রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পূর্বাহ্ন
১. মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারে বিরাট ঘাটতি* ২০২৬ সালের ইরান যুদ্ধ সেই ধারণায় বড় ধরনের প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।
সাম্প্রতিক মার্কিন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন এবং Center for Strategic and International Studies (CSIS)-এর বিশ্লেষণ বলছে, বিষয়টি এখন আর নিছক আশঙ্কা নয়। যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ precision-guided missile এবং missile-defence interceptor-এর মজুত যুদ্ধের কয়েক মাসের মধ্যেই বিপজ্জনকভাবে কমে গেছে। সবচেয়ে উদ্বেগজনক হলো—এই অস্ত্রগুলো পুনরায় আগের পর্যায়ে ফিরিয়ে আনতে কয়েক মাস নয়, কিছু ক্ষেত্রে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
*২. ATACMS ও PrSM: প্রায় শেষের পথে*
৪ আগস্ট Reuters একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান প্রকাশ করে।
তিনজন এমন ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে Reuters জানায়, ইরানের সঙ্গে পাঁচ মাসের যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র তার Army Tactical Missile Systems বা ATACMS এবং নতুন প্রজন্মের Precision Strike Missile (PrSM)-এর মজুতের বড় অংশ ব্যবহার করেছে।
দুই সূত্রের বক্তব্য ছিল আরও কঠোর—এই দুই ধরনের দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের “virtually all” ব্যবহার হয়ে গেছে।
অর্থাৎ যে অস্ত্রগুলো দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুল আঘাত হানার জন্য মার্কিন সেনাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ, সেগুলোর মজুত এখন অত্যন্ত সীমিত পর্যায়ে নেমে এসেছে। Reuters অবশ্য উল্লেখ করেছে যে তারা সংশ্লিষ্ট মজুতসংখ্যা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
CBS News-ও পৃথকভাবে একই তথ্যের সত্যতা সম্পর্কে সরাসরি জ্ঞান থাকা দুই সূত্রের বক্তব্য প্রকাশ করে—যুক্তরাষ্ট্র প্রায় তার সমগ্র বৈশ্বিক ATACMS ও PrSM মজুত ব্যবহার করেছে।
এখানেই প্রথম বড় প্রশ্ন:
একটি পরাশক্তি যদি একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে তার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় পুরো মজুত ব্যবহার করে ফেলে, তাহলে বৃহত্তর কোনো যুদ্ধের ক্ষেত্রে তার প্রস্তুতির অবস্থা কী হবে?
*৩. Patriot: আকাশ প্রতিরক্ষার সবচেয়ে বড় উদ্বেগ*
আরও ভয়াবহ চিত্র দেখা যাচ্ছে Patriot interceptor-এর ক্ষেত্রে।
CSIS-এর ২৭ জুলাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধের সময় মার্কিন বাহিনী বিপুলসংখ্যক air-defence interceptor ব্যবহার করেছে। তাদের হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রের Patriot মজুত ১,০০০-এর নিচে নেমে গেছে। একই সময়ে THAAD interceptor-এর মজুত প্রায় ২৫০-এর কাছাকাছি ছিল।
CBS News, CSIS-এর জুলাইয়ের হিসাব উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুমানিক ২,৩৩০টি Patriot interceptor ছিল। জুলাইয়ের শেষদিকে সেই সংখ্যা কমে ৭৫৯ থেকে ৮২৭টির মধ্যে নেমে আসতে পারে বলে CSIS অনুমান করেছে।
অর্থাৎ যুদ্ধ শুরুর আগের মজুতের তুলনায় Patriot-এর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এটি কেন এত গুরুত্বপূর্ণ—–
কারণ Patriot কোনো সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্র নয়। এটি শত্রুর ballistic missile ও অন্যান্য আকাশগত হুমকি প্রতিহত করার অন্যতম প্রধান মার্কিন ব্যবস্থা।
*৪. THAAD-এর অবস্থাও সংকটজনক*
THAAD—Terminal High Altitude Area Defense—হলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ballistic-missile defence ব্যবস্থাগুলোর একটি।
CSIS-এর হিসাবে যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আনুমানিক ৪৫২টি THAAD interceptor ছিল। জুলাইয়ের শেষদিকে সেটি কমে আনুমানিক ২৩৪–২৭৮টির মধ্যে নেমে আসে।
অর্থাৎ এই ব্যবস্থারও প্রায় ৪০–৫০ শতাংশের মতো মজুত যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারে।
Reuters-এর অনুসন্ধানেও CSIS-এর এই হিসাবের সঙ্গে মার্কিন সরকারের অভ্যন্তরীণ তথ্যের মিল থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—
Patriot ও THAAD-এর সহজ বিকল্প নেই।
CSIS স্পষ্ট করে বলেছে, এই interceptor-এর মজুত কমে গেলে ballistic missile প্রতিহত করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে ভালো বিকল্প খুব সীমিত।
*৫. Tomahawk-এও বড় ধাক্কা*
মার্কিন নৌবাহিনীর অন্যতম প্রধান long-range cruise missile হলো Tomahawk।
Washington Post জানিয়েছে, যুদ্ধের প্রথম চার সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ৮৫০টির বেশি Tomahawk নিক্ষেপ করেছিল। পরবর্তী CSIS হিসাব অনুযায়ী ব্যবহারের সংখ্যা ১,০০০ ছাড়িয়েছে। যুদ্ধের আগে যুক্তরাষ্ট্রের Tomahawk মজুত আনুমানিক ৩,১০০ থেকে ৪,৫০০-এর মধ্যে ছিল বলে CSIS অনুমান করেছে।
