রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
War or Peace : The Entire World Looks to the Face of a Field Marshal* *—-Professor M A Barnik মাগুরায় সেলুনে আগে চুল কাটানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে! আহত-৬ *যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা… মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের মধ্যদিয়ে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্নখতম —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৩৫ বার ভিউ
সময়ঃ রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন

১. নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের স্বপ্ন হারিয়ে গেল:
বাংলাদেশের রাজনীতির আকাশে মেঘের রঙ বদলেছে, কিন্তু বৃষ্টির নাম এখনো পুরনো সুরেই বাজে। গণ–অভ্যুত্থানের ঝড়ে শেখ পরিবারের দুর্ভেদ্য দুর্গে ফাটল ধরেছিল—জনতা ভেবেছিল, হয়তো এবার ইতিহাস নতুন প্রভাতের দিকে হাঁটে। কিন্তু এক বছর পার হতেই বোঝা গেল, রাতের অন্ধকার কেটে গেলেও ভোরের সূর্য এখনো কুয়াশায় ঢাকা।

আজ প্রশ্ন উঠেছে—এ নির্বাচন কি এমপি হওয়ার প্রতিযোগিতা, নাকি নতুন বাংলাদেশ রচনার মহাযজ্ঞ? কিন্তু এই প্রশ্নের কোনো উত্তর নেই কোনো ঘোষণায়, নেই কোনো ইশতেহারে, নেই রাজনৈতিক দল, নির্বাচন কমিশন কিংবা অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনৈতিক মানচিত্রে। যেন সবাই পথ হাঁটছেন, কিন্তু গন্তব্যহীন।

২. গণ–অভ্যুত্থানের চেতনা বিদ্যুতের ঝলকের মতোই বিলীন :

গণ–অভ্যুত্থান ছিল গ্রীষ্মের বজ্রপাত—ক্ষণিক, তীব্র, দগদগে। মুহূর্তের আলোকচ্ছটায় দৃশ্যমান হয়েছিল জনতার রক্ত-ঘামে ভেজা আকাঙ্ক্ষা—একটি নতুন রাষ্ট্র, নতুন রাজনৈতিক ভাষা, নতুন সামাজিক চুক্তি। মানুষের কণ্ঠে ছিল আশা, চোখে ছিল বিপ্লবের আগুন।

কিন্তু সেই আগুন আজ নিভু নিভু বাতির মতো; এর আলো আছে, তাপ নেই। অভ্যুত্থানের রাজনৈতিক চেতনা একটি ডানা মেলা পাখি হলেও, তাকে আকাশে উড়ানোর রানওয়ে তৈরি হয়নি। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন এখনো স্লোগানের দেয়ালে বন্দি—রাজনীতির দরবারে তার প্রবেশাধিকার মেলেনি।

৩. নির্বাচন শুধুই ক্ষমতা বদলের খেলা :

নির্বাচন কমিশনের ক্যালেন্ডারে দিন আছে, কিন্তু দৃষ্টিতে দিশা নেই। দলগুলোর বক্তব্যে কৌশল আছে, কিন্তু আদর্শ নেই। অন্তর্বর্তী সরকারের উচ্চারণে আশ্বাস আছে, কিন্তু রোডম্যাপ নেই।

ফলে যা হচ্ছে, তা যেন রূপকথার মঞ্চ—রাজা পাল্টাচ্ছে, রাজ্য নয়; মুকুট বদলাচ্ছে, নীতি নয়। জনগণ দাঁড়িয়ে আছে সেই মঞ্চের সামনে, মেকি আলোর রঙ্গমালা দেখছে, কিন্তু দিন বদলের সূর্য দেখছে না।

৪. নতুন বাংলাদেশ গড়ার ইশতেহার বাস্তবায়নের পথ বন্ধ :

জাতীয় নাগরিক কমিটি নতুন বাংলাদেশের ইশতেহার পাঠ করেছিল—কণ্ঠে দৃঢ়তা, শব্দে উত্তাপ, বাক্যে ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। জাতি শুনেছিল মনোযোগ দিয়ে, যেন কবির কণ্ঠে জাতীয় মহাকাব্য পাঠ হচ্ছে।

কিন্তু শব্দের স্রোত থেমে গেল, যাত্রা শুরু হলো না। ইশতেহার যেন শীতের ভোরের কাগজের নৌকা—দূর থেকে সুন্দর, কিন্তু পানিতে নামলেই ভিজে বিস্মৃত হয়ে যায়।

পরিকল্পনার মানচিত্র নেই, কর্মসূচির পদচিহ্ন নেই, রাজনৈতিক মাঠে দৃশ্যমান রোডম্যাপ নেই। ফলে “নতুন বাংলাদেশ” এখনো শ্লোগানের গহ্বরে আটকে থাকা এক স্বপ্নকথা।

৫. আধিপত্যের শিকল ভাঙলেও দরজা বন্ধ :

