মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় শ্রীপুর উপজেলায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালি বিজ্ঞানের জয়যাত্রা: মিরপুরে প্যারাডাইজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে বিজ্ঞান মেলা ২০২৬ অনুষ্ঠিত মাগুরায় চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং টার্মিনাল ইজারা চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত মাগুরার শ্রীপুরে নবাগত ইউএনও’র সাথে প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের মতবিনিময় অনুষ্ঠিত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রধান আইন বিষয়ক উপদেষ্টা হলেন মাগুরার অ্যাড. কাজী আব্দুর রশিদ Five Historic Challenges Facing Tarique Rahman* *— Professor M. A. Barnik তারেক রহমানের পাঁচটি ঐতিহাসিক চ্যালেঞ্জ* *— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় শিশু একাডেমির আয়োজনে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন   মাগুরায় আর্দশ শিক্ষক ফেডারেশনের আয়োজনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত মাগুরায় ৮ হাজার ইয়াবা ও নারীসহ ৩ মাদক কারবারি আচক! টাকা ও বাইক জব্দ!

আজ থেকে সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শুরু

সংবাদদাতা / ১২২ বার ভিউ
সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:০৫ পূর্বাহ্ন

আবু রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার-

সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ (১ জুন) থেকে আগামী তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ নিষেধাজ্ঞা আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ সময় কাঁকড়া আহরণ, মধু সংগ্রহ, মাছ ধরা এবং পর্যটকদের প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রতিবছরের মতো এবারও সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মাছ, জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর প্রজনন নির্বিঘ্ন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সুন্দরবনসংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে জেলে, বাওয়ালী, মৌয়াল ও বনজীবীদের নিষেধাজ্ঞা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে আগস্ট মাস সুন্দরবনের অধিকাংশ মাছ, জলজ প্রাণী ও বন্যপ্রাণীর প্রধান প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়ে এবং বনের উদ্ভিদরাজির স্বাভাবিক পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া চলে। ফলে বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করতে এ সময় মানুষের প্রবেশ সীমিত রাখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে জেলে, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য নতুন করে কোনো পাশ বা অনুমতিপত্র দেওয়া বন্ধ করা হয়েছে। বন বিভাগ জানিয়েছে, ১ জুন থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার আগে সবাইকে বন এলাকা ত্যাগের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সুন্দরবন পশ্চিম বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এজেডএম হাছানুর রহমান বলেন, গত ২৪ মে থেকেই নতুন কোনো পাশ ইস্যু করা হচ্ছে না। সুন্দরবননির্ভর জেলে পরিবারগুলোর সম্ভাব্য দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে খাদ্য সহায়তা ও প্রণোদনার প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়া হবে।

সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, বন্যপ্রাণীর প্রজনন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এ সময়ে কাউকে সুন্দরবনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে বন বিভাগের টহল কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালে সুন্দরবনে মৌসুমি নিষেধাজ্ঞা কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুতে এর মেয়াদ ছিল দুই মাস। পরে মৎস্য বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা তিন মাসে উন্নীত করা হয়। ২০২১ সাল থেকে প্রতি বছর ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত সুন্দরবনে মাছ ধরা, মধু সংগ্রহ, পর্যটন কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ রাখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই তিন মাসের বিরতিতে সুন্দরবনের মাছ, বন্যপ্রাণী ও বনজ সম্পদের প্রজনন ও বৃদ্ধি নিশ্চিত হবে এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বনটির পরিবেশগত ভারসাম্য আরও শক্তিশালী হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]