মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

*ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ২৭২ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২১ পূর্বাহ্ন

১. ফিল্ড মার্শালের অভিনব কূটনীতি*:

মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যেন দীর্ঘদিন ধরেই ধোঁয়ায় ঢেকে আছে—যুদ্ধের, অবিশ্বাসের, আর অদৃশ্য প্রতিদ্বন্দ্বিতার ধোঁয়া। সেই আকাশে হঠাৎই এক অদ্ভুত দৃশ্য—শান্তির সাদা পাখি যেন ডানা মেলতে শুরু করেছে। আর সেই পাখির ছায়াতেই এগিয়ে আসছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, আছিম মুনির—যিনি সম্প্রতি ফিল্ড মার্শালের মর্যাদায় অভিষিক্ত হয়ে এক নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন। পর্যবেক্ষকমহল এটাকে ফিল্ড মার্শালের অভিনব কূটনীতি বলে আখ্যায়িত করেছেন।

*২. মরুর বুকে নতুন সংলাপের বীজ*:
‘ইরান’—যে দেশ বহুদিন ধরেই পশ্চিমা চাপ, আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার মধ্যে আবদ্ধ—সেই দেশের মাটিতে আছিম মুনিরের পদার্পণ যেন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সফর নয়, বরং এক গভীর বার্তা।
এই সফর যেন দাবার বোর্ডে একটি সূক্ষ্ম চাল—যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপে লুকিয়ে আছে সম্ভাব্য শান্তির কৌশল। পাকিস্তান, একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পুরনো মিত্র, অন্যদিকে ইরানের প্রতিবেশী—এই দ্বৈত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে মধ্যস্থতার নতুন ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে চাইছেন।

*৩. সংঘাতের মধ্যেই শান্তির সম্ভাবনা*:
মধ্যপ্রাচ্য মানেই যেন এক অন্তহীন উপাখ্যান—যেখানে যুদ্ধের গল্পই বেশি শোনা যায়। ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের বৈরিতা, সৌদি আরবের সঙ্গে দীর্ঘ প্রতিযোগিতা, আর বৈশ্বিক শক্তির কূটনৈতিক —যখনই কোনো তৃতীয় শক্তি নিরপেক্ষতা ও বাস্তবতার সমন্বয় ঘটাতে পেরেছে, তখনই সংঘাতের মাঝেও শান্তির আলো দেখা গেছে। আছিম মুনিরের সফর সেই সম্ভাবনাকেই আবার উসকে দিয়েছে।

*৪. নীরব কূটনীতির সূক্ষ্ম প্রয়াস*:
কূটনীতির নীরব ভাষা
এই সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো—এটি উচ্চস্বরে ঘোষিত কোনো শান্তিচুক্তি নয়; বরং নীরব কূটনীতির এক সূক্ষ্ম প্রয়াস।
যেন এক কবি শব্দহীন কবিতা লিখছেন—
যেখানে প্রতিটি করমর্দন একটি বার্তা,
প্রতিটি বৈঠক একটি সম্ভাবনা,
আর প্রতিটি নীরবতা একটি সংকেত।
পাকিস্তান এই মুহূর্তে নিজেকে এমন এক সেতু হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, যা ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে বিশ্বাসের ফাঁক পূরণ করতে পারে।

*৫. ভূরাজনীতির নতুন সমীকরণ*:
এই সফরকে শুধুমাত্র দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দৃষ্টিতে দেখলে ভুল হবে। এটি আসলে একটি বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক সমীকরণের অংশ।
চীন ও রাশিয়ার প্রভাব বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে
যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত পুনর্বিন্যাস
এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন জোট গঠনের প্রবণতা
এই সবকিছুর মাঝখানে পাকিস্তান একটি “মিডল পাওয়ার” হিসেবে নিজের অবস্থান দৃঢ় করতে চাইছে।
আছিম মুনির যেন এক দাবাড়ু—যিনি জানেন, সরাসরি আক্রমণ নয়, বরং সঠিক সময়ে সঠিক চালই খেলার মোড় ঘুরিয়ে দেয়।

*৬. শান্তির সুবাতাস—বাস্তবতা নাকি মরীচিকা*
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই সফর কি সত্যিই শান্তির সুবাতাস বয়ে আনবে, নাকি এটি কেবল মরুভূমির মরীচিকার মতো ক্ষণস্থায়ী এক আশা?
বাস্তবতা হলো, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এতটাই জটিল যে একক কোনো সফর তা সমাধান করতে পারে না। কিন্তু ইতিহাসের প্রতিটি বড় পরিবর্তনই শুরু হয়েছে ছোট ছোট পদক্ষেপ থেকে।
এই সফর হয়তো সেই প্রথম পদক্ষেপ—
একটি দরজা খোলার চেষ্টা,
একটি জমাটবদ্ধ নীরবতা ভাঙার উদ্যোগ।
*৭. এক নীরব সূচনার গল্প*:
ফিল্ড মার্শাল আছিম মুনিরের ইরান সফরকে যদি একটি উপন্যাসের অধ্যায় ধরা হয়, তবে এটি নিঃসন্দেহে “প্রস্তাবনা”—যেখানে মূল গল্প এখনো শুরু হয়নি, কিন্তু পাঠক ইতোমধ্যেই বুঝতে পারছে, সামনে কিছু বড় কিছু অপেক্ষা করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত বালুর নিচে হয়তো ধীরে ধীরে জন্ম নিচ্ছে এক নতুন বাস্তবতা—
যেখানে যুদ্ধের শব্দকে ছাপিয়ে উঠবে সংলাপের সুর,
আর অবিশ্বাসের দেয়াল ভেঙে গড়ে উঠবে নতুন আস্থার সেতু।
সেই সেতুর প্রথম ইটটি হয়তো বসানো হয়ে গেছে—
নীরবে, ধীরভাবে, কিন্তু দৃঢ় প্রত্যয়ে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]