শেখ পরিবারের দীর্ঘ প্রভাবের সূর্য অস্তমিত—এ এক ঐতিহাসিক সত্য। কিন্তু জাতি যখন ভেবেছিল “এক পরিবারের যুগ” শেষ হলো, তখন দেখা গেল আরেক পরিবারের রাজনৈতিক ছায়া আরও দীর্ঘ হচ্ছে।

বাংলাদেশের রাজনীতি যেন সেই নদী—গতি আছে, কিন্তু স্রোতের দিক বদলায় না। নৌকার মাঝি বদলায়, কিন্তু গন্তব্যের ঘাট বদলায় না। জনগণ তাই হতাশ—কারণ তারা চেয়েছিল মাথার উপর থাকা ছাউনির বদলে আকাশ, কিন্তু পেল কেবল ছাদ বদলানোর নাটক।

৬. জাতির আশা আহত :

গণ–অভ্যুত্থানের এক বছর পর জাতির হৃদয়ে প্রত্যাশার ক্ষত এখন স্পষ্ট। মানুষ দেখছে:

চেতনা জন্মেছে, কাঠামো জন্মায়নি

স্বপ্ন বলা হয়েছে, পথ দেখানো হয়নি

পরিবর্তন শোনা গেছে, কিন্তু দেখা যায়নি

আধিপত্য সরেছে, বিকল্প প্রতিষ্ঠা পায়নি

জাতি এখন দাঁড়িয়ে আছে হতাশার বারান্দায়, কিন্তু হাত ছড়ানো আশা এখনো আকাশের দিকে—যদি সত্যিকারের ভোর আসে, যদি সত্যিকারের রাজনৈতিক নবজন্ম ঘটে।

৭. “নতুন বাংলাদেশ” শুধুই কথার কথা :

বাংলাদেশের বর্তমান রাজনীতি এক অসমাপ্ত উপন্যাস—যার প্লট বদলানোর কথা ছিল, কিন্তু কেবল চরিত্র বদলায়। গল্পের নায়ক পরিবর্তিত, কিন্তু গল্পের ভাগ্য আগের মতোই পূর্বনির্ধারিত।

নতুন বাংলাদেশের প্রশ্ন এখন তাই আর আবেগের নয়—এটি রাজনৈতিক প্রযুক্তির, সংগঠিত নেতৃত্বের ও দৃশ্যমান কর্মপরিকল্পনার। স্লোগান দিয়ে রাষ্ট্র গড়া যায় না, ইশতেহার পড়ে দেশ বদলানো যায় না, এবং অভ্যুত্থানের উত্তাপ কর্মসূচিতে রূপ না নিলে ইতিহাস স্মৃতিফলকের বেশি কিছু হয় না।

জাতি আর কবিতা শুনতে চায় না, বাস্তবতা দেখতে চায়।
স্বপ্ন আর পড়তে চায় না, বাস্তবায়ন দেখতে চায়।
বিপ্লব আবার চাইছে না, বিপ্লবের ফল চায়।

কারণ বাংলাদেশ এবার আর শুধু নির্বাচন চায় না—
চায় নতুন দিশার জন্ম,
চায় নতুন রাষ্ট্রচুক্তির বাস্তবতা,
চায় সত্যিকারের রাজনৈতিক রূপান্তর।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]

