শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

গণঅভ্যুত্থানোত্তর ডাকসু নির্বাচনে ইসলামের বিজয় —- অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৬৮ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ন

১. প্রথম সফল নির্বাচনের মডেল:

২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়। স্বৈরাচার পতনের মধ্য দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক চর্চা ফিরে আসে। এরই ধারাবাহিকতায় বহু প্রতীক্ষিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশে। উল্লেখযোগ্যভাবে, এই নির্বাচন সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হয়, যা দেশের ছাত্ররাজনীতির জন্য এক ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

এই নির্বাচনে একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হলো – ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয়। বহু বাধা, প্রতিকূলতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা অতিক্রম করে ছাত্রশিবির যে পরিমাণ ভোটে বিজয় অর্জন করেছে, তা শুধু একটি সংগঠনের রাজনৈতিক সাফল্য নয়, বরং তরুণদের চিন্তাধারায় একটি সুস্পষ্ট পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে।

২. তারুণ্যের রায়ের তাৎপর্য :

বর্তমান তরুণ সমাজ কেবল আবেগ নয়, বরং যুক্তি, আদর্শ ও নীতিনৈতিকতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে শিখেছে। ভোটারদের এই মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয়ের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তারা নির্বাচনী প্রচারে যে শৃঙ্খলা, নীতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলেছে – তা ছাত্রদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে।

তরুণরা এবার এমন নেতৃত্ব চেয়েছে যারা কেবল প্রতিশ্রুতি নয়, বরং আদর্শিকভাবে প্রতিষ্ঠিত, শৃঙ্খলাপূর্ণ এবং নৈতিক মানদণ্ডে উত্তীর্ণ। ইসলামী ছাত্রশিবির এই প্রত্যাশার সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম ও প্রচারে সঙ্গতি স্থাপন করতে পেরেছে।

৩. বাধা, প্রতিকূলতা ও সাফল্যের গল্প :

ইসলামী ছাত্রশিবিরের নির্বাচনমুখী যাত্রা মোটেও সহজ ছিল না। রাজনৈতিক মেরুকরণ, প্রতিপক্ষের চাপ এবং প্রশাসনিক জটিলতা থাকা সত্ত্বেও তারা তাদের প্রস্তুতি ও পরিকল্পনায় কোনো ঘাটতি রাখেনি। শিক্ষার্থীদের কাছে তারা সুপরিচিত ছিল মূলত তাদের নিয়মিত শিক্ষামূলক ও নৈতিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য। সেই ভাবমূর্তি নির্বাচনে সুফল বয়ে আনে।

নির্বাচনের দিন সকাল থেকেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা বা সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি। নির্বাচনী পরিবেশ ছিল অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। সকল প্রতিদ্বন্দ্বী সংগঠনের উপস্থিতিতেই ভোটগ্রহণ শেষ হয়।

৪. বিজয়ের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা :

ডাকসুতে ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় তাদের নীতি ও দর্শনের স্বীকৃতি হলেও, এটি তাদের জন্য এক বড় দায়িত্বও বটে। এখন তাদের প্রমাণ করতে হবে যে তারা কেবল নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে নয়, বাস্তব নেতৃত্বেও শিক্ষার্থীদের আশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম।

শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের অধিকার, আবাসন, নিরাপত্তা, এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে কী ভূমিকা তারা রাখতে পারে – তার উপরই নির্ভর করবে ভবিষ্যতের ছাত্ররাজনীতিতে তাদের অবস্থান।

৫. আশার আলো:

ডাকসু নির্বাচন প্রমাণ করেছে, গণতন্ত্রের বিকাশে তরুণরাই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে পারে। ইসলামী ছাত্রশিবিরের বিজয় শুধুমাত্র একটি সংগঠনের অর্জন নয় – এটি তরুণদের চেতনায় আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রতি আস্থার প্রতিফলন। এই নির্বাচন বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, যেখানে ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও নৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা আবারো প্রমাণিত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]