Reuters-এর সূত্র আবার বলেছে, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক Tomahawk মজুতের অর্ধেকের কাছাকাছি ব্যবহার করেছে। Reuters অবশ্য এই নির্দিষ্ট সংখ্যাটি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ফলে Washington এখন শুধু যুদ্ধ পরিচালনা করছে না; একই সঙ্গে অস্ত্রভাণ্ডার পুনর্গঠনের জন্য বিশাল অর্থ ও শিল্প সক্ষমতা নিয়োগ করছে।
*৬. JASSM-ও রেহাই পায়নি*
Joint Air-to-Surface Standoff Missile বা JASSM হলো মার্কিন বিমানবাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ stealthy long-range missile।
Washington Post-এর আগস্টের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, Pentagon যুদ্ধের সময় JASSM-এর prewar stock-এর প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করেছে বলে CSIS-এর এপ্রিলের হিসাব উল্লেখ করা হয়।
অর্থাৎ সমস্যা একটি অস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়।
দীর্ঘপাল্লার আক্রমণাত্মক অস্ত্র, cruise missile এবং missile-defence interceptor—একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শ্রেণিতেই মজুত কমেছে।
সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয়: অস্ত্র তৈরি করা যতটা সহজ মনে হয়, বাস্তবে ততটা নয়
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন—
“আমেরিকা তো চাইলে নতুন অস্ত্র বানাতে পারে।”
অবশ্যই পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো উৎপাদনের গতি।
CSIS-এর মে মাসের বিশ্লেষণে বলা হয়, Tomahawk, THAAD এবং Patriot-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত prewar level-এ ফিরিয়ে নিতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে। Standard Missile-এর ক্ষেত্রে প্রায় দুই বছর এবং JASSM ও PrSM-এর ক্ষেত্রে কয়েক মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
অর্থাৎ যুদ্ধক্ষেত্রে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করতে সময় লাগে কয়েক মিনিট।
কিন্তু সেটি পুনরায় উৎপাদন করতে সময় লাগে মাস বা বছর।
এটাই আধুনিক যুদ্ধের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা।
*৭. Tomahawk উৎপাদন ৬০ থেকে ১,০০০-এর বেশি করার উদ্যোগ*
আমেরিকা যে সমস্যাটি উপলব্ধি করেছে, তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ হলো নতুন উৎপাদন চুক্তি।
১৭ আগস্ট Reuters জানায়, যুক্তরাষ্ট্র Raytheon-এর সঙ্গে ২২.৯ বিলিয়ন ডলারের সাত বছরের চুক্তি করেছে Tomahawk উৎপাদন ব্যাপকভাবে বাড়ানোর জন্য।
বর্তমানে বছরে প্রায় ৬০টি Tomahawk উৎপাদিত হলেও নতুন পরিকল্পনায় বার্ষিক উৎপাদন ১,০০০-এর বেশি করার লক্ষ্য রয়েছে।
সংখ্যাটি দেখলেই সংকটের গভীরতা বোঝা যায়।
যে অস্ত্রের মজুত যুদ্ধের সময় দ্রুত কমে গেছে, সেটির উৎপাদন এখন প্রায় ১৬ গুণের বেশি বাড়ানোর উদ্যোগ নিতে হচ্ছে।
এটি শুধু অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর খবর নয়।
এটি কার্যত স্বীকারোক্তি যে—
বর্তমান উৎপাদন ক্ষমতা দীর্ঘমেয়াদি উচ্চমাত্রার যুদ্ধের জন্য যথেষ্ট নয়।
Patriot ও THAAD-এর উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে
৩১ আগস্ট Pentagon General Dynamics Ordnance and Tactical Systems এবং Lockheed Martin-এর সঙ্গে সাত বছরের চুক্তি করেছে।
লক্ষ্য হলো THAAD এবং Patriot PAC-3 MSE interceptor-এর গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহ দ্রুত করা।
অর্থাৎ Washington এখন একই সঙ্গে তিনটি কাজ করছে—
যুদ্ধ চালানো, অস্ত্রের মজুত রক্ষা করা এবং নতুন অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানো।
কিন্তু উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিজেই প্রমাণ করে যে বর্তমান মজুত ও উৎপাদন ক্ষমতা নিয়ে Pentagon সন্তুষ্ট নয়।
*৮. চীনের সঙ্গে যুদ্ধ হলে কী হবে?*
এখানেই বিষয়টি আমেরিকার ভবিষ্যৎ সামরিক শক্তির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরান যুদ্ধের কারণে মার্কিন অস্ত্রভাণ্ডারের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা নিয়ে Washington-এর মিত্রদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
Washington Post ২৬ আগস্ট জানায়, এশিয়ার মার্কিন মিত্ররা—বিশেষ করে জাপান ও তাইওয়ান—মার্কিন অস্ত্র সরবরাহে সম্ভাব্য বিলম্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তাইওয়ানের কাছে বিক্রির জন্য অনুমোদিত প্রায় ৩০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন অস্ত্র এখনও সরবরাহ করা হয়নি। এর মধ্যে Patriot missile-এর অর্থমূল্যও রয়েছে। জাপানের Tomahawk সরবরাহেও বিলম্বের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আর CSIS-এর ভাষায়, depleted stockpile যুক্তরাষ্ট্রকে একটি “window of vulnerability”-এর মধ্যে ফেলেছে—বিশেষ করে Western Pacific-এ সম্ভাব্য চীনা সংঘাতের ক্ষেত্রে।
অর্থাৎ আজকের প্রশ্ন শুধু—
“আমেরিকার কাছে কত অস্ত্র আছে?”