*যুদ্ধ-না-শান্তি : এক ফিল্ড মার্শালের মুখের দিকে তাকিয়ে আছে সারাবিশ্ব* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* *১. অস্থিরতার প্রেক্ষাপট— এক অগ্নিগোলকের পৃথিবী*: সময়ের এই অধ্যায়ে পৃথিবী যেন আগ্নেয়গিরির কিনারায় দাঁড়িয়ে— যেখানে প্রতিটি রাষ্ট্র, প্রতিটি জোট, প্রতিটি সিদ্ধান্ত একটি সম্ভাব্য বিস্ফোরণের পূর্বাভাস বহন করছে। যুক্তরাষ্ট্র-এর কৌশলগত আধিপত্য, ইসরায়েল-এর নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক অবস্থান, ইরান-এর প্রতিরোধী মনোভাব— সব মিলিয়ে বিশ্ব এখন এক জটিল দ্বন্দ্বের গোলকধাঁধায় বন্দি। এই অস্থির সময়েই বিশ্বমানবতার দৃষ্টি গিয়ে থামে এক ব্যক্তির উপর— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। *২. একজন মানুষের উত্থান*: সেনাপ্রধান থেকে বৈশ্বিক মধ্যস্থতাকারী ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির— নামটি এখন শুধু একটি দেশের সামরিক নেতৃত্বের প্রতীক নয়, বরং একটি সম্ভাব্য বৈশ্বিক সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু। পাকিস্তান-এর সেনাপ্রধান হয়েও তিনি নিজেকে সীমাবদ্ধ রাখেননি। তিনি হয়ে উঠেছেন এক অদৃশ্য সেতু— যেখানে বিরোধী শক্তিগুলো অন্তত কথোপকথনের টেবিলে বসতে রাজি হয়। *৩. ব্যর্থতার ভেতর সম্ভাবনার বীজ*: গত ১১–১২ এপ্রিলের শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে— এটি নিঃসন্দেহে বাস্তবতা। কিন্তু এই ব্যর্থতা কি শেষ? নাকি এটি একটি বৃহত্তর সফলতার প্রস্তুতি? বিশ্লেষণ বলছে— এই প্রথম দফার আলোচনা ছিল অবস্থান যাচাইয়ের মঞ্চ। যুক্তরাষ্ট্র তার সীমা দেখিয়েছে, ইরান তার শর্ত স্পষ্ট করেছে, ইসরায়েল তার নিরাপত্তা-রেখা টেনে দিয়েছে। আর এই সবকিছুই ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির-এর জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ কৌশল তৈরির উপাদান হয়ে উঠেছে। *৪. কূটনৈতিক কৌশল– যুক্তির ছুরিতে শর্তের অবসান* তার সবচেয়ে বড় শক্তি— তিনি চাপ প্রয়োগ করেন না, তিনি পরিস্থিতিকে এমনভাবে সাজান, যাতে প্রতিপক্ষ নিজের অবস্থান থেকেই নরম হতে বাধ্য হয়। ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য— এই ইউরোপীয় শক্তিগুলোর সাথে তার সমঝোতা তৈরি করছে একটি সমর্থন কাঠামো। অন্যদিকে চীন ও রাশিয়া— তাদের সাথে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক তাকে দিয়েছে কৌশলগত গভীরতা। এই বহুমাত্রিক কূটনীতি তার প্রচেষ্টাকে করেছে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর। ৫. সম্ভাবনার দিগন্ত: কেন সফল হতে পারেন? এখানেই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন— ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির কি সত্যিই সফল হতে পারেন? বিশ্লেষণে কয়েকটি কারণ স্পষ্ট হয়ে ওঠে— (১) *নিরপেক্ষতার সুবিধা*: পাকিস্তান সরাসরি এই সংঘাতের মূল পক্ষ নয়, তাই তার মধ্যস্থতা তুলনামূলকভাবে গ্রহণযোগ্য। (২) *বহুমুখী সম্পর্ক*: পূর্ব ও পশ্চিম—দুই ব্লকের সাথেই যোগাযোগ রক্ষা করার সক্ষমতা তাকে একটি অনন্য অবস্থানে দাঁড় করিয়েছে। (৩) *সামরিক ও কূটনৈতিক ভারসাম্য*: তিনি শুধু কূটনীতিক নন, একজন সামরিক কৌশলবিদও— যা তাকে বাস্তবতার মাটিতে দাঁড়িয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। (৪) *ব্যর্থতা থেকে শেখার সক্ষমতা*: প্রথম দফার ব্যর্থতা তাকে দুর্বল করেনি, বরং আরও প্রস্তুত করেছে। *৬. ঝুঁকি ও সীমাবদ্ধতা*: পথ এত সহজ নয়; তবে বাস্তবতা কঠিন— যুক্তরাষ্ট্র তার বৈশ্বিক প্রভাব ছাড়তে চাইবে না, ইরান নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ছাড়া আপস করবে না, ইসরায়েল অস্তিত্বের প্রশ্নে আপসহীন। এই ত্রিমুখী জটিলতা যেকোনো উদ্যোগকেই ব্যর্থ করে দিতে পারে। *৭. বিশ্বমানবতার প্রত্যাশা ও শেষ আশ্রয়* আজ পৃথিবী এক অদ্ভুত বাস্তবতায় দাঁড়িয়ে— যেখানে একটি মানুষের প্রচেষ্টাকে “শেষ আশার আলো” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির সফল হলে— একটি নতুন শান্তির অধ্যায় শুরু হতে পারে। ব্যর্থ হলে— পারমাণবিক সংঘাতের সম্ভাবনা আর কল্পনা থাকবে না, তা হয়ে উঠতে পারে নির্মম বাস্তবতা। *৮. বিশ্ববর্বতার ধ্বংসস্তুপে একটি মানুষ দাঁড়িয়ে* ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন প্রশ্নগুলো সবসময় সহজ মানুষের কাছে আসে না— এসে পড়ে সেই মানুষের কাঁধে, যিনি তা বহন করতে সক্ষম। ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এখন সেই অবস্থানে— যেখানে তার প্রতিটি পদক্ষেপ মানবতার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই আজ যেন পৃথিবী অপেক্ষা করছে, পারমাণবিক অস্ত্রের বীভিষিকায় কী সব ধ্বংস হয়ে যাবে, নাকি পৃথিবী শান্তির পথে হাঁটবে? শান্তি অন্বেষার সেই প্রশ্নের সমাধানে ভার নিজের কাঁধে নিয়ে সাঁতারি যাচ্ছেন, বিপদগ্রস্ত মানুষের এক ত্রাণকর্তা, ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির। শান্তির নিশান তাঁর হাতেই হয়তো পতপত করে উড়ার অপেক্ষায় আছে, আর অপেক্ষায় আছে বিশ্বের তাবৎ প্রাণীকুল ও মানবতা…