শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
ঢাকার আকাশে ১৫ সেপ্টেম্বরের সকালের আলোটা যেন নতুন কোনো মঞ্চের পর্দা উঠিয়ে দিলো। সংবাদকর্মীদের ভিড়ের ভেতর তিন দিক থেকে আসা তিন স্রোত—জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন আর খেলাফত মজলিস—মিলে যেন তিনটি নদীর একত্র প্রবাহ। তারা পৃথক পৃথক মঞ্চে দাঁড়িয়ে একযোগে উচ্চারণ করলো পাঁচটি দাবি, কিন্তু সেই দাবির মর্মে লুকিয়ে আছে একটাই সুর—“জুলাই সনদের অবিলম্বে বাস্তবায়ন।”
এ যেন ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের আগুন থেকে ওঠা ধোঁয়া আজ নতুন করে শিখায় রূপ নিচ্ছে। এনসিপি ছিলো সেই আগুনের জন্মদাতা, অথচ আজকের মিছিলে তাদের ছায়াটুকুও নেই। এককালে তারা যে “নতুন বাংলাদেশ” দেখিয়েছিলো স্বপ্নের আয়নায়, আজ সেই আয়নাটি যেন ঝাপসা হয়ে গেছে—ধুলোপড়া, ফাঁকা, নিঃশব্দ।
কিন্তু ইসলামি দলগুলো? তারা যেন একেকটা দাবানলের মতো দৌড়ে এসেছে। ছাত্রশিবির তরুণদের বুকের ভেতর রোপণ করেছে নতুন এক উদ্দীপনার বীজ। এনসিপি যেখানে হোঁচট খেয়েছে, শিবির সেখানে দৌড়ে গিয়ে জয় করেছে মাটি। ক্লাসরুম থেকে ক্যাম্পাস, চায়ের দোকান থেকে টাউনহল—যেখানে তরুণদের ভিড়, সেখানে শিবিরের আলোড়ন।
পাঁচ দফা দাবির ভেতরে লুকানো আছে এক বিশাল ছক—
(১). জুলাই সনদ বাস্তবায়ন যেন মুক্তির চুক্তিপত্র।
(২). সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR পদ্ধতি) যেন রাজনৈতিক অরণ্যে সুবিচারের বীজ রোপণ।
(৩). Level Playing Field যেন একই আকাশের নিচে সবাইকে সমান বাতাস দেওয়া।
(৪). ফ্যাসিবাদের বিচার যেন অতীতের অন্ধকার গুহায় আলো জ্বালানো।
(৫). স্বৈরাচারের দোসর নিষিদ্ধকরণ যেন নতুন সূর্যের পথে কাঁটা সরানো।
তাদের ঘোষিত সময়সূচি—১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায়, ১৯ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় শহরে, আর ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশে—এ যেন ঢেউয়ের মতো ছড়িয়ে পড়ার নকশা। প্রথম ঢেউ রাজধানীর হৃদয়ে আঘাত করবে, তারপর ছড়িয়ে পড়বে প্রান্তরে, অবশেষে ঢেকে দেবে পুরো ভূখণ্ড।
অন্যদিকে এনসিপি? তারা যেন গ্রীষ্মের বাগানে শুকিয়ে যাওয়া লতাগাছ—যেখানে একসময় ফুল ফোটার কথা ছিলো, সেখানে আজ কেবল ঝরাপাতা। তারা চাইলে জামায়াত-শিবিরের সাথে একীভূত হয়ে আগামীর অভিযাত্রায় অংশ নিতে পারতো, কিন্তু নিজেদের দুর্বলতা আর বিভ্রান্তিতে সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে।
আজকের দিনটি তাই এক উপন্যাসের অধ্যায়ের মতো—যেখানে নায়ক-খলনায়ক পাল্টে যাচ্ছে, যেখানে ইতিহাস আবার নতুন মোড় নিচ্ছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনা যেখান থেকে জন্ম নিয়েছিলো, সেখানেই এখন অন্যরা মশাল হাতে দাঁড়িয়ে আছে। এনসিপির নাম ফিসফিস করে শোনা যায়, কিন্তু মিছিলে তাদের পদধ্বনি নেই।
অবশেষে বলা যায়—বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন এক যুদ্ধক্ষেত্র, যেখানে শূন্যস্থান আর ব্যর্থতার কবরফলকে নতুন শক্তির বিজয়কেতন উড়ছে। আর সেই বিজয়কেতনে লেখা আছে একটাই নাম—“জুলাই সনদ”।
অন্যদিকে এনসিপি? তারা যেন গ্রীষ্মের ঝরাপাতা—আলোড়ন তুলতে না পেরে মাটির নিচে চাপা পড়ে আছে। শিবির যেখানে তরুণদের বুকের ভেতর নতুন স্বপ্ন জ্বালিয়েছে, সেখানে এনসিপি নিঃশব্দ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে নিজের ব্যর্থতার ছায়ায়।
ঢাকার রাস্তায় ভেসে আসা স্লোগানগুলো সেই সত্যিই যেন প্রতিধ্বনিত করলো—
— “ফ্যাসিবাদের বিচার চাই, জুলাই সনদের বিজয় চাই!”
— “তরুণের স্বপ্ন, নতুন রাষ্ট্র—জুলাই সনদের আলোকস্তম্ভ!”
এ যেন উপন্যাসের এক নতুন অধ্যায়—যেখানে এনসিপি কেবল স্মৃতির পাতা, আর ইসলামি দলগুলো ইতিহাসের মঞ্চে জীবন্ত চরিত্র। ছাত্রশিবির জুলাই-ঝাণ্ডা হাতে তরুণ নেতৃত্বে সম্মুখপানে এগিয়ে যাচ্ছে।