শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের সমৃদ্ধ – মাগুরায় কৃতি শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নূরুল ইসলাম সাদ্দাম Macca Defence Pact: A Severe Setback to India’s Strategic Calculations* *— Professor MA Barnik *মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি : ভারতের স্ট্র্যাটেজিক হিসাব-নিকাশে বড় ধরনের ধাক্কা— অধ্যাপক এম এ বার্ণিক মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন

অতিরিক্ত নিরাপত্তা কি তারেক রহমানকে জনবিচ্ছিন্ন করছে-না* —অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৯১ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৯:৪৭ অপরাহ্ন

*১. দেশে ফিরেই কঠোর নিরাপত্তা-বেষ্টনিতে তারেক রহমান* :
বাংলাদেশের রাজনীতিতে নেতৃত্ব কেবল নীতিনির্ধারণ বা কৌশলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি জনগণের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ, আবেগ ও আস্থার এক জীবন্ত সম্পর্ক। এই বাস্তবতায় অতিমাত্রায় প্রোটোকল ও কঠোর নিরাপত্তা-বেষ্টনি কোনো নেতাকে সাময়িকভাবে সুরক্ষা দিলেও দীর্ঘমেয়াদে তাকে জনমানুষ থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করে। তারেক রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান ও ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নে এই বিষয়টি ক্রমেই আলোচনায় আসছে।
*২.নেতৃত্বের শক্তি ও জনগণের নৈকট্য* :
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শেখ মুজিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান কিংবা মওলানা ভাসানীর মতো নেতাদের জনপ্রিয়তার মূল উৎস ছিল জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। জনসভা, পথসভা, হাট-বাজার—এসব জায়গায় তাদের উপস্থিতি সাধারণ মানুষের মনে আস্থা ও ঘনিষ্ঠতার অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল। এর বিপরীতে, কোনো নেতা যদি প্রোটোকলের কাচের দেয়ালে বন্দী হয়ে পড়েন, তবে তার রাজনৈতিক বার্তা জনতার হৃদয়ে পৌঁছাতে ব্যর্থ হতে পারে।
*৩. সুরক্ষা না দূরত্বের দেয়াল* :
নিরাপত্তা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ—বিশেষত বাংলাদেশের মতো রাজনৈতিকভাবে উত্তপ্ত বাস্তবতায়। কিন্তু যখন নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিমাত্রায় দৃশ্যমান ও কঠোর হয়ে ওঠে, তখন তা নেতার চারপাশে এক ধরনের অদৃশ্য দূরত্ব তৈরি করে। জনগণের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা, হাত মেলানো বা অনানুষ্ঠানিকভাবে উপস্থিত হওয়া যদি অসম্ভব হয়ে পড়ে, তবে নেতার প্রতি মানুষের আগ্রহ ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
*৪. তারেক রহমানের ক্ষেত্রে সম্ভাব্য প্রভাব* :
তারেক রহমানের রাজনীতি আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে, যেখানে তার নেতৃত্বের গ্রহণযোগ্যতা অনেকাংশে নির্ভর করবে মাঠপর্যায়ে জনগণের সঙ্গে তার যোগাযোগের গভীরতার ওপর। যদি তিনি অতিরিক্ত প্রোটোকল ও নিরাপত্তার কারণে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে থেকে যান, তবে বিরোধীরা সহজেই তাকে “দূরবর্তী” বা “এলিট-কেন্দ্রিক” নেতা হিসেবে চিত্রিত করার সুযোগ পাবে। এতে করে দলীয় কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যেও একধরনের মনস্তাত্ত্বিক দূরত্ব সৃষ্টি হতে পারে।
*৫. শুরুতেই ভারসাম্য বিনষ্ট* :
এক্ষেত্রে প্রয়োজন একটি ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি—যেখানে নিরাপত্তা থাকবে, কিন্তু তা নেতার মানবিক ও সহজলভ্য ভাবমূর্তিকে ঢেকে দেবে না। সীমিত প্রোটোকল, নিয়ন্ত্রিত কিন্তু উন্মুক্ত জনসংযোগ এবং প্রতীকীভাবে হলেও মাঠপর্যায়ে উপস্থিতি তারেক রহমানকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে যেতে পারে।
*৬. জনবিচ্ছিন্নতা কাম্য নয়* :
রাজনীতিতে প্রোটোকল ও নিরাপত্তা একটি প্রয়োজনীয় বাস্তবতা, কিন্তু তা যদি নেতৃত্বের মূল শক্তি—জনগণের সঙ্গে সংযোগ—কে ক্ষুণ্ন করে, তবে সেটি আত্মঘাতী হয়ে উঠতে পারে। তারেক রহমানের জন্য সময়ের দাবি হলো নিরাপত্তা ও জনসম্পৃক্ততার মধ্যে সূক্ষ্ম ভারসাম্য রক্ষা করা। নইলে অতিমাত্রায় প্রোটোকলই তাকে ধীরে ধীরে এক জনবিচ্ছিন্ন নেতায় পরিণত করতে পারে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]