শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

ইরানের হাতে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা: রাশিয়ার দাবিতে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন ভূমিকম্প—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ৭৯ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ন

রাশিয়ার পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, ইরানের হাতে ইতোমধ্যে ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার (Thermonuclear) বোমা রয়েছে। যদিও এ দাবির পক্ষে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো স্বাধীন যাচাই প্রকাশিত হয়নি, তথাপি এ ধরনের দাবি যদি সত্য হয়, তবে এটি একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পরিবর্তনগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।

অনেকেই মনে করেন, হাইড্রোজেন বোমা ও থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা দুটি আলাদা অস্ত্র। বাস্তবে তা নয়। হাইড্রোজেন বোমাই থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা। “Hydrogen Bomb” নামটি এসেছে এর জ্বালানি হিসেবে হাইড্রোজেনের আইসোটোপ ব্যবহারের কারণে, আর “Thermonuclear Bomb” নামটি এসেছে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রায় (Thermonuclear Fusion) শক্তি উৎপন্ন হওয়ার প্রক্রিয়া থেকে। অর্থাৎ দুটি নাম একই শ্রেণির অস্ত্রকে নির্দেশ করে।

এই অস্ত্রের ভয়াবহতা সাধারণ পারমাণবিক বোমার তুলনায় বহুগুণ বেশি। ১৯৪৫ সালে হিরোশিমায় নিক্ষিপ্ত পারমাণবিক বোমার শক্তি ছিল প্রায় ১৫ কিলোটন টিএনটি সমতুল্য। অন্যদিকে একটি আধুনিক থার্মোনিউক্লিয়ার বোমার ক্ষমতা শত শত কিলোটন থেকে কয়েক মেগাটন পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ একটি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা একটি শহর নয়, বরং একটি বৃহৎ মহানগর এবং তার আশপাশের বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করতে সক্ষম।

যদি রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী ইরানের হাতে সত্যিই ৩৫টি থার্মোনিউক্লিয়ার বোমা থেকে থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্য মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হবে। এতদিন অঞ্চলটিতে কৌশলগত পারমাণবিক শ্রেষ্ঠত্ব মূলত ইসরায়েলের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হতো। কিন্তু ইরান একই ধরনের সক্ষমতা অর্জন করলে পারস্পরিক প্রতিরোধ (Mutual Deterrence)-এর একটি নতুন বাস্তবতা তৈরি হতে পারে, যেখানে প্রত্যক্ষ যুদ্ধের পরিবর্তে উভয় পক্ষই সর্বাত্মক সংঘাত এড়িয়ে চলতে বাধ্য হতে পারে।

অন্যদিকে, এই দাবি সত্য হলে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো ও উপসাগরীয় মিত্রদের নিরাপত্তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গোয়েন্দা তৎপরতা, সামরিক উপস্থিতি এবং কূটনৈতিক সমীকরণ নতুনভাবে সাজানোর প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তাররোধ ব্যবস্থাও (Non-Proliferation Regime) অভূতপূর্ব চাপের মুখে পড়বে।

তবে এ কথাও মনে রাখা প্রয়োজন যে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কিত তথ্য অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক ও কৌশলগত বার্তা হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। কোনো রাষ্ট্র তার প্রতিপক্ষকে নিরুৎসাহিত করা, আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরি করা অথবা ভূরাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এমন দাবি প্রকাশ করতে পারে। ফলে রাশিয়ার এই তথ্যের চূড়ান্ত মূল্যায়ন নির্ভর করবে স্বাধীন আন্তর্জাতিক যাচাই, গোয়েন্দা তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণের ওপর।

রাশিয়ার এই দাবি সত্য হোক বা কৌশলগত বার্তা—উভয় ক্ষেত্রেই এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যের শক্তির ভারসাম্য এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ একটি ঘটনা। কারণ, একটি রাষ্ট্রের হাতে বহু থার্মোনিউক্লিয়ার অস্ত্র থাকার অর্থ কেবল নতুন একটি পারমাণবিক শক্তির আবির্ভাব নয়; বরং সমগ্র বিশ্ব নিরাপত্তা কাঠামোর পুনর্মূল্যায়নের সূচনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]