বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

*বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতায় ২.০* — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৬৩ বার ভিউ
সময়ঃ বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন

*১. বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের সাংবাদিকতা*:

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা এক সময় ছিল ক্ষমতার তথ্যভাণ্ডার ও জনগণের কণ্ঠস্বরের মধ্যকার সেতুবন্ধন। কিন্তু ডিজিটাল যুগে এসে সেই সাংবাদিকতা এক নতুন পর্বে প্রবেশ করেছে—যাকে বলা হচ্ছে সাংবাদিকতা ২.০।
এটি শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়; এটি রাজনীতি, রাষ্ট্র, নাগরিক অধিকার ও গণতন্ত্রের সঙ্গে সাংবাদিকতার সম্পর্কের আমূল রূপান্তর।

*২. সাংবাদিকতা ২.০ সম্পর্কিত ধারণা ও বৈশিষ্ট্য*:

সাংবাদিকতা ২.০ বলতে বোঝায়—
নাগরিক ও পেশাদার সাংবাদিকতার সমন্বয়
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক তথ্যপ্রবাহ
লাইভ, ডেটা ও ওপেন-সোর্স সাংবাদিকতা
ঘটনার পেছনের ক্ষমতাকাঠামোর বিশ্লেষণ
এখানে সাংবাদিক আর শুধু সংবাদদাতা নন; তিনি তথ্য যাচাইকারী, ব্যাখ্যাকারী ও প্রশ্নকর্তা।

*৩. কেন সাংবাদিকতা ২.০ জরুরি*:

বাংলাদেশে মূলধারার সাংবাদিকতা দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে—
মালিকানাভিত্তিক সংবাদনীতি
রাজনৈতিক পক্ষপাত
আত্ম-সেন্সরশিপ
রাষ্ট্রীয় বিজ্ঞাপননির্ভরতা
এই বাস্তবতায় সাংবাদিকতা ২.০ বিকল্প কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ফেসবুক লাইভ, ইউটিউব রিপোর্ট, নাগরিক ভিডিও—এসব অনেক সময় মূলধারার মিডিয়ার নীরবতা ভেঙে দেয়।
*৪. রাষ্ট্র বনাম ডিজিটাল সাংবাদিকতা*:
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ২.০-এর প্রধান বাধা রাষ্ট্রীয় কাঠামো।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও পরবর্তী সাইবার আইন
সাংবাদিক ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট গ্রেফতার
“রাষ্ট্রবিরোধী” ব্যাখ্যার বিস্তৃত সংজ্ঞা
ফলে প্রশ্ন উঠে—
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম কি রাষ্ট্রের অনুমতিপ্রাপ্ত ক্ষেত্র,
নাকি নাগরিক অধিকারের স্বাভাবিক পরিসর?
এই দ্বন্দ্বই সাংবাদিকতা ২.০-এর রাজনৈতিক বাস্তবতা।

*৫. তথ্যের বন্যা ও দায়িত্বের সংকট*:

সাংবাদিকতা ২.০ যেমন তথ্যপ্রবাহ দ্রুত করেছে, তেমনি সৃষ্টি করেছে—
গুজব
অর্ধসত্য
পরিকল্পিত অপপ্রচার
বাংলাদেশে বহু ক্ষেত্রে দেখা যায়—সংবেদনশীল রাজনৈতিক ঘটনায় যাচাইহীন তথ্য সমাজে আতঙ্ক ছড়ায়।
এ কারণে সাংবাদিকতা ২.০-এর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা।

*৬. জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও সাংবাদিকতা ২.০*:

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকতা ২.০ একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
লাইভ ভিডিও আন্দোলনের বাস্তবতা তুলে ধরে
নাগরিক সাংবাদিকতা আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে
রাষ্ট্রীয় বয়ানের বাইরে বিকল্প দলিল তৈরি হয়
এই অভিজ্ঞতা প্রমাণ করেছে—সাংবাদিকতা ২.০ ছাড়া আধুনিক গণআন্দোলনের ইতিহাস লেখা অসম্ভব।
*৭. ভবিষ্যৎ সাংবাদিকতা : রাষ্ট্রের নয়, সমাজের দায়*
বাংলাদেশে সাংবাদিকতা ২.০-এর ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তিনটি বিষয়ের ওপর—
সাংবাদিকদের নৈতিক দৃঢ়তা
আইনি সংস্কার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা
নাগরিকদের মিডিয়া-সাক্ষরতা
সাংবাদিকতা যদি কেবল রাষ্ট্রের স্বস্তির জন্য কাজ করে, তবে তা প্রচারযন্ত্রে পরিণত হয়।
কিন্তু যদি তা জনগণের প্রশ্ন তুলে ধরে, তবে তা গণতন্ত্রের শ্বাসপ্রশ্বাস।
উপসংহার : সাংবাদিকতা ২.০ একটি লড়াই
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সাংবাদিকতা ২.০ কেবল একটি প্রযুক্তিগত আপগ্রেড নয়; এটি ভয়, নিয়ন্ত্রণ ও নীরবতার বিরুদ্ধে এক চলমান সংগ্রাম।
যেখানে সাংবাদিকতা ২.০ দমে যায়, সেখানে সত্য অপরাধে পরিণত হয়।
আর যেখানে এটি বেঁচে থাকে, সেখানে ইতিহাস আর চক্ষমতার একচেটিয়া সম্পত্তি থাকে না।
সাংবাদিকতা ২.০ তাই বাংলাদেশে একটি পেশা নয়—একটি নৈতিক অবস্থান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]