তা নয়।
প্রশ্ন হলো—
“একই সময়ে যদি মধ্যপ্রাচ্য ও প্রশান্ত মহাসাগর—দুই জায়গায় বড় যুদ্ধ শুরু হয়, আমেরিকা কতদিন তার অস্ত্রভাণ্ডার ধরে রাখতে পারবে?”
তাহলে কি আমেরিকার পতন শুরু হয়ে গেছে?
এখানে বাস্তবতা ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণকে আলাদা করতে হবে।
না—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি শেষ হয়ে যায়নি।
CSIS নিজেই বলেছে, ইরান যুদ্ধের সম্ভাব্য পরিস্থিতি মোকাবিলা করার মতো যুক্তরাষ্ট্রের পর্যাপ্ত সামরিক সক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু যুদ্ধের ফলে মজুত কমে যাওয়ায় ভবিষ্যৎ, বিশেষ করে চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতের ক্ষেত্রে একটি ঝুঁকিপূর্ণ সময় তৈরি হয়েছে।
তাই “আমেরিকার অস্ত্রভাণ্ডার ফুরিয়ে গেছে”—এ কথা পুরোপুরি সত্য নয়।
কিন্তু আরও গুরুত্বপূর্ণ সত্য হলো—
আমেরিকার কিছু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত ভয়াবহভাবে কমে গেছে এবং সেই ঘাটতি দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়।
এটাই আসল সংকট।
শেষ কথা
একটি পরাশক্তির পতন সাধারণত একদিনে ঘটে না।
প্রথমে তার অর্থনৈতিক শক্তিতে চাপ আসে।
তারপর শিল্পক্ষমতায় চাপ পড়ে।
এরপর সামরিক সক্ষমতার কোনো কোনো জায়গায় ফাটল দেখা দেয়।
শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বীরা সেই ফাটলগুলোকে কাজে লাগানোর সুযোগ খুঁজতে থাকে।
বর্তমান মার্কিন অস্ত্রসংকটকে তাই সরাসরি “আমেরিকার পতন” বলে ঘোষণা করা হয়তো সময়ের আগেই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হবে।
কিন্তু এটিকে আমেরিকার সামরিক শ্রেষ্ঠত্বের ওপর একটি গুরুতর সতর্কসংকেত হিসেবে দেখা যথেষ্ট যৌক্তিক।
কারণ—
ATACMS ও PrSM-এর মজুত প্রায় শেষের পথে।
Patriot-এর মজুত ১,০০০-এর নিচে নেমে গেছে বলে CSIS অনুমান করছে।
THAAD-এর মজুত প্রায় ২৫০-এর কাছাকাছি।
Tomahawk-এর ১,০০০-এর বেশি ব্যবহার হয়েছে বলে CSIS-এর হিসাব।
আর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অস্ত্রের prewar inventory ফিরিয়ে আনতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।
*৯. তাহলে সংকটটি কোথায়?*
সংকটটি হলো—
আমেরিকা এখনও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক শক্তিগুলোর একটি; কিন্তু তার অস্ত্রভাণ্ডার আর আগের মতো “অসীম” নয়।
আর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে একটি পরাশক্তির জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত তখনই আসে, যখন তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা বুঝতে শুরু করে—
শক্তি আছে, কিন্তু সেই শক্তিকে দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োগ করার মজুত সীমিত।
সেই জায়গাতেই আমেরিকার বর্তমান অস্ত্রসংকটকে কেবল একটি সামরিক সমস্যা নয়,
বরং ভবিষ্যৎ মার্কিন আধিপত্যের জন্য একটি বড় ভূ-রাজনৈতিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা প্রয়োজন।