সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

শিরোনাম
খান জাহান আলী মাজারের দীঘিতে ৮ বছরের শিশুকে টেনে নিল কুমির পদ্মার বুকে রাতের রাজত্ব: নৌ-পুলিশ ও প্রশাসনের নাকের ডগায় ড্রেজার সিন্ডিকেটের তাণ্ডব, অস্ত্রধারীদের পাহারায় চলছে অবৈধ বালু লুট Sk Hasina’s Letter to UN: Alleged Admission of Genocide Responsibility* *—Professor M. A. Barnik জাতিসংঘের কাছে শেখ হসিনার পত্র: জুলাইয়ের রক্তাক্ত অধ্যায়ে দায় স্বীকারের ছায়া মাগুরায় পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে সাপের কামড়ে কৃষকের মৃত্যু আজ থেকে সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা শুরু পল্লবীতে শিশু ধর্ষণ ও হত্যা মামলা: সোহেল রানা ও স্ত্রী স্বপ্নার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু Omar Yaghi: The Muslim Nobel Laureate Turning Air into Water* *— Professor M. A. Barnik* ওমর ইয়াঘি: বাতাসকে পানিতে রূপান্তরকারী মুসলিম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* রাজধানির রূপনগরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে উপহার সামগ্রী বিতরণ করেন – ক্রীড়া মন্ত্রী আমিনুল হক

ওমর ইয়াঘি: বাতাসকে পানিতে রূপান্তরকারী মুসলিম নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

সংবাদদাতা / ৬৪ বার ভিউ
সময়ঃ সোমবার, ০১ জুন ২০২৬, ১০:৫৭ অপরাহ্ন

মরুভূমির বুকে সূর্য যেন আগুনের রাজদণ্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে বালুর ঢেউ, অথচ এক ফোঁটা পানির দেখা নেই। তৃষ্ণার্ত শিশুর চোখে তখন পানি শুধু একটি তরল পদার্থ নয়, বরং স্বপ্নের আরেক নাম।

সেই শিশুটির নাম ছিল Omar Yaghi।

শৈশবের দিনগুলোতে তিনি দেখেছেন পানির জন্য মানুষের দীর্ঘশ্বাস। দেখেছেন কূপের শুকিয়ে যাওয়া মুখ, নদীর কঙ্কালসার শরীর, আর তৃষ্ণার কাছে মানুষের অসহায় আত্মসমর্পণ। তখন হয়তো তিনি জানতেন না, একদিন তিনিই বাতাসের অদৃশ্য আঁচলে লুকিয়ে থাকা পানির কণাগুলোকে পৃথিবীর সামনে হাজির করবেন।

মানুষ সাধারণত আকাশের দিকে তাকিয়ে বৃষ্টির অপেক্ষা করে। কিন্তু ওমর ইয়াঘি যেন আকাশকে প্রশ্ন করেছিলেন—

“তুমি যদি বৃষ্টি না দাও, তবে তোমার বাতাস থেকেই কি আমি পানি নিয়ে আসতে পারি না?”

প্রশ্নটি ছিল দুঃসাহসিক, প্রায় অসম্ভবের সমার্থক। কিন্তু ইতিহাসে যারা নতুন অধ্যায় লেখেন, তারা অসম্ভবকে অভিধানের শব্দ হিসেবে নয়, চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখেন।

বছরের পর বছর গবেষণাগারে নির্ঘুম রাত কাটতে লাগল। রাসায়নিক যৌগের সঙ্গে যেন তাঁর এক অদৃশ্য সংলাপ শুরু হলো। অবশেষে তিনি তৈরি করলেন এমন এক বিস্ময়কর পদার্থ, যার নাম Metal-Organic Frameworks (MOFs)। এই পদার্থের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ছিদ্রগুলো যেন অদৃশ্য জেলের জাল, যা বাতাসে ভেসে বেড়ানো জলীয় বাষ্পকে ধরে রাখতে পারে।

বিজ্ঞান তখন কবিতার রূপ নিল।

বাতাস, যে এতদিন ছিল অধরা পথিক, তার বুকের ভেতর লুকিয়ে থাকা পানির কণাগুলো একে একে ধরা দিতে শুরু করল। সূর্যের মৃদু তাপে সেই বাষ্প ঘনীভূত হয়ে পরিণত হলো বিশুদ্ধ পানিতে।

এ যেন মরুভূমির বুকে হঠাৎ জন্ম নেওয়া এক অদৃশ্য ঝরনা।

বিশ্ব বিস্ময়ে তাকিয়ে রইল।

যেখানে মানুষ পানির জন্য মাটির গভীরে ড্রিল চালায়, সেখানে একজন বিজ্ঞানী বাতাসের বুকেই খুঁজে পেলেন পানির ভাণ্ডার। যেন প্রকৃতি বহুদিন ধরে এক গোপন ধন লুকিয়ে রেখেছিল, আর ওমর ইয়াঘি তার গুপ্তধনের মানচিত্র আবিষ্কার করলেন।

তারপর এল স্বীকৃতির দিন।

বিশ্বের সর্বোচ্চ বৈজ্ঞানিক সম্মান নোবেল পুরস্কার তাঁর হাতে এসে ধরা দিল। সেই মুহূর্তে মনে হলো, মরুভূমির তৃষ্ণার্ত শিশুটি যেন সময়ের সিঁড়ি বেয়ে উঠে এসে মানবতার মুকুটে একটি নতুন রত্ন বসিয়ে দিল।

নোবেল পদক তখন শুধু একটি ধাতব স্মারক ছিল না; সেটি ছিল কোটি মানুষের আশার প্রতীক।

আজ পৃথিবীর বহু অঞ্চল খরা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির সংকটে বিপর্যস্ত। নদীগুলো অনেক স্থানে বৃদ্ধ মানুষের মতো ক্লান্ত, হ্রদগুলো অসুস্থ শরীরের মতো শুকিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে ওমর ইয়াঘির আবিষ্কার যেন মানবসভ্যতার জন্য নতুন ভোরের বার্তা।

বাতাসকে আমরা এতদিন শুধু নিঃশ্বাস নেওয়ার মাধ্যম হিসেবে চিনতাম। তিনি প্রমাণ করলেন, বাতাস হতে পারে পানির আধারও।

তাঁর জীবন আমাদের শেখায়—স্বপ্ন যদি মানবকল্যাণের জন্য হয়, তবে তা মরুভূমির বালুকণার মধ্যেও নদীর জন্ম দিতে পারে। আর জ্ঞান যদি মানুষের সেবায় নিয়োজিত হয়, তবে বিজ্ঞান কেবল পরীক্ষাগারের দেয়ালে সীমাবদ্ধ থাকে না; তা হয়ে ওঠে তৃষ্ণার্ত পৃথিবীর হাতে তুলে দেওয়া এক পেয়ালা নির্মল পানি।

ওমর ইয়াঘির গল্প তাই কেবল একজন মুসলিম বিজ্ঞানীর সাফল্যের কাহিনি নয়। এটি মানবতার জয়গান, অধ্যবসায়ের মহাকাব্য এবং সেই চিরন্তন সত্যের প্রমাণ—

“যে মানুষ স্বপ্ন দেখে, সে আকাশের দিকে তাকায়; আর যে মানুষ বিশ্বাস করে, সে আকাশের বাতাস থেকেও পানি এনে দেয়।”


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]