শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন

শিরোনাম
মাগুরার শ্রীপুরে বিদ্যুতায়িত হয়ে এক যুবকের মৃত্যু, আহত আরো -২জন চাটমোহরে তেল-জেলিতে তৈরি হচ্ছিল নকল দুধ, ভ্রাম্যমাণ আদালতে কারাদণ্ড ও জরিমানা The Mecca Defence Pact: India’s Concerns, the Positions of Major Powers, and Bangladesh’s Potential Gains and Losses* *–Professor M. A. Barnik মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি: ভারতের উদ্বেগ, পরাশক্তিদের অবস্থান এবং বাংলাদেশের সম্ভাব্য লাভ-ক্ষতি* *—অধ্যাপক এম এ বার্ণিক* কেন্দ্রীয় যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি পলের রোগমুক্তিতে এস. আলম ইসরাৎ এর উদ্যোগে দোয়া আন্দালিব রহমান পার্থকে তথ্যমন্ত্রী করায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দকে মিষ্টিমুখ করালো বিজেপি ভাষা সৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়ে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা:) উদযাপন মাগুরায় ৭ ভুয়া সিআইডি সদস্য আটক, নারী অপহরণের চেষ্টা ব্যর্থ! Bangladesh: Emerging as a Key Strategic Nexus in the Defence Relations of India, China and the Middle East- Professor M. A. Barnik* বাংলাদেশ : ভারত-চীন-মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে পরিণত হচ্ছে* *–অধ্যাপক এম এ বার্ণিক*

ববি হাজ্জাজের বিতর্কিত মন্তব্যে ঢাবি ফুঁসে ওঠছে* —-অধ্যাপক এম এ বার্ণিক

সংবাদদাতা / ২০২ বার ভিউ
সময়ঃ শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০২:০৩ অপরাহ্ন

১. *ঢাবি-কে কোচিং সেন্টার অখ্যা দেয়ার পরিণাম*:

ঢাকার রাজনৈতিক ও শিক্ষাঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। একটি পডকাস্টে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-কে “কোচিং সেন্টার” আখ্যা দিয়ে এবং গবেষণার ক্ষেত্রে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি ও ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি-কে এগিয়ে উল্লেখ করে যে মন্তব্য করেন, তা ঘিরে ব্যাপক ক্ষোভ, প্রতিবাদ ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বক্তব্য প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও পরিস্থিতি এখনও শান্ত হয়নি; বরং ঈদুল আজহার ছুটির পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরও বড় আন্দোলন গড়ে ওঠার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২. *কী বলেছিলেন ববি হাজ্জাজ*:

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা কোচিং সেন্টার”। তার ভাষায়, একটি প্রকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ হলো নতুন জ্ঞান সৃষ্টি করা এবং সেই জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া। তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় মূলত “টিচিং ইউনিভার্সিটি” বা “কোচিং ইউনিভার্সিটি” হিসেবে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময় যে গবেষণাভিত্তিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ধারণা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি। তার দাবি, বর্তমানে নর্থ সাউথ ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় যে পরিমাণ গবেষণা করছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার “কানাকড়িও” করছে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক বিভাগ কেবল সনদ প্রদানেই সীমাবদ্ধ।

৩. *কেন এত ক্ষোভ*

সমালোচকদের মতে, এটি কেবল একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমালোচনা নয়; বরং বাংলাদেশের ইতিহাস, সংস্কৃতি, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রকে অবমূল্যায়ন করার শামিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ‘সাদা দল’ প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যকে “চরম অবমাননাকর”, “দায়িত্বজ্ঞানহীন” এবং “অজ্ঞতাপ্রসূত প্রলাপ” বলে অভিহিত করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলেছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অস্বীকার করার সুযোগ নেই এবং একজন মন্ত্রীর মুখে এমন মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়।

সাদা দলের বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ মানেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়”— এমন একটি প্রতিষ্ঠানকে কোচিং সেন্টারের সঙ্গে তুলনা করা জাতীয় ইতিহাস ও শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি অবমাননার সামিল।

৪. *শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া*:

বক্তব্য প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিভিন্ন শিক্ষার্থী সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

একটি প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে ববি হাজ্জাজকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে “অবাঞ্ছিত” ঘোষণা করা হয়েছে বলেও সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

