বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
বাংলাদেশের জনপ্রিয় টিভি চ্যানেল একুশে টিভি’র ২৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা In Reverence and Remembrance ‘Abdul Hye—Professor M A Barnik সুপ্রিয় আবদুল হাইকে হারালাম—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক নোয়াখালী-১ আসনে ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের বিজয়ে সুশীল ফোরামের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন রাজউক কর্মকর্তা গ্রেফতার: নারী সাংবাদিক হেনস্তা ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে মামলা মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের স্টেক হোল্ডার বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত মাগুরায় জামায়াতের উদ্যোগে গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠিত Without Classrooms, Education Remains Incomplete* *—-Professor M A Barnik

নবীনগরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ পোল্ট্রি খামারে গড়ছেন সফলতার দৃষ্টান্ত

সংবাদদাতা / ১১৪ বার ভিউ
সময়ঃ বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন

ইব্রাহীম খলিল,

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি:

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার জিনোদপুর ইউনিয়নের কড়ইবাড়ী গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা মো. আব্দুল্লাহ। অল্প পুঁজি আর বড় স্বপ্ন নিয়ে শুরু করা তাঁর ছোট উদ্যোগ আজ পরিণত হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মুরগির একটি বড় পোল্ট্রি খামারে। তাঁর এই উদ্যোগ এখন এলাকার অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

২০১৬ সালে মাত্র ৪০ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি পোল্ট্রি খামারের যাত্রা শুরু করেন। শুরুতে ছিল মাত্র এক হাজার ব্রয়লার মুরগি। খামারের শুরু থেকেই পাশে ছিলেন তাঁর বাবা মো. সাকির হোসেন। পরিবারের সহযোগিতা ও নিজের পরিশ্রমে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন আব্দুল্লাহ। শুরুর ছোট খামারটি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় হতে থাকে। ২০১৮ সালে ১২০০ বর্গফুটের একটি নতুন ব্রয়লার শেড নির্মাণ করা হয়। পরে আরও দুটি শেড তৈরি করা হয়, যেখানে প্রায় ২৪০০টি করে মুরগি পালনের ব্যবস্থা করা হয়।

২০২৫ সালে খামারের নাম আনুষ্ঠানিকভাবে রাখা হয় “Abdullah Agro & Poultry Farm”। একই বছরের আগস্ট মাসে নতুন করে দুই তলা বিশিষ্ট প্রায় ৬৫০০ বর্গফুটের একটি শেড চালু করা হয়। বর্তমানে খামারটিতে প্রায় ১০ হাজার মুরগি পালনের সক্ষমতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে এটি কড়ইবাড়ী এলাকার অন্যতম বড় পোল্ট্রি খামার হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

শুধু উদ্যোক্তা নন, আব্দুল্লাহ একজন মাদ্রাসার শিক্ষার্থীও। তিনি ২০২৫ সালে ইব্রাহিমপুর শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ ফাজিল মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেছেন। বর্তমানে ফাজিল (স্নাতক) শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি খামার পরিচালনা করে নিজের স্বপ্নকে এগিয়ে নিচ্ছেন তিনি।

উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ বলেন, নিয়ম মেনে খামার পরিচালনা করলে পোল্ট্রি খামার থেকেও ভালো আয় করা সম্ভব। বর্তমানে তাঁর খামার থেকে বছরে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ হচ্ছে। তবে তিনি জানান, খামার পরিচালনায় সরকারি কোনো ওষুধপত্র বা সরাসরি সহায়তা পান না। মুরগির প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কোম্পানি থেকেই কিনতে হয়, যা অনেক সময় ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে। সরকারি সহযোগিতা পেলে খামার পরিচালনা আরও সহজ হতো এবং উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতো।

আব্দুল্লাহর বাবা মো. সাকির হোসেন বলেন, “শুরুতে সবকিছুই ছোট ছিল। ধৈর্য আর পরিশ্রমের কারণে খামারটি আজ এই অবস্থানে এসেছে। ছেলের এই উদ্যোগে আমি গর্বিত।”

ইব্রাহিমপুর সুফিয়াবাদ শাহ সূফি সাইয়্যেদ আজমত উল্লাহ (রহঃ) ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মুফতি মো. এনামুল হক কুতুবী বলেন, “মো. আব্দুল্লাহ আমাদের প্রতিষ্ঠানের একজন পরিশ্রমী শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি উদ্যোক্তা হিসেবে তার এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।”

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তরুণ উদ্যোক্তারা পোল্ট্রি খামারে এগিয়ে এলে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মাংসের উৎপাদনও বাড়বে। আমরা নিয়মিতভাবে খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। সরকারি প্রকল্পের মাধ্যমে খামারিদের সহায়তা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]