বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন
১. ভূমিকা :
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের ইতিহাসে এক অনিবার্য মোড়। এই আন্দোলন জনগণের আত্মত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত, যার মূল মন্ত্র ছিল—
👉 “আগে বৈধতা, পরে নির্বাচন।”
কিন্তু নির্বাচন কমিশন ২৮ আগস্ট যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা এই মন্ত্রকে উপেক্ষা করে নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। এতে স্পষ্ট প্রশ্ন উঠছে—
➡ বৈধতার স্বীকৃতি না নিয়েই কি নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব?
➡ জনগণের অনুমোদন ছাড়া কি কমিশন বা অন্তর্বর্তী সরকার সাংবিধানিকভাবে টিকে থাকতে পারে?
২. অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতার সংকট :
অন্তর্বর্তী সরকার কোনো সাংবিধানিক সরকার নয়। সংবিধান অনুসারে এর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তাই এর প্রতিটি সিদ্ধান্ত আইনি ও নৈতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।
মূল প্রশ্ন হলো—
কোন আইনের বলে তারা নির্বাচন আয়োজন করবে?
জনগণের প্রত্যক্ষ অনুমোদন ছাড়া তাদের রোডম্যাপ কতটা বৈধ?
অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা অস্বচ্ছ থাকায় নির্বাচন কমিশনের ঘোষণাও একইভাবে বৈধতার ঘাটতিতে পড়ে।
—
৩. বৈধতার সোপান :
জুলাই বিপ্লব যে পথ নির্দেশ করেছে, তা হলো বৈধতা ছাড়া কোনো নির্বাচন নয়। এর জন্য প্রয়োজন তিনটি অপরিহার্য ধাপ—
(১). জুলাই সনদ :
জনগণের আত্মত্যাগ, দাবি ও লক্ষ্যকে দলিল আকারে স্বীকৃতি দেওয়া।
(২). গণপরিষদের নির্বাচন :
জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রতিনিধিত্বমূলক পরিষদ গঠন।
(৩). নতুন সংবিধান প্রণয়ন :
জনগণ-অনুমোদিত সংবিধান ছাড়া কোনো নির্বাচন বৈধ হবে না।
৪. জুলাই সনদের তাৎপর্য :
“জুলাই সনদ” কেবল একটি রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয়, বরং বিপ্লবের রক্তস্নাত দলিল। এর মাধ্যমে—
জনগণের স্বপ্ন ও আত্মত্যাগের স্বীকৃতি নিশ্চিত হবে,
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর বৈধতা প্রমাণিত হবে,
ভবিষ্যৎ সংবিধানের ভিত্তি রচিত হবে।
৫. গণপরিষদের অপরিহার্যতা :
সংবিধান অকার্যকর থাকার কারণে, গণপরিষদ গঠন ছাড়া কোনো বৈধ রাষ্ট্র কাঠামো গঠন সম্ভব নয়।
গণপরিষদের মাধ্যমে সংবিধান হাতে পাওয়ার পরিবর্তে, সরাসরি নির্বাচন মানে হলো, জনগণের অনুমোদন বাদ দিয়ে ক্ষমতার প্রতিযোগিতা শুরু করা, যা আবারও রাষ্ট্রকে বৈধতার সংকটে ঠেলে দেবে।
৬. নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপের অস্পষ্টতা :
নির্বাচন কমিশন যে রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে, তা মৌলিক প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়নি—
কোন সাংবিধানিক কর্তৃত্বে তারা রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে?
জনগণের অনুমোদন ছাড়া তারা কি বৈধতা দাবি করতে পারে?
নতুন সংবিধান ছাড়া নির্বাচন আয়োজন কি জনগণের মুক্তির দাবিকে উপেক্ষা করা নয়?
ফলে কমিশনের রোডম্যাপ গণআকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং জুলাই বিপ্লবের মূল চেতনার বিপরীতমুখী।
৭. এখন একমাত্র দায়িত্ব :
বৈধতা ছাড়া নির্বাচন আয়োজন মানে হলো জুলাই বিপ্লবের আত্মত্যাগকে অসম্পূর্ণ রাখা।
অন্তর্বর্তী সরকার ও নির্বাচন কমিশন যদি সত্যিই জনগণের মুক্তির আন্দোলনের ধারক হতে চায়, তবে তাদের একমাত্র দায়িত্ব হলো—
✅ জুলাই সনদকে স্বীকৃতি দেওয়া,
✅ গণপরিষদ নির্বাচন আয়োজন করা,
✅ নতুন সংবিধান প্রণয়ন সম্পন্ন করা।
এর বাইরে যে কোনো নির্বাচন জনগণের চোখে হবে অবৈধ ও অগ্রহণযোগ্য।