শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

মিঠামইনে ভিজিডি চাল বিতরণে দুর্নীতি: ইউপি সচিব ও প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা

সংবাদদাতা / ৪৯ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৬:৩৮ অপরাহ্ন

কিশোরগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলার কেওয়ারজর ইউনিয়নে হতদরিদ্র নারীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিডি (VGD) চাল বিতরণে ঘুষ গ্রহণ ও আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিবের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪ এর আওতায় মামলা হয়েছে।

গত ২০ জুন স্থানীয় সমাজসেবী আখিনুর আক্তার থানায় এই মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ইউপি সচিব মো. আলমগীর হোসেন ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. ওসমান হোসেন প্রত্যেক ভিজিডি কার্ডধারীর কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ঘুষ দাবি করেন। যারা টাকা দিতে পারেননি, তাদের চাল দেওয়া হয়নি।

একজন ভুক্তভোগী বাসিন্দা হারিছ মিয়া জানান, “ইউপি সচিব বলেছেন—টাকা দিলে চাল পাবে, না দিলে নয়।”
মামলার বাদী আখিনুর আক্তার অভিযোগ করেন, “চাল না দেওয়ার পাশাপাশি তারা প্রতিবাদকারীদের হয়রানি করেছে এবং সরকারের চাল আত্মসাৎ করতে চেয়েছে। সচিব আলমগীর হোসেন দুর্নীতির টাকায় কিশোরগঞ্জ শহরের শোলাকিয়া বনানী মোড়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন।”

এ বিষয়ে মিঠামইন উপজেলা নির্বাহী অফিসার খান মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের বক্তব্য নিতে তাঁর কার্যালয়ে গেলে তাঁকে পাওয়া যায়নি।
প্যানেল চেয়ারম্যান ও সচিব বর্তমানে জেল হাজতে থাকায় তাঁদের পক্ষ থেকেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযোগ রয়েছে, সচিব আলমগীর হোসেন পরিষদের বিভিন্ন সেবা—যেমন জন্মনিবন্ধন, বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা প্রাপ্তিতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে গরীব সেবাপ্রার্থীদের পরিষদের ভেতরে অপমান ও লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। কেউ প্রতিবাদ করলে মারধর ও মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলে জানায় এলাকাবাসী।

স্থানীয় সমাজসেবক মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, “এই সচিব ও প্যানেল চেয়ারম্যানের অত্যাচারে আমরা এলাকাবাসী অত্যন্ত ভীত। প্রতিদিন ভয় আর আতঙ্ক নিয়ে জীবনযাপন করছি। তাদের প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।”

এদিকে, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য সাজু বেগমের বিরুদ্ধেও অভিযোগ উঠেছে। আরশি বেগম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, “ভিজিডি চাল পাওয়ার জন্য আমার কাছে ১,০০০ টাকা দাবি করেন সাজু বেগম। আমার ভোটার আইডি কার্ড চেয়েছেন এবং বারবার বাড়িতে এসে টাকা চেয়েছেন। আমি গরীব মানুষ, টাকা না দিতে পারায় আমাকে চাল দেওয়া হয়নি।”

এক সপ্তাহ পার হলেও এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর দাবি—দুর্নীতিতে জড়িত সকল ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]