বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

জুলাই সনদের ফাঁদে বিএনপি : প্রতারণার খেলায় নিজেই পরাজিত” —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৪৫ বার ভিউ
সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩১ অপরাহ্ন

১. প্রেক্ষাপট : জুলাই সনদের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে বিএনপির ভূমিকা

২০২৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে “জুলাই সনদ” বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে আবির্ভূত হয়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক প্রস্তাবনা ও গণআকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়, তারই একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ছিল “জুলাই ঘোষণাপত্র”। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায় বিএনপি ছিল অন্যতম সক্রিয় অংশগ্রহণকারী দল।
তাদের প্রত্যাশা ছিল—আগস্টের ঘোষণাপত্রের মতো জুলাই সনদেও বিএনপির নীতিগত ও কাঙ্ক্ষিত বিষয়গুলো প্রতিফলিত হবে।

কিন্তু বাস্তবতা প্রমাণ করল, বিএনপি এই রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় যে কৌশলগত হিসাব কষেছিল, তা এক পর্যায়ে তাদের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হলো।

২. সনদে আশাবাদ, অন্তরে কৌশল : বিএনপির দ্বিমুখী নীতি

জুলাই সনদ স্বাক্ষরের পূর্বে বিএনপির ভেতরে ধারণা ছিল—এই সনদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত এক রাজনৈতিক মোড়ক হিসেবে থাকবে। নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে সনদটিকে “অপ্রয়োজনীয় দলিল” হিসেবে ডাস্টবিনে ফেলে দেওয়া যাবে।
এই মানসিকতা থেকেই তারা একদিকে সনদের পক্ষে অবস্থান নেয়, অপরদিকে সনদের কার্যকারিতা নিয়ে গোপনে সংশয় জিইয়ে রাখে।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভায় বিএনপি তাদের একাধিক প্রস্তাব রাখে—বিশেষত, সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্বাচিত সরকারের স্বাধীনতা বজায় রাখা, এবং রাষ্ট্রপতি অনুমোদন প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত করার সুযোগ রাখা—যা পরে রাজনৈতিক প্রতারণার মূল সূত্র হয়ে দাঁড়ায়।

৩. “জুলাই সনদ” স্বাক্ষর অনুষ্ঠান : উচ্ছ্বাসের ভেতরে অদৃশ্য ফাঁদ

১৭ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় যখন ঐতিহাসিক সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, বিএনপি তখন উচ্ছ্বাসে আত্মহারা।
জামায়াতে ইসলামী যদিও প্রাথমিকভাবে ঘোষণা দিয়েছিল যে তারা “জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে না”, শেষ পর্যন্ত বিএনপির অনুরোধে তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয় এবং সনদে স্বাক্ষর করে।

অন্যদিকে, ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) —যারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মূল দাবিদার ও নায়ক—তারা স্পষ্ট জানায়,

> “জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ উপস্থাপন ও বাস্তবায়ন কাঠামো স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত আমরা স্বাক্ষর করবো না।”

এনসিপির এই অবস্থান ছিল মূলত দূরদর্শিতা ও রাজনৈতিক সতর্কতার প্রতিফলন, যা পরে সঠিক প্রমাণিত হয়।

৪. সরকার ও সনদ বাস্তবায়নের ঘোষণা : প্রতারণার পর্দা উন্মোচন

ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার যখন জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ পাঠ প্রকাশ করে এবং সনদ বাস্তবায়ন নির্দেশনার সিদ্ধান্ত জানায়, তখন বিএনপি বুঝতে পারে—তারা যে নথিতে স্বাক্ষর করেছে, সেটিই এখন তাদের রাজনৈতিক নিয়তি নির্ধারণ করবে।
সনদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি শাহাবুদ্দিন চুপ্পুর স্বাক্ষরেই বাস্তবায়নের আদেশ জারি হবে, যা বিএনপি পূর্বে নিজেদের সুবিধার জন্য সমর্থন করেছিল।
কিন্তু বাস্তব প্রয়োগে সেটিই হয়ে দাঁড়ায় তাদের রাজনৈতিক আত্মঘাত।

৫. এনসিপির কটাক্ষ ও রাজনৈতিক অভিঘাত

বিএনপি যখন “প্রতারণার শিকার” দাবিতে গণভোটে ‘না’-ভোটের পক্ষে প্রচার শুরু করে, তখন এনসিপির নেতা নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী এক তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দেন—

> “আপনারা বিয়ে করে কাবিননামায় স্বাক্ষর করে ফেলেছেন, এখন ফিরে আসার আর সুযোগ নেই।”

এই উক্তি বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থার যথার্থ প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
একবার সনদে স্বাক্ষর করার পর আর পিছনে ফেরার পথ ছিল না।

৬. রাজনৈতিক খাদে পতন : বিএনপির কৌশলগত ব্যর্থতা

এখন বিএনপি জুলাই সনদ প্রত্যাখ্যান বা এর বিরুদ্ধে আন্দোলন করার অবস্থায় নেই।
কারণ, তারা সোৎসাহে সনদে স্বাক্ষর করেছে—জামায়াতে ইসলামীকে সাথে নিয়ে এবং এনসিপিকে উপেক্ষা করে।
ফলত, বিএনপির সামনে এখন এক গভীর রাজনৈতিক খাদ, যেখান থেকে উঠতে তাদের বহু বছর লাগবে।

একজন বিশ্লষকের ভাষায়—

> “বাঘকে খাদে ফেললে শেয়াল যা করে, জামায়াত ও এনসিপির চাতুর্য আজ তাই করছে। বিএনপি প্রতারণা করতে গিয়ে নিজেই প্রতারিত হয়েছে।”

৭. উপসংহার : জুলাই সনদ—রাজনৈতিক বিবর্তনের শিক্ষণীয় অধ্যায়

জুলাই সনদ বাংলাদেশের গণআন্দোলনের ইতিহাসে এক অনন্য অধ্যায়।
এটি শুধু একটি রাজনৈতিক দলিল নয়, বরং সততা, কৌশল, ও দূরদর্শিতার পরীক্ষা।
বিএনপির জন্য এটি এখন আত্মসমালোচনার আয়না—যেখানে প্রতারণার কৌশল নিজেই ফাঁদে রূপ নিয়েছে।

“জুলাই সনদের ফাঁদে বিএনপি”—এই অধ্যায় স্মরণ করিয়ে দেবে,
রাজনীতিতে কৌশল যতই সূক্ষ্ম হোক না কেন, ইতিহাসের বিচারে সত্য ও নৈতিকতার জয় অনিবার্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]