বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ন
১. মৃত্যুপদযাত্রী খালেদা জিয়া নিষ্ঠুর নির্বাচনের শিকার :রাজনীতি অনেক সময় কবিতার চেয়ে নিষ্ঠুর।
এই নিষ্ঠুরতার নতুন অধ্যায় যেন রচিত হলো, যখন মৃত্যুপদযাত্রী বেগম খালেদা জিয়া—দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন—কে বিদেশে চিকিৎসায় না পাঠিয়ে বরং তিনটি আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হলো তাঁরই পুত্র ও দলীয় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সিদ্ধান্তে।
এই সিদ্ধান্তে মানবিক প্রশ্নগুলো আজ নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে—“মা নয়, এখন কি শুধু প্রতীক?” মৃত্যুপদযাত্রী বেগম খালেদা জিয়া কী শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠুর নির্বাচনের শিকার হলেন?
২. মায়ের নিঃশ্বাসে রাজনীতির শীতলতা:
গুলশানের নীরব রাতে একটি ঘরে নিভু আলো।
খালেদা জিয়া শয্যাশায়ী, তাঁর দেহ ক্লান্ত, চোখে অনিদ্রার ছায়া।
কিন্তু বাইরে চলছে নির্বাচন প্রস্তুতি, পোস্টারে লেখা—
“জননেত্রী আবার ভোটে।”
হাসপাতালের পরিবর্তে ব্যালটপেপারে তাঁর নাম—
এ যেন রাজনীতির কূটকৌশলের এক নির্মম প্রতিচ্ছবি।
৩. রাজনৈতিক দাবার চালে খালেদা জিয়া বন্দি:
রাজনীতি অনেকটা দাবার মতো—
যেখানে জেতার জন্য প্রিয় গুটিও বিসর্জন দিতে হয়।
কিন্তু এ দাবায় এবার গুটি নয়, মা-ই হলো চালের অংশ।
তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত যেন এক তীব্র প্রতীকী প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—
> “একজন পুত্র কি রাজনীতির মঞ্চে নিজের মাকে উৎসর্গ করতে পারে?”
এক প্রবীণ বিশ্লেষক বলেন,
> “রাজনীতির রণকৌশলে এমন সিদ্ধান্ত হয়তো কৌশলী, কিন্তু মানবতার আদালতে এটি নির্মম।”
৪. চলৎশক্তিহীন একজন মানুষের প্রতি কেমন আচরণ :
> “যে সন্তান রাজনীতিতে জয় চায়, তাকে আগে মানবতার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়।”
মানবিক মূল্যবোধ যেখানে রাজনীতির তলায় চাপা পড়ে,
সেখানেই সমাজের আত্মা নিঃশেষ হয়।
এই ঘটনার মাধ্যমে আমরা যেন সেই শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়ালাম।
৫. সার্বক্ষণিক চিকিৎসার পরিবর্তে সার্বক্ষণিক অত্যাচার :
একজন পুত্র যদি নিজের মায়ের জীবনের প্রতি অবহেলা করে,
তবে সেই অবহেলা একদিন জাতির প্রতিও ফিরে আসে।
বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিশ্চিত করার পরিবর্তে
তাঁকে নির্বাচনের মুখে দাঁড় করানো—
এ যেন মানবিকতার পরাজয়কে রাজনৈতিক কৌশল বলে চালানো।
৬. বিশ্লেষণ:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন,
এ সিদ্ধান্ত বিএনপির অভ্যন্তরে সহানুভূতির চেয়ে শক্তি-প্রদর্শনের বার্তা বহন করছে।
তারেক রহমান হয়তো বোঝাতে চেয়েছেন—
“মা এখনো প্রতীক, মা এখনো লড়াইয়ের নাম।”
কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়—
এই প্রতীক কি জীবনের চেয়ে মূল্যবান?
৭. ইতিহাসের এক নৈতিক দেউলিয়াত্বের ঘটনা :
একজন মায়ের মৃত্যুপথযাত্রী দেহে রাজনীতির প্রতীক ঝুলিয়ে দেওয়া মানে
শুধু অমানবিকতা নয়—এ ইতিহাসের কাছে নৈতিক দেউলিয়াত্বের স্বাক্ষর।
খালেদা জিয়া আজ রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের নয়,
নিজ দলের সিদ্ধান্তের শিকারও বটে।
তাঁর প্রয়োজন ছিল চিকিৎসা, তাঁকে দেওয়া হলো নির্বাচনের ফর্ম।
> “ক্ষমতার সিংহাসনে বসে প্রথম দায়িত্ব হলো মায়ের প্রতি দয়া।”
কারণ যে পুত্র মায়ের আর্তি শুনতে পায় না,
ইতিহাস তাকে যত বড় নেতা বানাক না কেন—
মানুষের চোখে সে থেকে যায় কেবল এক নির্দয় পুত্র।