রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০৭ পূর্বাহ্ন
গোদাগাড়ী (রাজশাহী) প্রতিনিধি:
আসন্ন গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপির তৃণমূলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। যোগ্য ও জনপ্রিয় প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল হলে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত এ উপজেলায় দলটি সিট হারাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
দলীয় সূত্র জানায়, গোদাগাড়ী বিএনপির একটি বড় অংশের দাবি, প্রার্থী নির্বাচনে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিতে হবে। এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও অতীতের ত্যাগ বিবেচনায় না নিয়ে শুধু কেন্দ্রীয় প্রভাব বা আর্থিক সক্ষমতা দেখে প্রার্থী মনোনয়ন দিলে সাধারণ ভোটাররা মুখ ফিরিয়ে নিতে পারে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বলেন, “গত কয়েক বছর মামলা-হামলায় যারা মাঠে ছিল, জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে, তাদের বাদ দিয়ে হঠাৎ আসা কাউকে চাপিয়ে দিলে কর্মীরা উজ্জীবিত হবে না। ফলে নির্বাচনী মাঠে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”
এদিকে ক্ষমতাসীন দলের কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী ইতোমধ্যে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও দলীয় সাংগঠনিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে তারা ভোটারদের কাছে টানার চেষ্টা করছেন। এ অবস্থায় বিএনপি প্রার্থী বাছাইয়ে ভুল করলে ভোটের হিসাবে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক কর্মীরা।
উপজেলা বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “গোদাগাড়ী আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাই ক্লিন ইমেজ, ত্যাগী ও এলাকায় পরিচিত মুখ। কেন্দ্র আশা করি তৃণমূলের মতামতকে গুরুত্ব দেবে। আমরা ভুলে ও দলীয় অন্তর্কোন্দলের ফলে এ আসনে এমপি পদটি হারিয়েছি। উপজেলা চেয়ারম্যান পদটা হারালে কর্মীরা আরও দুর্বল হয়ে পড়বে।তাই আমি মনে করি আর ভুল করা যাবে না।যোগ্য ব্যক্তিকে মনোনয়ন দিতে হবে।তবে চূড়ান্ত মনোনয়ন নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। দলীয় হাইকমান্ড জরিপ ও তৃণমূলের মতামত যাচাই-বাছাই করছে বলে জানা গেছে।
গোদাগাড়ী উপজেলার খেটে খাওয়া তৃনমূল মানুষের দাবি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে হযরত চেয়ারম্যানের কোনো বিকল্প নেই।এছাড়াও দলের একাধিক স্তরের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সাংগঠনিক দক্ষতা, জনপ্রিয়তা ও ত্যাগের বিচারে তিনিই এই মুহূর্তে উপজেলায় বিএনপির একমাত্র যোগ্য ব্যক্তি।
উপজেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব এ্যাড. আশরাফ মল্লিক বলেন, “গোদাগাড়ীর মাটি ও মানুষের সাথে হযরত চেয়ারম্যানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিপদে-আপদে তিনিই সবার আগে ছুটে আসেন। কর্মীরা তাকে ছাড়া অন্য কাউকে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানতে রাজি নয়। ভুল প্রার্থী দিলে এই সিট হাতছাড়া হয়ে যাবে।তৃণমূলের জরিপেও হযরত চেয়ারম্যানের জনপ্রিয়তা সবার ওপরে। ক্লিন ইমেজ, সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতার কারণে তিনিই এখন একমাত্র ভরসা। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলা মোকাবিলা করে হযরত চেয়ারম্যান রাজপথে দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিগত সময়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ায় তিনি কর্মীদের কাছে ‘পরীক্ষিত নেতা’ হিসেবে পরিচিত। এছাড়া সাবেক চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে এলাকার রাস্তাঘাট, কৃষি খাত, ন্যায বিচার,সমবন্টন ও আদিবাসী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ন্যায অধিকার আদায়ে তার উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। বিরোধী দলীয় প্রার্থীকে মোকাবিলা করতে হলে দরকার শক্তিশালী ও পরীক্ষিত মুখ। সেই জায়গায় হযরত চেয়ারম্যানের বিকল্প আপাতত বিএনপিতে নেই। দলীয় মনোনয়ন বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আশাবাদী, তৃণমূলের চাওয়াকেই প্রাধান্য দিয়ে হযরত চেয়ারম্যানকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া উচিত।