শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

আদালতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহারে বাংলাদেশ সক্ষম! — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৭০ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা

বিচারব্যবস্থা মানব সভ্যতার ন্যায়বোধের কেন্দ্র। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মামলার জট, বিচার বিলম্ব, ও প্রশাসনিক জটিলতা আমাদের আদালতগুলোকে ভারাক্রান্ত করে তুলেছে। এই প্রেক্ষাপটে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন ন্যায়বিচার ব্যবস্থার দক্ষতা, গতি এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে এসেছে। প্রশ্ন হলো — বাংলাদেশ এই পরিবর্তনের জন্য কতটা প্রস্তুত?

২. বিশ্ব প্রেক্ষাপট: ন্যায়বিচারে এআই এর ব্যবহার

বিশ্বের উন্নত ও উদীয়মান অর্থনীতিগুলো ইতোমধ্যে আদালতের কাজে এআই ব্যবহার শুরু করেছে।

চীন ২০১৯ সালে চালু করেছে “Smart Court System” যেখানে এআই বিচারক, ভয়েস রিকগনিশন ও স্বয়ংক্রিয় রায় প্রস্তুতির প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। ২০২4 সালের হিসাব অনুযায়ী, চীনের ৯০% আদালত ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত।

এস্তোনিয়া ইউরোপের প্রথম দেশ হিসেবে ২০২০ সালে “Robot Judge” পরীক্ষামূলকভাবে চালু করে, যেখানে ছোট অঙ্কের বাণিজ্যিক বিরোধে এআই বিচার করে থাকে।

যুক্তরাজ্য-এর আদালতগুলোতে “Predictive Analytics” ব্যবহারের মাধ্যমে মামলার পূর্বানুমান, প্রমাণ বিশ্লেষণ ও আইনি ব্যয় নির্ধারণে সহায়তা করা হয়।

ভারত ২০২3 সালে “Supreme Court AI Portal (SUPACE)” চালু করেছে, যা রায় প্রস্তুতির সময় বিচারকদের রেফারেন্স ও প্রাসঙ্গিক মামলা সাজেস্ট করে।

এইসব উদাহরণ দেখায়—এআই এখন ন্যায়বিচারের সহায়ক শক্তি, বিচারকের বিকল্প নয় বরং তার সহযোগী।

৩. বাংলাদেশের অবস্থা:

বাংলাদেশ এখনো বিচারব্যবস্থায় এআই ব্যবহার পর্যায়ে প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তবে কিছু ইতিবাচক অগ্রগতি লক্ষণীয়—

(১) ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্প:
সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের আওতায় মামলার ফাইল, নোটিশ, ও রায় ডিজিটালভাবে সংরক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে।
সূত্র: The Daily Star, ২৩ মে ২০২৪।

(২) আইসিটি ট্রাইব্যুনাল ও ভিডিও কনফারেন্সে বিচার:
কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে ভিডিও কনফারেন্সে সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি বাংলাদেশের আদালতে নিয়মিত হয়েছে, যা এআই সংযোজনের প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করেছে।

(৩) এআই-ভিত্তিক ডকুমেন্ট স্ক্যানিং ও সার্চিং:
আইন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আদালতের মামলার ডাটাবেজে মেশিন লার্নিং ব্যবহারের একটি পাইলট প্রকল্প ২০২৫ সালের শুরুতে শুরু হয়েছে (সূত্র: The Business Standard, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫)।

তবে এখনো বিচারপ্রক্রিয়ায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে এআই সরাসরি ভূমিকা রাখছে না—এটি মূলত প্রশাসনিক ও গবেষণা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ।

৪. সম্ভাবনা: কেন প্রয়োজন এআই আদালতে:

(১) মামলার জট নিরসন:
বাংলাদেশে বর্তমানে ৪০ লাখেরও বেশি মামলা বিচারাধীন (সূত্র: Law Commission, ২০২৪)। এআই নির্ভর কেস ম্যানেজমেন্ট ও প্রেডিকশন মডেল ব্যবহার করলে মামলার অগ্রাধিকার ও সময় নির্ধারণ দ্রুততর করা সম্ভব।

(২) স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা:
এআই নিরপেক্ষভাবে তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে, ফলে পক্ষপাত বা দুর্নীতির সম্ভাবনা হ্রাস পায়।

(৩) আইনজীবীদের সহায়তা:
এআই চালিত “Legal Research Assistant” ব্যবহার করে আইনজীবীরা দ্রুত প্রাসঙ্গিক মামলা, রায়, ও ধারা খুঁজে পেতে পারেন।

(৪) ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ:
সাইবার ক্রাইম বা কর্পোরেট মামলাগুলোতে এআই-এর ফরেনসিক অ্যালগরিদম অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

৫. ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ :

তবে এই প্রযুক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু গুরুতর ঝুঁকি রয়েছে—

(১) অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত (Algorithmic Bias):
যদি প্রশিক্ষণ ডেটা পক্ষপাতমূলক হয়, তবে এআই-এর সিদ্ধান্তও পক্ষপাতদুষ্ট হবে—যা বিচার ব্যবস্থায় বিপজ্জনক।

(২) গোপনীয়তা ও তথ্য সুরক্ষা:
বিচার সংক্রান্ত ডাটায় ব্যক্তিগত ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার তথ্য থাকে। সাইবার সুরক্ষা দুর্বল হলে তা জাতীয় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

(৩) আইনগত দায়বদ্ধতা:
এআই দ্বারা প্রদত্ত কোনো সিদ্ধান্ত বা সুপারিশে ভুল হলে দায় নেবে কে—বিচারক, প্রোগ্রামার, না সরকার? এই প্রশ্নের কোনো স্পষ্ট উত্তর এখনো নেই।

(৪) নৈতিক প্রশ্ন:
ন্যায়বিচার শুধু তথ্য বিশ্লেষণ নয়; এতে মানবিকতা, সহানুভূতি, এবং প্রজ্ঞার প্রয়োজন হয়—যা এআই পুরোপুরি ধারণ করতে পারে না।

৬. ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা:

বাংলাদেশের জন্য এআই-বিচারব্যবস্থায় সফল প্রবেশের পূর্বশর্তগুলো হলো—

জাতীয় এআই নীতিমালা (AI Policy for Justice Sector) প্রণয়ন।

বিচারক ও আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ—এআই নৈতিকতা ও প্রযুক্তি ব্যবহারে দক্ষতা অর্জন।

ডেটা প্রটেকশন আইন বাস্তবায়ন ও আদালতের তথ্য সুরক্ষার কঠোর কাঠামো গঠন।

পাইলট কোর্ট প্রকল্প শুরু করা—যেখানে ছোটখাটো দেওয়ানি মামলায় এআই সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।

৭. উপসংহার

এআই বিচারব্যবস্থাকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব করতে পারে—যদি তা সতর্কতার সঙ্গে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশের আদালত এখন প্রযুক্তিগত রূপান্তরের প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছে। প্রয়োজন দূরদৃষ্টি, দক্ষতা ও নৈতিক নেতৃত্ব।
অন্যথায়, এআই ন্যায়বিচারের হাতিয়ার না হয়ে অন্যায়ের ঢালেও পরিণত হতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]