শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে পাম্পে ড্রামে তেল দেওয়ার ভিডিও ধারণ,সাংবাদিককে মারধর করলো পুলিশ! উক্ত পুলিশ ক্লোজ! *ফিল্ড মার্শালের ইটে-ইটে গড়া শান্তির দেয়াল* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় জেলা পর্যায়ে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলার উদ্বোধন মাগুরার খামারপাড়া এস এ আই সিনিয়র মাদ্রাসায় বিদায় সংর্বধণা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মাগুরায় সুমন হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন! বিস্তারিত জানালেন পুলিশ সুপার মাগুরায় লক্ষাধিক শিশুকে হাম রুবেলার টিকা দেয়া হবে ইরানে ট্রাম্পের নৌ-অবরোধের ব্যর্থতা ও ইসলামাবাদে নতুন কূটনৈতিক অধ্যায়* *—-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* মাগুরায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন মাগুরার শ্রীপুরে জামায়াতে ইসলামীর দিন ব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আলোচনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ এর স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম

সংবাদদাতা / ৩৪ বার ভিউ
সময়ঃ শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:০১ অপরাহ্ন

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বিএনপির সদ্য বহিষ্কৃত জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম। মূলত এই অভিযোগেই তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। একই অভিযোগে একই আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়ে বহিষ্কার হয়েছেন বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির আরেক সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন।

তবে দল থেকে বহিষ্কারের পর স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় নির্বাচন কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত আচরণবিধি বেপরোয়াভাবে লঙ্ঘন করে চলছেন মোহাম্মদ শাহ আলম ও তার সমর্থকরা—এমন অভিযোগ উঠেছে।

গতকাল শুক্রবার নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমের বিরুদ্ধে সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফতুল্লার আলিগঞ্জ এলাকায় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, প্রায় ২০ থেকে ২৫টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে বিশাল নির্বাচনী শোডাউন করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলম। এ সময় তার পাশে কুতুবপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আকবরকে দেখা যায়। প্রতীক বরাদ্দের আগে যেকোনো ধরনের প্রচারণা নিষিদ্ধ থাকলেও এমন শোডাউন সরাসরি নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তারা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও নির্বাচন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করা আলিগঞ্জ এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা জনৈক গার্মেন্টস কর্মী বলেন,“নির্বাচনের আগেই যে অবস্থা দেখা যাচ্ছে, বডিগার্ড নিয়ে শাহ আলম সাব চলাচল করছে। তার সাথে থাকা মানুষজন সাধারণ মানুষের সাথে খারাপ ব্যবহার করছে। এমপি হলে তো আমরা সামনে যাইতে পারমুনা। এখনই পারি না। আমাদের ভাবনা এমন একজনকে ভোট দিয়ে এমপি বানাবো, যার সাথে একজন ভিক্ষুকও যেন সহজে সরাসরি দেখা করে কথা বলতে পারে।”

উল্লেখ্য, মোহাম্মদ শাহ আলম ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর গত ২৩ জুলাই ২০২৫ তারিখে ফতুল্লার সোনালী সংসদ মাঠে অনুষ্ঠিত একটি কর্মসূচিতে তার একজন সমর্থক নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও ফতুল্লা থানা বিএনপির নেতা লুৎফর রহমান খোকা মঞ্চে দাঁড়িয়ে মাইকে হুমকি দিয়ে বলেন, মোহাম্মদ শাহ আলমকে বিএনপির মনোনয়ন দেওয়া না হলে তারা বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে ঘেরাও করবেন, বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানকে ঘেরাও করবেন, এমনকি বিএনপির তৎকালীন চেয়ারপার্সন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও ঘেরাও করার ঘোষণা দেন। উপস্থিত মোহাম্মদ শাহ আলমের সমর্থকদের কেউই দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি এ ধরনের অসম্মানজনক ও অসৌজন্যমূলক বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেননি। যদিও পরবর্তীতে দল এই অপরাধের দায়ে লুৎফর রহমান খোকাকে বহিষ্কার করে।

এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের প্রার্থী জেলা জমিয়েত উলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মনির হোসেন কাসেমী, স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও সদ্য বহিষ্কৃত বীর মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ গিয়াসউদ্দিন এবং বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলীসহ অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এলাকায় দোয়া ও সমর্থন চেয়ে পোস্ট করতে দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি ও ইন্তেকালের পর তার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় মিলাদ মাহফিল আয়োজন ও সেগুলোর প্রচারও করা হচ্ছে। অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমের সমর্থকদের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অন্যান্য প্রার্থীদের অসম্মান ও হেয় করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য ও উস্কানিমূলক স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ ভোটাররা এ ধরনের আচরণকে নিন্দনীয় ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলে মন্তব্য করে প্রার্থী মোহাম্মদ শাহ আলমের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তার সমর্থকদের উস্কানিমূলক আচরণ থেকে বিরত রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

বিএনপির একটি সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক মামলা, জেল-জুলুম ও নির্যাতন চলাকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির তৎকালীন যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন মোহাম্মদ শাহ আলম এবং রাজনীতি থেকে দূরে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন। তবে ৫ আগস্টের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পুনরায় নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশায় সক্রিয় হন তিনি। এ সময় ফতুল্লার বিভিন্ন স্থানে তার ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো শুরু হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]