শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত যুবদল নেতা ফয়েজ মোল্লার, ঢামেকে খোঁজ নিলেন ব্যারিস্টার মাহাবুব উদ্দিন খোকন এমপি বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik

ড. মুহম্মদ ইউনূসের বৈধতা সংকট ও নতুন ধরণের আন্দোলন —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৬৫ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

ড. মুহম্মদ ইউনূসের বৈধতা সংকট ও নতুন ধরণের আন্দোলন
—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

১. ভূমিকা :

বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সাম্প্রতিক সময়ে যে নতুন ধরণের আন্দোলন শুরু হয়েছে, তা মূলত ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রশ্নকে ঘিরে আবর্তিত। ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফতে মজলিসসহ কয়েকটি ইসলামি দল ‘জুলাই সনদ’-সহ পাঁচ দফা দাবি নিয়ে যে কর্মসূচি শুরু করেছে, তা পর্যবেক্ষক মহলের কাছে এক ভিন্নমাত্রিক রাজনৈতিক প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

২. জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট :

২০২৪ সালের ৮ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্যায়ে ড. মুহম্মদ ইউনূসকে প্রধান উপদেষ্টা করে অন্তর্বর্তী সরকারের যাত্রা শুরু হয়। তবে এই সরকারের অবস্থান ছিল সাংবিধানিকভাবে অস্পষ্ট ও আইনি প্রশ্নবিদ্ধ।

রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের মতামতের ভিত্তিতে শপথ গ্রহণ করালেও সরকারের মেয়াদকাল ও কার্যপরিধি নিয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা ছিল না।

গণ-অভ্যুত্থানের নেতৃবৃন্দ পরবর্তীতে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ প্রণয়ন করার দাবি জানান, যার উদ্দেশ্য ছিল —
(১). একটি Constituent Assembly নির্বাচন আয়োজন,
(২). নতুন সংবিধান রচনা,
(৩). সেই মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা প্রতিষ্ঠা।

অর্থাৎ, জুলাই সনদ ছিল ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক স্বীকৃতির একমাত্র ভিত্তি।

৩. বৈধতার সংকট :

সমস্যার মূলে রয়েছে — জুলাই সনদ তৈরি হওয়ার আগেই ড. ইউনূস নির্বাচনের আয়োজন শুরু করে দেন।

এতে প্রশ্ন উঠেছে, যখন সরকার নিজেই সাংবিধানিক বৈধতার ঘাটতিতে ভুগছে, তখন সেই সরকারের অধীনে নির্বাচন কীভাবে জনগণের আস্থা অর্জন করবে?

আন্দোলনরত দলগুলো মনে করছে, বৈধতা অর্জনের পূর্বশর্ত হচ্ছে জুলাই সনদ।

এক্ষেত্রে বৈধতা প্রতিষ্ঠার আগে নির্বাচনের আয়োজন যেন এক ধরনের “ ঘোড়ার আগে গাড়ি কেনার” পরিস্থিতি তৈরি করছে।

৪. নতুন ধরণের আন্দোলনের চরিত্র :

এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কেবল সরকারের পতন নয়, বরং ড. ইউনূস সরকারের বৈধতা অর্জনের পূর্বশর্ত পূরণে চাপ প্রয়োগ।

আন্দোলনকারীরা বলছেন, বৈধতা ছাড়া সরকার যেমন টেকসই নয়, তেমনি নির্বাচনের ফলাফলও গ্রহণযোগ্য নয়।

এর ফলে আন্দোলনটি কেবল রাজনৈতিক বিরোধিতার রূপে সীমাবদ্ধ না থেকে রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রশ্নে বৈধতার লড়াইয়ে রূপ নিয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন ধরণের আন্দোলনের সূচনা, যেখানে ক্ষমতার প্রশ্নের চেয়ে বৈধতার প্রশ্ন বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

৫. বিশ্লেষণ :

(১). ড. ইউনূসের সংকট দ্বিমুখী: একদিকে গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় এলেও তার সরকার সাংবিধানিক ভিত্তি থেকে বঞ্চিত; অন্যদিকে নির্বাচন আয়োজনের তাড়াহুড়ো তার অবস্থানকে আরো প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

(২). জুলাই সনদের গুরুত্ব: এটি শুধু একটি রাজনৈতিক ঘোষণা নয়, বরং অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য গণতান্ত্রিক বৈধতার একমাত্র পথনির্দেশিকা। সুতরাং এর বাস্তবায়ন ছাড়া কোনো কার্যক্রমই টেকসই নয়।

(৩). আন্দোলনের নৈতিক শক্তি: আন্দোলনকারীরা সরাসরি কোনো দলীয় স্বার্থ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় বৈধতার দাবি তুলে ধরছে— যা আন্দোলনকে নৈতিকভাবে অধিক গ্রহণযোগ্য করছে।

৬. উপসংহার :

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বৈধতা-প্রশ্ন এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকারের ভবিষ্যৎ মূলত নির্ভর করছে জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নের ওপর। পর্যবেক্ষকমহলের মতে, যদি সরকার এই পথ এড়িয়ে নির্বাচন আয়োজন করে, তবে তা নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি করবে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল অন্তর্বর্তী সরকারের নয়, বরং পুরো গণ-অভ্যুত্থানের বৈধতা প্রতিষ্ঠার পথ প্রশস্ত করবে।

তাই স্পষ্টতই বলা যায়, ড. মুহম্মদ ইউনূসের বৈধতা রক্ষাই যেন এই নতুন ধরণের আন্দোলনের প্রাণশক্তি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]