ক্যাম্পাস সূত্রগুলো বলছে, ঈদের ছুটির কারণে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করলেও ছুটি শেষে হলে ও বিভাগগুলোতে ফিরে এলে বিষয়টি আরও সংগঠিত আন্দোলনের রূপ নিতে পারে। বিশেষ করে ছাত্ররাজনীতির বিভিন্ন ধারা, শিক্ষক সংগঠন এবং প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বড় ধরনের প্রতিবাদ কর্মসূচির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে।

৫. *বক্তব্য প্রত্যাহার ও নতুন বিতর্ক*:

ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে শুক্রবার রাতে ববি হাজ্জাজ নিজের বক্তব্য প্রত্যাহার করেন। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি বলেন, তার মন্তব্য নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি ও বিতর্ক তৈরি হয়েছে এবং তিনি বক্তব্যটি সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করছেন।

পরে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্যের “ভুল ব্যাখ্যা” করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মূলত উচ্চশিক্ষায় গবেষণার মান নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে হেয় করা উদ্দেশ্য ছিল না।

তবে সমালোচকদের প্রশ্ন হলো, যদি বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপিত হয়ে থাকে, তাহলে পডকাস্টে সরাসরি “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটা কোচিং সেন্টার” মন্তব্যটি কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে? এ কারণে বক্তব্য প্রত্যাহারের পরও বিতর্ক থামেনি।

৬. *গবেষণা বনাম ঐতিহ্যের বিতর্ক*:

এই ঘটনার পর নতুন করে একটি বিতর্ক সামনে এসেছে— বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল্যায়ন কি কেবল গবেষণার পরিমাণ দিয়ে হবে, নাকি তার ঐতিহাসিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অবদানও বিবেচনায় নিতে হবে?

ববি হাজ্জাজের বক্তব্যের সমর্থক কিছু মহল যুক্তি দিচ্ছে যে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার মান ও আন্তর্জাতিক র‌্যাঙ্কিং নিয়ে বাস্তব সমস্যার কথা তিনি তুলে ধরেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামে কেউ কেউ গবেষণা-সংকটের প্রশ্নকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা করছেন।

অন্যদিকে সমালোচকরা বলছেন, গবেষণার সীমাবদ্ধতা থাকলেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে “কোচিং সেন্টার” বলা কোনো গঠনমূলক সমালোচনা নয়; বরং এটি একটি অবমাননাকর রাজনৈতিক বক্তব্য। তাদের মতে, গবেষণা উন্নয়নের জন্য নীতিমালা, বাজেট ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের কথা বলা উচিত ছিল!

৮. *পর্যবেক্ষণে যা স্পষ্ট হচ্ছ* :
বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে কয়েকটি সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছে—

(১)শিক্ষক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে আরও আনুষ্ঠানিক নিন্দা ও অবস্থানপত্র আসতে পারে।
(২) শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে প্রতিবাদ সমাবেশ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি বাড়তে পারে।

(৩) প্রতিমন্ত্রীর প্রকাশ্য ক্ষমা চাওয়ার দাবি জোরালো হতে পারে।

(৪) বিষয়টি জাতীয় রাজনীতি ও উচ্চশিক্ষা নীতির বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

(৫) সরকার বা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

৯. *শিক্ষাঙ্গন থেকে রাজনীতি উত্তপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা*

ববি হাজ্জাজের বক্তব্য প্রত্যাহার বিতর্কের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানতে পারেনি। বরং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদা, গবেষণার মান, পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা এবং রাষ্ট্রের শিক্ষা-দর্শন— এসব প্রশ্নকে নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে। ঈদের ছুটির কারণে আপাতত পরিস্থিতি কিছুটা স্থির থাকলেও ক্যাম্পাসভিত্তিক প্রতিক্রিয়া ও শিক্ষাঙ্গনের ক্ষোভ বিবেচনায় নিলে ছুটির পর বিষয়টি আরও বড় রাজনৈতিক ও শিক্ষাগত বিতর্কে রূপ নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। শিক্ষাঙ্গন থেকে হঠাৎ রাজনীতি উত্তপ্ততর হওয়ার সম্ভাবনা স্পষ্ট হচ্ছ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


[prayer_time pt="on" sc="on"]