বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
১. জুলাই বিপ্লবের প্রত্যাশা ভ্রান্ত পথে পরিচালিত :
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব বাংলাদেশের ইতিহাসে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছিল। শহিদদের রক্ত, তরুণদের আত্মত্যাগ আর জনগণের প্রত্যাশা ছিল—একটি নতুন রাষ্ট্রকাঠামো, নতুন সংবিধান, এবং সত্যিকার অর্থে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর। কিন্তু বাস্তবে যা ঘটল তা হলো—নোবেল বিজয়ী ড. মুহম্মদ ইউনূস, যিনি বিপ্লবের নেতাদের আস্থায় ক্ষমতার দায়িত্ব নিয়েছিলেন, সেই প্রত্যাশাকে বারবার ভ্রান্ত পথে পরিচালিত করলেন।
২. জুয়লাই সনদের মূলা :
বিপ্লব-পরবর্তী মুহূর্তে ড. ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন–
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন,
Constituent Assembly নির্বাচন,
এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রকাঠামো পুনর্গঠন।
কিন্তু অচিরেই তিনি সেই পথ থেকে সরে গিয়ে “জাতীয় ঐকমত্য কমিশন” নামের এক অকার্যকর কাঠামো গড়ে তোলেন। উদ্দেশ্য ছিল দেখানো—রাষ্ট্রকাঠামো সংস্কারের কাজ চলছে। বাস্তবে এই কমিশন হয়ে দাঁড়াল এক ঠুটোঁ জগন্নাথ, যা মূলত সময়ক্ষেপণের হাতিয়ার ছাড়া কিছু নয়। এভাবে একটি বছর পেরিয়ে গেল, কিন্তু জনগণ পেল না কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি।
৩. লণ্ডন কেলেঙ্কারি —গোপন সমঝোতার কাহিনি :
বিপ্লবের চেতনা বাস্তবায়ন নয়, বরং রাজনৈতিক ক্ষমতার হিসাব-নিকাশই যেন প্রধান হয়ে উঠল। গোপনে লণ্ডনে গিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে রাজনৈতিক সমঝোতা করেন ড. ইউনূস।
ফলশ্রুতিতে আসে একটি যৌথ ঘোষণা,
অথচ পুরো জাতিকে অন্ধকারে রেখে এই ঘটনা ঘটে,
যা ইতিহাসে “লণ্ডন কেলেঙ্কারি” নামে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
এই কেলেঙ্কারির প্রকৃত লক্ষ্য ছিল ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর নির্বাচনকে যেকোনোভাবে নিশ্চিত করা। বিপ্লবের লক্ষ্য নয়, বরং ক্ষমতা ভাগাভাগির সমঝোতাই হয়ে দাঁড়াল মুখ্য বিষয়।
৪. সংলাপের নাটক — বিএনপিকেন্দ্রিক কৌশল:
লণ্ডন সমঝোতার ভিত্তিত সংলাপ শুরু হয়—
৩১ আগস্ট বিএনপি, জামায়াত ও এনপিপির সাথে আলোচনা,
২ সেপ্টেম্বর আরও সাতটি দলের সাথে বৈঠক,
এরপর ধাপে ধাপে সংলাপ চলতে থাকবে।
কিন্তু এ সংলাপ নিছক আনুষ্ঠানিকতার খেলা। বিএনপির ঘরানার বাইরে কোনো দলই এই ফাঁদে পা দেয়নি।
সংলাপে না আছে রাষ্ট্রকাঠামো পরিবর্তনের কথা,
না আছে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা,
বরং সবকিছু ঘুরপাক খাচ্ছে ফেব্রুয়ারির নির্বাচনী ছকের ভেতরেই।
৫. বিপ্লবের চেতনা ও শহিদদের রক্তর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা :
প্রশ্ন জাগে—ড. ইউনূস কি সত্যিই বিপ্লবের চেতনাকে ধারণ করছেন?
শহিদদের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে আজ যদি তিনি ফেব্রুয়ারির তড়িঘড়ি নির্বাচনের আয়োজন করেন,
তবে ইতিহাস বলবে—তিনি বিপ্লবের মূল লক্ষ্যকে কবর দিয়েছেন।
জুলাই বিপ্লব শুধু ক্ষমতার পালাবদলের জন্য হয়নি। এর লক্ষ্য ছিল শোষণমুক্ত নতুন বাংলাদেশ গড়া। কিন্তু ইউনূস-তারেকের লণ্ডন সমঝোতার মাধ্যমে সেই লক্ষ্য আজ আড়াল হয়ে যাচ্ছে।
৬. বিশ্বাসঘাতকতা :
ড. মুহম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে ফেব্রুয়ারির নির্বাচন এখন জাতির সামনে এক তামাশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিপ্লবের নেতাদের হাতে অর্পিত দায়িত্ব, জুলাই সনদের অঙ্গীকার, এবং শহিদদের রক্ত—সবকিছু বিসর্জন দিয়ে তিনি আন্তর্জাতিক চাপ ও দলীয় সমঝোতার ফাঁদে জড়িয়ে পড়েছেন।
লণ্ডন কেলেঙ্কারির ছায়ায় ফেব্রুয়ারির নির্বাচন যদি হয়, তবে তা ইতিহাসে গণতন্ত্রের নতুন ভোর নয়—বরং বিপ্লবের বিশ্বাসঘাতকতা হিসেবেই চিহ্নিত হবে।