শনিবার, ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ন
মানুষ চিকিৎসার জন্য বিদেশে যায় বাঁচার আশায়। হাতে থাকে চিকিৎসার কাগজ, মনে থাকে শেষ আশাটুকু—আরও কিছুদিন বাঁচব।
কিন্তু সেই চিকিৎসা ভিসা নিয়েই কলকাতায় গিয়ে যদি একজন ক্যানসার রোগীকে হোটেল থেকে বের করে দেওয়া হয়, যদি অসুস্থ মানুষটি ওষুধের ব্যাগ হাতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রাত কাটানোর জায়গা খোঁজেন—তাহলে সেটি শুধু একজন রোগীর দুর্ভোগ নয়, মানবতার জন্য এক গভীর প্রশ্ন।
তারা রাজনীতি করতে যায়নি। তারা কোনো দাবি নিয়ে যায়নি। তারা গেছে চিকিৎসা নিতে, বাঁচতে।
নিরাপত্তার কারণে কোনো হোটেল বন্ধ করতে হলে অবশ্যই বন্ধ করা হোক। কিন্তু তার আগে সেখানে থাকা অসুস্থ রোগীদের জন্য বিকল্প নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা করা রাষ্ট্র ও প্রশাসনের দায়িত্ব।
আমাদের স্পষ্ট দাবি—
১. চিকিৎসা ভিসাধারী বাংলাদেশি রোগী ও তাঁদের স্বজনদের হোটেল থেকে উচ্ছেদ করার আগে নিরাপদ বিকল্প আবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
২. কলকাতায় বাংলাদেশি রোগীদের জন্য হাসপাতালসংলগ্ন নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রোগী-আবাসন কেন্দ্র চালু করতে হবে।
৩. বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে ২৪ ঘণ্টার জরুরি হেল্পলাইন ও আবাসন সহায়তা ডেস্ক চালু করতে হবে, যাতে কোনো রোগী বিপদে পড়লে তাৎক্ষণিক সহায়তা পান।
৪. যেসব হোটেল চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা রোগীদের বুকিং বাতিল বা বের করে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনসঙ্গত ও মানবিক নীতিমালা কার্যকর করতে হবে।
৫. ভারতীয় কর্তৃপক্ষকে চিকিৎসা ভিসাধারী রোগীদের জন্য নিরাপদ আবাসন, চিকিৎসা ও যাতায়াতের সমন্বিত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৬. বাংলাদেশ সরকারকে ভারত সরকারের সঙ্গে কূটনৈতিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা করতে হবে।
কারণ—
হোটেল বন্ধ হোক, কিন্তু মানবিকতার দরজা বন্ধ হতে পারে না।
একজন কেমোথেরাপি নেওয়া রোগী, একজন বৃদ্ধ হৃদরোগী কিংবা দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত মানুষকে লাগেজ হাতে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে দেওয়া কোনো সভ্য সমাজের পরিচয় নয়।
রোগীর কোনো জাতীয়তা নেই।
ব্যথার কোনো সীমান্ত নেই।
চিকিৎসার কোনো ধর্ম নেই।
আর মানবতার কোনো পাসপোর্ট নেই।
আজ কলকাতার রাস্তায় যে বাংলাদেশি রোগীটি আশ্রয় খুঁজছেন, তিনি কারও কাছে বিদেশি হতে পারেন; কিন্তু তাঁর পরিবারের কাছে তিনিই পুরো পৃথিবী।
তাই আমাদের দাবি খুব পরিষ্কার—চিকিৎসা ভিসা শুধু সীমান্ত পার হওয়ার অনুমতি নয়; একজন অসুস্থ মানুষের চিকিৎসা, নিরাপত্তা, আশ্রয় ও মর্যাদা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতিও হতে হবে।
মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করা মানুষটিকে আরেকটি যুদ্ধের মুখে ঠেলে দেবেন না।
মানুষের পাশে দাঁড়ান।
মানবতার পাশে দাঁড়ান।