শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

শিক্ষাক্ষেত্রে বিতর্কিত কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকুন —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৪৫ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৫৯ পূর্বাহ্ন

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের শিক্ষাক্ষেত্র একটি সংবেদনশীল ও জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ। শিক্ষা কেবল জ্ঞান বিতরণের মাধ্যম নয়, বরং মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও সংস্কৃতির ধারকও বটে। তাই শিক্ষা নীতিতে যেকোনো পরিবর্তন জাতির চিন্তাধারা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চরিত্র গঠনে গভীর প্রভাব ফেলে। সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে কিছু পদক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, যা ধর্মপ্রাণ মানুষকে অস্বস্তির মধ্যে ফেলছে।

২. শেখ হাসিনা আমলে ধর্মীয় শিক্ষায় আঘাত :

শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে স্কুল সিলেবাসে ধর্মীয় শিক্ষার অবস্থান দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল।

ধর্মীয় শিক্ষার নম্বর ১০০ থেকে কমিয়ে ৫০ করা হয়।

একইসঙ্গে ধর্মীয় শিক্ষকের সংখ্যা হ্রাস করে বিষয়টিকে প্রান্তিক করার চেষ্টা চলে।

এটি ছিলো মূলত ইসলামি মূল্যবোধকে দমিয়ে রাখার একটি পরিকল্পিত উদ্যোগ, যার ফলে গ্রামীণ ও ধর্মপ্রাণ সমাজে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছিল।

৩. ফ্যাসিবাদ পতনের পর প্রত্যাশা :

ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান হওয়ার পর সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ছিলো—

ধর্মীয় শিক্ষাকে পুনরায় ১০০ নম্বরে উন্নীত করা হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে ইসলামি মূল্যবোধের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে।

এমন পদক্ষেপই শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভারসাম্যপূর্ণ করে তুলতে পারতো এবং জনগণের আস্থা অর্জন করতো।

৪. বিতর্কিত নতুন উদ্যোগ :

কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেখা যাচ্ছে, সেই ঘাটতি পূরণের বদলে নতুন এক বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব পুনর্বহাল না করে, স্কুলে স্কুলে গানচর্চার আয়োজন বাড়ানো হয়েছে। অর্থাৎ, ধর্মীয় শিক্ষকের জায়গা দখল করছে গানের শিক্ষক।

এ ধরনের পদক্ষেপ ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে আঘাত দিচ্ছে। কারণ ধর্মীয় শিক্ষা কমিয়ে গানচর্চা বাড়ানো মানে ইসলামি মূল্যবোধকে আরও প্রান্তিক করার প্রচেষ্টা।

৫. পরিণতি ও ঝুঁকি :

যদি অন্তর্বর্তী সরকার এভাবে বিতর্কিত পদক্ষেপ চালিয়ে যায়, তবে এর কয়েকটি নেতিবাচক ফল হতে পারে:

ধর্মপ্রাণ মানুষের আস্থাহীনতা তৈরি হবে।

সামাজিক বিভাজন ও মতপার্থক্য বাড়বে।

অন্তর্বর্তী সরকারের গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

শিক্ষাক্ষেত্রে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

৬. সুপারিশ :

অন্তর্বর্তী সরকারকে শিক্ষাক্ষেত্রে হটকারিতা থেকে বিরত থাকার জন্য কিছু জরুরি সুপারিশ দেওয়া হলো:
(১). অবিলম্বে ধর্মীয় শিক্ষাকে পুনরায় ১০০ নম্বরে উন্নীত করতে হবে।
(২). পর্যাপ্ত ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
(৩). স্কুলে গানচর্চা বাধ্যতামূলক না করে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাখা যেতে পারে।
(৪). জাতীয় ঐতিহ্য, ধর্মীয় মূল্যবোধ ও জনগণের সংবেদনশীলতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

৭. উপসংহার :

অন্তর্বর্তী সরকারকে মনে রাখতে হবে, জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের একমাত্র উপায় হলো ন্যায়সঙ্গত ও ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ। শিক্ষাক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা হলো সমাজের নৈতিক ভিত্তি। তাই বিতর্কিত কর্মকাণ্ড না করে, বরং ধর্মীয় শিক্ষার মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]