মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ০৭:৪৬ অপরাহ্ন
২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫। ডাকসু নির্বাচনের মাত্র ১০ দিন পর ঢাকার এই প্রাচীন শিক্ষাপীঠে যে দৃশ্য দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, তা যেন কোন স্বপ্নের চিত্র। মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় যেন হঠাৎ নতুন প্রাণ পেয়ে গেছে। ছাত্র, ছাত্রী, শিক্ষক, শিক্ষিকা, অভিভাবক—সকলেই একাকার হয়ে এক হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে বিচরণ করছেন। যেন প্রতিটি ফটো ফ্রেমে, প্রতিটি পথচিহ্নে ফুটে উঠেছে এক নতুন ঢাবি।
নববিজয়ী ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে এই পরিবর্তনের আভাস শুরু হয়েছে। কানাডার ইউনিভার্সিটি অব সাসকাচেওয়ানের অধ্যাপক সিরাজুম মুনিরা রুমি একবার তাকে “Global Emerging Youth Icon” আখ্যায়িত করেছিলেন। সেই কথাটি যেন এক ধরনের ম্যাজিক। সাদিক কায়েমের আচরণ, সময়োপযোগী পদক্ষেপ, এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি আন্তরিক মনোভাব একে একে নতুন আইকন তৈরি করছে।
ঢাবির নারীদের জন্য এখন প্রতিষ্ঠানটি যেন নিরাপদ এক বিচরণ ভূমি। হলগুলোতে পরিবর্তনের ছোঁয়া, এমন যে আর কেউ ফ্লোরে শুতে বাধ্য হচ্ছে না। সকলের জন্য খাট ও মানসম্মত খাবার স্বল্প মূল্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। পুরোনো দিনের চাঁদাবাজি, নজরদারি, এবং ইভটিজিং—সবকিছু যেন ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে গেছে।
মসজিদগুলোতে নতুন নতুন এসি লাগানো হয়েছে। লাইব্রেরি, সেমিনার কক্ষ, এবং ল্যাবগুলো এক ভিন্ন পরিবেশে রূপান্তরিত হয়েছে। পাঠকরা, গবেষকরা যেন স্বাচ্ছন্দ্যের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছেন। মেয়েরা বিশেষ সময়ে হাতের কাছেই স্যানিটারি প্যাড ভেন্ডিং মেশিন থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিতে পারছেন।
যেন ঢাবি এখন এক জীবন্ত উপন্যাস। প্রতিটি কর্নার, প্রতিটি ফ্লোর, প্রতিটি পথ যেন তার নিজস্ব গল্প বলছে—কোথাও গল্পের নায়ক, কোথাও গল্পের নায়িকা। হলের বারান্দায় আলো ঝলমল করছে, ল্যাবের টেবিলে ছাত্রছাত্রীদের কণ্ঠে নতুন উদ্যম ফুটে উঠছে।
সদ্য নির্বাচিত ভিপি সাদিক কায়েম একাধারে ভাই, বন্ধু ও পথপ্রদর্শক হয়ে উঠেছেন। তার পদক্ষেপ যেন ঢাবিকে এক নতুন রূপ দিয়েছে—একটি রূপ, যেখানে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ, সৃজনশীল এবং আবিষ্কারের জন্য উদগ্রীব।
এটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয় নয়—এটি এখন এক গল্প, এক জীবনযাত্রা। ডাকসু নির্বাচনের পর ১০ দিনের এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করছে, সঠিক নেতৃত্বের ছোঁয়ায় প্রতিষ্ঠান কিভাবে ফুলের মতো ফুটতে পারে। ঢাবি এখন এক নতুন ক্যানভাস, যেখানে প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজস্ব রঙ যোগ করছে, আর সাদিক কায়েম সেই ক্যানভাসের শিল্পী।
ডাকসু নির্বাচনের এই বিজয় শুধু একজন ছাত্রের নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের। ঢাবি যেন নতুন বাতাসে শ্বাস নিচ্ছে—শান্ত, নিরাপদ, স্বচ্ছ, এবং উদ্ভাবনী। সাদিক কায়েমের প্রভাব এখানে স্থায়ী, এবং তার নেতৃত্বে ঢাবি যেন এক নতুন গল্পের শুরু।
এই গল্প বাংলাদেশের রাজনীতিকে তরুণদের ভূমিকার প্রথম অধ্যায়। ১০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের পর গতচেতনার জাগরণ শুরু হয়েছে। দেশের রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এই তরুণদের হাতেই সূচিত হচ্ছে।