিশ্ব প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তিনি। বিশেষ করে অটোমেশন, রোবোটিক্স ও ডেটা ম্যানেজমেন্টের দক্ষতা গড়ে তুলতে ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে AI শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছেন।

৭. বাস্তবায়নের করণীয় :

(১) জাতীয় শিক্ষাক্রমে AI-ভিত্তিক কারিকুলাম সংযোজন।
(২) শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু।
(৩) স্কুল ও কলেজে স্মার্ট ক্লাসরুম ও ল্যাব প্রতিষ্ঠা।
(৪) বেসরকারি প্রযুক্তি কোম্পানির সঙ্গে অংশীদারিত্বে গবেষণা ল্যাব তৈরি।
(৫) শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিযোগিতা, প্রজেক্ট ও স্টার্টআপ ফান্ড চালু।

৮. প্রযুক্তির উদ্ভাবক জাতি হওয়াটাই লক্ষ্য :
যদি এখনই আমরা AI-ভিত্তিক শিক্ষা চালু করতে না পারি, তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম কেবল প্রযুক্তির ভোক্তা হয়ে থাকবে। কিন্তু সঠিক পরিকল্পনায় কারিকুলামে AI যুক্ত করতে পারলে বাংলাদেশ প্রযুক্তি উদ্ভাবক জাতি হিসেবে বৈশ্বিক পরিসরে নেতৃত্ব দিতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]