শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

খালেদা ও তারেক-শূন্য বিএনপির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ — অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ১৫১ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ন

১. বিএনপির মধ্যে হাহাকার :
রাজনীতির ইতিহাসে এমন কিছু অধ্যায় আছে, যেগুলো পড়লে বুকের ভেতর হাহাকার জমে ওঠে, আর কলম কেঁপে যায় ব্যথার ভারে। আজকের বিএনপির বাস্তবতা ঠিক তেমন—নেত্রীহীন, উত্তরসূরিহীন, যেন রাত্রির গভীরে এক বাতিঘর নিভে যাওয়া দ্বীপ, যেখানে ঢেউ আছে, তীব্র স্রোত আছে, কিন্তু নেই কোনো পরিচিত আলো, নেই ফিরে আসার আশ্বাস।

২. উত্তরসূরিহীন যাত্রা :

বেগম খালেদা জিয়া—যিনি একসময় ছিলেন বিএনপির সমগ্র যাত্রাপথের অবিনাশী স্পন্দন—আজ শারীরিক অবসাদের শেকলে বন্দি।
তারেক রহমান—যিনি ছিলেন দলের ভবিষ্যৎ, দৃষ্টিভঙ্গি, কৌশল—তিনি আছেন দূর দেশে, এক অদৃশ্য শাস্তির অন্ধকারে আটকে।

এই দুই শূন্যতা একসাথে মিলেই গড়ে দিয়েছে এক অসহনীয় নীরবতা—
যেন মায়ের অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়া ঘর, আর বাবার বিদেশযাত্রায় নিঃসঙ্গ হয়ে পড়া সন্তানের কান্না।

দল আজ সেই এতিম সন্তানের মতো—যার চোখে ভয়, হৃদয়ে শূন্যতা, আর সামনে কেবল অন্ধকার পথ।

৩. রাজপথে ছড়িয়ে পড়ছে দীর্ঘশ্বাস:

যারা তপ্ত জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে বুকের ওপর গুলির নিশান বহন করেছে,
যারা মায়ের মতো নেত্রীর নামে স্লোগান দিয়ে অশ্রু ফেলেছে,
তারা আজ হতাশার চাদরে মোড়া।

তাদের কণ্ঠে একটাই কান্না—

“আমাদের নেতা কোথায়? আমাদের ভবিষ্যৎ কোথায়?”

কেউ বলে, তারেক ভাই ফিরলে আন্দোলন আবার জ্বলে উঠবে।
কেউ বলে, তিনি পারবেন না ফিরে আসতে।
আর কেউ বলে, তার ফিরতে না পারাটা প্রমাণ করে দেয় দলটি অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় বন্দি।

এই অসহায়তার অনুভূতিটাই আজ বিএনপির মূল সুর—
এক দীর্ঘশ্বাস, যা ঝড়ের ভেতরেও শোনা যায়।

৪. দলের ভেতর ভাঙনের অদৃশ্য স্রোত:

নেতৃত্ব যখন সামনে থাকে না, তখন অদৃশ্য বলয় জন্ম নেয়।
একেক জন নেতা একেকটি ছোট নক্ষত্র হয়ে ওঠেন—
কিন্তু সেই নক্ষত্রগুলো কখনো একত্রে আকাশ সাজাতে পারে না।

বিএনপির ভেতরে এখন গোপন প্রতিযোগিতা—
কে তারেক রহমানের প্রতি বেশি অনুগত?
কে নতুন নেতৃত্ব সৃষ্টি করতে চায়?
কে কোন বলয়ের মানুষ?

এই ভাঙন নিঃশব্দ, কিন্তু প্রবল।
এটি অনেকটা নদীর নিচে চলমান ঘূর্ণির মতো—
উপরের পানি শান্ত, কিন্তু তলদেশে ভয়ংকর টান।

দলকে এগিয়ে নেওয়ার চেয়ে বেশি কথা এখন
কে কাকে পছন্দ করে,
কে কাকে ভয় পায়,
আর কে কাকে ছাপিয়ে উঠতে চায়।

৫. আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক নিঃসঙ্গ দল:

তারেক রহমান বলেছেন—এক অদৃশ্য ‘তৃতীয় শক্তি’ তাঁর সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করে।
এই কথাটি শুধু তাঁর নয়,
এটি পুরো দলের কূটনৈতিক অবস্থানকে করে তুলেছে মেঘাচ্ছন্ন।

যে দলে
নেত্রী শয্যাশায়ী,
উত্তরসূরি দেশান্তরিত,
এবং ভেতরে ভাঙন—
সে দলের কূটনৈতিক বিশ্বস্ততা স্বভাবতই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে।

বিদেশি মিত্ররা জানতে চায়—
“আপনাদের আগামী নেতা কে?”
“দলের সিদ্ধান্ত কে নেয়?”
“কার ওপর আমরা বিশ্বাস রাখব?”

কিন্তু বিএনপির কাছে নেই কোনো স্পষ্ট উত্তর।
এ যেন সমুদ্রের মাঝে দিক হারানো জাহাজ—
যার পতাকা আছে, যাত্রীরাও আছে,
কিন্তু ক্যাপ্টেন নেই।

৬. সামনে কুয়াশায় ঢাকা অদৃশ্য রাস্তা:

বিএনপির সামনে দু’টি পথ—
একটি ভীষণ কঠিন, আরেকটি আরও কঠিন।

প্রথম পথ—দল পুনর্গঠন, নতুন নেতৃত্ব তৈরি, সুসংগঠিত নীতি নির্ধারণ।
এই পথটি কঠিন, কারণ এতে দলকে নিজেকে পুনর্জন্ম দিতে হবে।

দ্বিতীয় পথ—বর্তমান অচলাবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে সময়ের অপেক্ষা।
এই পথটি আরও কঠিন, কারণ সময় কখনো দয়া করে না;
এটি সব দুর্বলতাকে উন্মোচন করে দেয়।

যদি বিএনপি এই শূন্যতা থেকে শক্তি খুঁজে নিতে পারে,
যদি নতুন আলো ফুটাতে পারে,
যদি তারেক রহমানের অনুপস্থিতিতেও সংগঠন দাঁড় করাতে পারে—
তাহলে সামনে আবারও আলো আসতে পারে।

কিন্তু যদি তা না পারে—
তাহলে দলের ভেতরের ভাঙন, বাইরে থেকে চাপ,
এবং নেতৃত্বহীনতার দীর্ঘশ্বাস তাকে আরও দুর্বল করে দেবে।

৭. সময়ের দিকে তাকিয়ে এক নিঃসঙ্গ প্রার্থনা:

আজ বিএনপি দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নির্মম মোড়ে।
খালেদা জিয়ার অবসাদগ্রস্ত নীরবতা,
তারেক রহমানের অদৃশ্য শেকল,
এবং দলের ভেতরকার ভাঙনের ব্যথা—
সব মিলেই যেন এক দীর্ঘ করুণ গীতির মতো।

এই গীতিটিতে আছে কান্না,
আছে বেদনা,
আছে ভাঙা স্বপ্নের গন্ধ।

সময় বলবে—
এই দলটি আবার দাঁড়াতে পারবে কি না,
নাকি রাজনৈতিক ইতিহাসে আরেকটি ম্লান অধ্যায় হয়ে হারিয়ে যাবে।

আজ তারা শুধু একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে—

“নেত্রীহীন, উত্তরসূরিহীন এই ভবিষ্যত—
আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে?”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]